চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন ‘গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এবং ব্রিজসমূহের উন্নয়নসহ আধুনিক যান যন্ত্রপাতি ও সড়ক আলোকায়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় গাড়িগুলো কেনা হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় ২ কোটি ১৪ লাখ টাকায় কেনা পোর্টেবল বা ভ্রাম্যমাণ অ্যাসফল্ট প্ল্যান্টও ব্যবহার না করে ফেলে রাখা হয়েছে।

দামি ও গুরুত্বপূর্ণ এসব গাড়ি ও প্ল্যান্ট ব্যবহার না করে ফেলে রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) আকবর আলী প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি এখানে (সিটি করপোরেশন) নতুন এসেছি। এসব বিষয়ে তেমন কিছু বলতে পারব না।’

তিনি এ বিষয়ে জানতে সিটি করপোরেশনের যান্ত্রিক শাখার দুই নির্বাহী প্রকৌশলী জয়সেন বড়ুয়া ও মির্জা ফজলুল কাদেরের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য বলেন। তবে যোগাযোগ করলে তাঁরা কেউ কথা বলতে রাজি হননি।

গত আগস্টে তিন-চার দিন এসব গাড়ি দিয়ে কিছু কাজ করা হয়েছিল। ইমালসন নামের বিটুমিন না থাকায় দামি যন্ত্রগুলো ব্যবহার করা যাচ্ছে না। এখন নগরের রাস্তাঘাট সংস্কারের সবচেয়ে ভালো সময়। কিন্তু গাড়িগুলোর ব্যবহার নেই।

রক্ষণাবেক্ষণ ট্রাকের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে মিক্সচার তৈরি করে সঙ্গে সঙ্গে সড়কে সৃষ্ট গর্ত ভরাট করা যায়। মাত্র দু-তিনজন শ্রমিক দিয়ে এই কাজ করা সম্ভব। এই গাড়িগুলো পরিচালনার জন্য সিটি করপোরেশনের ৩০ জন কর্মীকে ঠিকাদারের পক্ষ থেকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল।

সিটি করপোরেশনের যান্ত্রিক শাখার প্রকৌশলীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উদ্বোধনের পর সড়কের গর্ত ভরাটে কিছুদিন এসব ট্রাক ব্যবহার করা হয়েছিল। গত ফেব্রুয়ারির পর হঠাৎ বন্ধ রাখা হয়। আবার গত আগস্টে তিন-চার দিন এসব গাড়ি দিয়ে কিছু কাজ করা হয়েছিল। ইমালসন নামের বিটুমিন না থাকায় দামি যন্ত্রগুলো ব্যবহার করা যাচ্ছে না। এখন নগরের রাস্তাঘাট সংস্কারের সবচেয়ে ভালো সময়। কিন্তু গাড়িগুলোর ব্যবহার নেই। তবে সিটি করপোরেশনের যান্ত্রিক শাখার এক দায়িত্বশীল প্রকৌশলী দাবি করেছেন, ইমালসন বিটুমিন কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ রয়েছে, সিটি করপোরেশন নগরের বেহাল রাস্তাগুলো নামকাওয়াস্তে সংস্কার করে। রাস্তার গর্ত সাধারণত ইটের খোয়া, বালু দিয়ে কোনোরকম ভরাট করে দেওয়া হয়। এ ছাড়া মাঝেমধ্যে নিজস্ব অ্যাসফল্ট প্ল্যান্টে তৈরি মিক্সচার (ইট, কংক্রিট, বিটুমিনের মিশ্রণ) ব্যবহার করে রাস্তা সংস্কার করা হয়। এ জন্য প্রথমে কারখানায় মিক্সচার তৈরি করতে হয়।

পরে মিক্সিংবাহী ট্রাকে করে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কে নিয়ে আসতে হয়। সবশেষে শ্রমিক দিয়ে চলে সংস্কারকাজ। আবার ফিনিশিংয়ের জন্য দরকার হয় রোলারেরও। এই প্রক্রিয়া ‘প্যাচওয়ার্ক’ নামে পরিচিত। কিন্তু সংস্কারকাজের গুণমান খারাপ হওয়ায় অল্প সময়ের মধ্যে পিচ উঠে গিয়ে আবার গর্তের সৃষ্টি হয়।

এদিকে জ্বালানি বেশি লাগছে বলে ভ্রাম্যমাণ অ্যাসফল্ট প্ল্যান্ট ব্যবহার বন্ধ রেখেছে সিটি করপোরেশন। মূলত যখনই যে জায়গায় প্রয়োজন পড়বে, সেখানে এই প্ল্যান্ট নিয়ে গিয়ে মিশ্রণ তৈরি করে ব্যবহার করা হবে।

সিটি করপোরেশনের যান্ত্রিক শাখার এক প্রকৌশলী বলেন, এই প্ল্যান্ট চালু রাখতে হলে ঘণ্টায় প্রায় ২০০ লিটার ডিজেলের প্রয়োজন হয়। এখন ডিজেলের পরিবর্তে গ্যাসের মাধ্যমে তা ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য প্রায় ১৫ লাখ টাকা লাগবে। ওই প্রকৌশলী দাবি করেছেন, এ ধরনের প্ল্যান্ট চট্টগ্রাম নগরের প্রয়োজন ছিল না। কিন্তু সাবেক প্রধান প্রকৌশলী লেফটেন্যান্ট কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদের সময় তা কেনা হয়েছিল।

প্রয়োজন না থাকার বিষয়টি ঠিক নয় বলে জানিয়ে সিটি করপোরেশনের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী লেফটেন্যান্ট কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, চট্টগ্রাম নগরের জন্য ভ্রাম্যমাণ অ্যাসফল্ট প্ল্যান্ট খুবই জরুরি। যাঁরা প্রয়োজন নেই বলছেন, তাঁদের আসলে অ্যাসফল্ট প্ল্যান্ট সম্পর্কে ধারণা নেই। ব্যবহার করতে না জানলে তো যন্ত্রের দোষ না, এটি ব্যবহারকারীদের দোষ।