আসাদুজ্জামান নূর এক মামলায় জামিন পেলেন, তিন মামলায় জামিন নূরুল ইসলামের
নীলফামারীতে হওয়া পৃথক দুটি হত্যা মামলার মধ্যে একটিতে জামিন পেয়েছেন সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। অন্যটিতে তাঁর জামিন আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। জামিন চেয়ে তাঁর করা পৃথক আবেদনের চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ মঙ্গলবার এ রায় দেন।
এদিকে হত্যার অভিযোগে পঞ্চগড় সদর থানায় একটি ও রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানায় করা দুটিসহ পৃথক তিনটি মামলায় জামিন পেয়েছেন সাবেক রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন। এ ছাড়া চাঁদাবাজির অভিযোগে বনানী থানার এক মামলায় একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবুর জামিন আবেদন খারিজ করে রায় দিয়েছেন হাইকোর্টের একই বেঞ্চ।
সংশ্লিষ্ট আইনজীবীর তথ্য অনুসারে, অধস্তন আদালতে বিফল হয়ে চলতি বছর হাইকোর্টে জামিন চেয়ে পৃথক দুটি জামিন আবেদন করেন আসাদুজ্জামান নূর। তিন মামলায় জামিন চেয়ে গত বছর নূরুল ইসলাম সুজন এবং এক মামলায় মোজাম্মেল বাবু চলতি বছর হাইকোর্টে পৃথক আবেদন করেন। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট তাঁদের জামিন প্রশ্নে রুল দেন। চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট আসাদুজ্জামান নূরের ক্ষেত্রে এক মামলায় জামিন প্রশ্নে রুল অ্যাবসলিউট (যথাযথ) এবং অন্যটিতে রুল ডিসচার্জ (খারিজ) করে রায় দেন। নূরুল ইসলাম সুজনের ক্ষেত্রে তিন মামলায় জামিন প্রশ্নে রুল অ্যাবসলিউট (যথাযথ) ঘোষণা করা হয়। এক মামলায় মোজাম্মেল বাবুর জামিন প্রশ্নে রুল ডিসচার্জ (খারিজ) করে রায় দেওয়া হয়।
আদালতে নূরুল ইসলাম সুজনের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেড আই খান পান্না, এস এম আবুল হোসেন, মোতাহার হোসেন সাজু প্রমুখ শুনানিতে ছিলেন। আসাদুজ্জামান নূরের পক্ষে আইনজীবী জ্যোর্তিময় বড়ুয়া শুনানিতে ছিলেন। মোজাম্মেল বাবুর পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেড আই খান পান্না, সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী নাজমুস সাকিব। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দা সাজিয়া শারমিন, সঙ্গে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. এমদাদুল হানিফ ও মো. সিরাজুল আলম।
আসাদুজ্জামান নূরের দুই মামলা
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ওই বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মিরপুর থানায় দায়ের করা একটি হত্যা মামলায় বেইলি রোড থেকে আসাদুজ্জামান নূরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। নীলফামারীর দুই মামলার একটিতে আজ জামিন পেয়েছেন আসাদুজ্জামান নূর, অন্যটিতে আবেদন খারিজ হয়েছে।
২০১৪ সালে জেলা সদরের লক্ষ্মীচাপ ইউনিয়ন বিএনপির নেতা গোলাম রব্বানীকে হত্যার অভিযোগে নীলফামারীর আমলি আদালতে একটি মামলা করেন তাঁর স্ত্রী শাহানাজ বেগম। অপর মামলাটি করেন সদর উপজেলার লক্ষ্মীচাপ ইউনিয়নের আকাশকুড়ি এলাকার মৃত সিদ্দিক আলীর ছেলে লিটন রহমান। এতে অভিযোগ করা হয়, ২০১৩ সালের ১২ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী বাহিনী লক্ষ্মীচাপের কাছারি বাজারে আগুন লাগিয়ে দিয়ে লুটপাট চালায়। দুই দিন পর ১৪ ডিসেম্বর উল্লিখিত আসামিরা ভিন্ন দলের নেতা-কর্মীদের মারধর শুরু করেন। এ সময় বাদী লিটন রহমানের বাবা সিদ্দিক আলী আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী বাহিনীর দ্বারা মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এ সময় স্থানীয় লোকজন তাঁকে বাঁচাতে ছুটে এলে আসাদুজ্জামান নূর দ্রুত তাঁর গাড়ি দিয়ে সিদ্দিক আলীকে চাপা দিয়ে হত্যা করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের তথ্য অনুসারে, ওই দুই মামলার মধ্যে শাহনাজ বেগমের করা মামলায় আসাদুজ্জামান নূর জামিন পেয়েছেন। লিটন রহমানের করা মামলায় তাঁর জামিন আবেদন খারিজ হয়েছে।
তিন মামলায় জামিন পেলেন সাবেক মন্ত্রী সুজন
যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের করা একটি হত্যা মামলায় ২০২৪ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর সাবেক রেলপথমন্ত্রী নূরুল ইসলামকে (সুজন) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তিন মামলায় আজ তিনি জামিন পেয়েছেন। এর ফলে তাঁর কারামুক্তিতে বাধা নেই, বলছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
সংশ্লিষ্ট আইনজীবীর তথ্যমতে, এর মধ্যে একটি পঞ্চগড় সদর থানার ও দুটি যাত্রাবাড়ী থানার। পঞ্চগড়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে অংশ নেওয়া নিখোঁজ আল আমিনকে হত্যা ও লাশ গুমের অভিযোগে বাবা মো. মনু বাদী হয়ে পঞ্চগড় সদর থানায় ২০২৪ সালের ১০ নভেম্বর একটি মামলা করেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রফিকুল ইসলাম যাত্রাবাড়ী এলাকায় ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই গুলিবিদ্ধ হন, পরদিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান—এ ঘটনায় তাঁর স্ত্রী বাদী হয়ে ২৮ আগস্ট যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা করেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচির মধ্যে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গুলিতে নিহত হন শিক্ষার্থী ইমরান। এ ঘটনায় তাঁর মা কোহিনূর আক্তার ২৯৭ জনকে আসামি করে গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর যাত্রাবাড়ী থানায় একটি মামলা করেন।
মোজাম্মেল বাবুর জামিন আবেদন খারিজ
মোজাম্মেল বাবুকে ময়মনসিংহ থেকে ২০২৪ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় হওয়া কয়েকটি হত্যা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। চাঁদাবাজির অভিযোগে করা এক মামলায় মোজাম্মেল বাবুর জামিন আবেদন আজ না মঞ্জুর হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট আইনজীবীর তথ্যমতে, ২০০৭ সালের ১৭ মার্চ ১০ কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে মোজাম্মেল বাবুসহ তিনজনের বিরুদ্ধে ২০২৫ সালের ১১ জানুয়ারি বনানী থানায় মামলাটি করেন বৈশাখী টিভির তৎকালীন কর্মকর্তা চৌধুরী মো. হুমায়ুন কবির।