এর আগে শাহবাগ থানায় ছাত্রলীগ নেতার করা পৃথক দুটি মামলায় ৭ নভেম্বর জামিন পান ছাত্র অধিকারের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি আখতার হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক আকরাম হোসেনসহ আটজন।

গত ৭ অক্টোবর বিকেলে ‘আবরার ফাহাদ স্মৃতি সংসদ’-এর ব্যানারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে বুয়েট ছাত্র আবরার হত্যার তিন বছর পূর্তি উপলক্ষে স্মরণসভার আয়োজন করে ছাত্র অধিকার পরিষদ। সেখানে ছাত্রলীগ হামলা করে তাদের ধাওয়া দিয়ে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেয়। হামলায় পরিষদের অন্তত ১৫ নেতা-কর্মী আহত হন। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলে সেখানে গিয়েও তাঁদের পেটায় ছাত্রলীগ। বিকেলে মেডিকেল থেকে পরিষদের বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মীকে আটক করে শাহবাগ থানার পুলিশ।

পরে ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নাজিম উদ্দিন ও আমিনুর রহমান ছাত্র অধিকার পরিষদের ২৫ নেতা-কর্মী ও অজ্ঞাতনামা ১৪০ থেকে ১৫০ জনকে আসামি করে শাহবাগ থানায় দুটি মামলা করেন। ওই দুই মামলায় পরদিন ছাত্র অধিকার পরিষদের ২৪ নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করে পুলিশ। সে সময় তাঁদের সবাইকে কারাগারে পাঠিয়েছিলেন আদালত। দুই দফায় ২৩ জনের জামিন হওয়ায় এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে শুধু একজন এখন কারাগারে আছেন। বিল্লাল হোসেন নামের ছাত্র অধিকারের ওই কর্মীর জামিন আবেদন প্রক্রিয়াধীন আছে তাঁদের আইনজীবী জানিয়েছেন।

অপর দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদের স্মরণসভায় ছাত্রলীগের হামলা ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারামারির ঘটনায় ছাত্রলীগের ১৪ নেতা-কর্মীর নামে ১৮ অক্টোবর মামলার আবেদন করেন ছাত্র অধিকারের সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা। আদালত ওই আবেদন খারিজ করে দেন।

২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর বুয়েটের শেরেবাংলা হল থেকে তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদের লাশ উদ্ধার করা হয়। গত বছরের ডিসেম্বরে আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় ২০ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত। পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আসামিরা সবাই বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত নেতা-কর্মী।