ধর্ষণের ঘটনা নারী ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিতের সক্ষমতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করে: আসক
দেশে ধারাবাহিকভাবে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটলেও অনেক ক্ষেত্রেই অপরাধ প্রতিরোধ, দ্রুত তদন্ত এবং কার্যকর জবাবদিহির ঘাটতি রয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। তারা বলছে, একটি ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতার কোনো স্থান থাকতে পারে না। তাই এ ধরনের অপরাধ দমনে রাষ্ট্রকে শূন্য সহনশীলতার নীতি কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে।
কক্সবাজারে মা ও মেয়েকে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় আসকের পক্ষ থেকে গভীর উদ্বেগ, তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে দেওয়া এক সংবাদ বিবৃতিতে এসব কথা বলা হয়।
কক্সবাজারে মা ও মেয়েকে দলবদ্ধ ধর্ষণকে বর্বর ও অমানবিক ঘটনা আখ্যা দিয়ে আইন ও সালিশ কেন্দ্র বলেছে, এ ধরনের ঘটনা কেবল একটি ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি নয়; বরং এটি রাষ্ট্রীয়ভাবে নারী ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সক্ষমতা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উত্থাপন করে। নারীর প্রতি যৌন সহিংসতা ও দলবদ্ধ ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এমন ঘটনা নাগরিকদের নিরাপত্তাবোধকে গভীরভাবে আঘাত করে এবং সমাজে ভীতি ও অনিশ্চয়তার পরিবেশ তৈরি করে। ধারাবাহিকভাবে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটলেও অনেক ক্ষেত্রেই অপরাধ প্রতিরোধ, দ্রুত তদন্ত এবং কার্যকর জবাবদিহির ঘাটতি রয়ে যাচ্ছে।
বিবৃতিতে এ ঘটনায় জড়িত সব অপরাধীকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে শাস্তি নিশ্চিতের জোরালো দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী মা ও কিশোরীর জন্য জরুরি চিকিৎসা, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, আইনি সহায়তা এবং সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠনটি।
নারী ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিরোধমূলক কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে আইন ও সালিশ কেন্দ্র বলেছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি, স্থানীয় পর্যায়ে নজরদারি জোরদার এবং অপরাধীদের প্রভাবমুক্ত রেখে দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা জরুরি। এ ধরনের অপরাধ দমনে রাষ্ট্রকে শূন্য সহনশীলতার নীতি কঠোরভাবে অনুসরণ করার আহ্বানও জানায় আসক।