জেনেভায় আইএলও মহাপরিচালকের সঙ্গে শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর বৈঠক

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) মহাপরিচালক গিলবার্ট হোংবোর সঙ্গে বাংলাদেশের শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীছবি: শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সৌজন্যে

সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) মহাপরিচালক গিলবার্ট হোংবোর সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। বৈঠকে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে উদ্যোক্তা উন্নয়ন, দক্ষতা বাড়ানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের (এসএমই) বিকাশে আইএলওর সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়েছেন মন্ত্রী।

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই বৈঠকের কথা জানানো হয়েছে। আইএলও মহাপরিচালকের সঙ্গে মন্ত্রীর বৈঠকটিকে ‘সৌহার্দ্যপূর্ণ’ হিসেবে বর্ণনা করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে উভয় পক্ষ শ্রম অধিকার, সামাজিক ন্যায়বিচার, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও টেকসই শ্রম ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে একমত হয়েছে।

মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী আইএলও মহাপরিচালককে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন উল্লেখ করে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশের চলমান শ্রম খাত সংস্কার কার্যক্রম, ত্রিপক্ষীয় সামাজিক সংলাপ ও শ্রমিক কল্যাণে গৃহীত উদ্যোগগুলো সরেজমিনে পরিদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন মন্ত্রী। আইএলও মহাপরিচালক বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণের জন্য মন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান এবং সম্ভাব্য সফরের বিষয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সমন্বয় অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

আইএলও মহাপরিচালকের সঙ্গে বাংলাদেশের শ্রমমন্ত্রী শোভন কাজ, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং শ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় আইএলওর নেতৃত্ব ও অবদানের প্রশংসা করেন। তিনি গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও শ্রম অধিকারের প্রতি বাংলাদেশের সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন এবং জাতীয় আইন ও নীতিমালাকে আন্তর্জাতিক শ্রমমানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার চলমান উদ্যোগ সম্পর্কে অবহিত করেন।

আইএলওর ‘গ্লোবাল কোয়ালিশন ফর সোশ্যাল জাস্টিস’ উদ্যোগকে স্বাগত জানান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। বৈশ্বিক সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার পাশাপাশি বৈঠকে মন্ত্রী উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ এ পর্যন্ত ৩৯টি আইএলও কনভেনশন অনুসমর্থন করেছে এবং এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে সব মৌলিক আইএলও কনভেনশন অনুসমর্থনের স্বীকৃতি অর্জন করেছে। এ ছাড়া শ্রম খাত সংস্কার, শ্রম অধিকার সংস্কার কমিশন গঠন, ত্রিপক্ষীয় প্রতিষ্ঠানগুলো পুনর্গঠন এবং জাতীয় ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পরিষদের (এনটিসিসি) মাধ্যমে শ্রম আইন সংশোধনের অগ্রগতি তুলে ধরেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে দায়ের করা আর্টিকেল ২৬ মামলার ইতিবাচক ও সমঝোতাপূর্ণ নিষ্পত্তির প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন মন্ত্রী।

আইএলও মহাপরিচালক বাংলাদেশের শ্রম খাতে চলমান সংস্কার কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কে আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং বাংলাদেশের সঙ্গে আইএলওর দীর্ঘদিনের অংশীদারত্বের প্রশংসা করেন বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই বৈঠকে অন্যদের মধ্যে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবদুর রহমান তরফদার, প্রতিনিধিদলের সদস্যরা এবং জেনেভা মিশনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।