রিটে ১৯৭৬ সালের ঢাকা মহানগর পুলিশ অধ্যাদেশের ২৯ ও ১০৫ ধারা এবং ২০০৬ সালের ঢাকা মহানগর পুলিশ (সভা, সমাবেশ, মিছিল ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। অধ্যাদেশের ২৯ ধারায় সমাবেশ বা মিছিল নিষিদ্ধ করার ক্ষমতার (পুলিশ কমিশনারের) বিষয়ে এবং অধ্যাদেশের ১০৫ ধারায় সরল বিশ্বাসে করা কোনো কাজের জন্য কোনো পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোনো কার্যধারা গ্রহণ করা যাবে না, উল্লেখ রয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আবদুল মোমেন চৌধুরী ও কে এম জাবির, চাঁদপুর জেলা বারের (সমিতি) আইনজীবী সেলিম আকবর, রাজধানীর বাসিন্দা শাহ নূরুজ্জামান ও মোহাম্মদ ইয়াসিন ২০ অক্টোবর ওই রিট করেন। আদালতে রিটের পক্ষে আইনজীবী আবদুল মোমেন চৌধুরী নিজেই শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন, সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অরবিন্দ কুমার রায়।

এক রায়ের প্রসঙ্গ টেনে শুনানিতে আইনজীবী আবদুল মোমেন চৌধুরী বলেন, সভা–সমাবেশ করতে বোম্বে পুলিশ রেগুলেশনে অনুমতি নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল, যা ভারতের সুপ্রিম কোর্ট অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছে। ঢাকা মহানগর পুলিশ অধ্যাদেশে মিছিল–সমাবেশ নিষিদ্ধ করার বিধান রয়েছে। এতে কাউকে সুযোগ দেওয়া হবে, কাউকে দেওয়া হবে না। অধ্যাদেশের ২৯ ধারা সংবিধানের ৩৭ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এটি মৌলিক অধিকারেরও বিরোধী।

অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন শুনানিতে বলেন, সংবিধানে ৩৭ অনুচ্ছেদ অনুসারে সভা-সমাবেশ করার অধিকার দেওয়া হয়েছে। তবে তা জনশৃঙ্খলা বা জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে আইন দিয়ে আরোপিত যুক্তিসংগত বাধানিষেধ সাপেক্ষে। এটি নিরঙ্কুশ নয়। সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদ অনুসারে, সংবিধান ও আইন মান্য করা, শৃঙ্খলা রক্ষা করা, নাগরিক দায়িত্ব পালন করা এবং জাতীয় সম্পত্তি রক্ষা করা প্রত্যেক নাগরিকের কর্তব্য। তাহলে শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অর্থাৎ পুলিশের। অধ্যাদেশের ২৯ ধারাটি হচ্ছে, শান্তি–শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য।

এ সময় আদালত বলেন, উনি (রিট আবেদনকারী) বলতে চাইছেন, এখানে (ধারা ২৯) পুলিশকে বেশি ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। তখন অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, বেশি ক্ষমতা দেওয়া হয়নি। এটি নতুন নয়। জনশৃঙ্খলার স্বার্থে ঢাকায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। ঢাকার বাইরে ১৪৪ ধারা দেওয়া হয়। অধ্যাদেশের ১০৫ হলো দায়মুক্তির বিধান, যা প্রত্যেক আইনেই আছে। রিটটি সরাসরি খারিজ যোগ্য।

রিটে ঢাকা মহানগর পুলিশ অধ্যাদেশের ওই দুটি ধারা এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের ওই বিধিমালা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না—এ বিষয়ে রুল চাওয়া হয়েছে। আইনসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব ও ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারকে রিটে বিবাদী করা হয়েছে।