সচিবালয় থেকে সরানো হলো প্রধানমন্ত্রী-মন্ত্রীদের নামফলক, মহড়া পদবঞ্চিতদের
প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের পর প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র সচিবালয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীদের নামফলকসহ সব ধরনের উন্নয়নমূলক ছবি সরিয়ে ফেলা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ছবিও সরানো হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সরকারি অফিস খোলার পর বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে গিয়ে এ দৃশ্য দেখা গেছে। তবে কে বা কারা নামফলক সরিয়েছে, তা জানা যায়নি।
এদিকে সরকারি অফিস খোলায় আজ সচিবালয়ে আসেন দীর্ঘদিনের পদবঞ্চিত কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। তাঁরা সকাল ১০টায় সচিবালয়ে এসে জনপ্রশাসন সচিব মেজবাহ্ উদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে দেখা করতে যান। তাঁর সাক্ষাৎ পাননি। পরে নিজেদের মধ্যে বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে সচিবালয়ের ভেতরে দল বেঁধে নিজেদের অবস্থান জানান দেন। পরে গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন তাঁদের পদবঞ্চিত রাখা হয়েছে। তাঁরা বলেন, রাজনৈতিক বিবেচনায় তাঁদের পদোন্নতি দেওয়া হয়নি।
তিন দিনের (৫, ৬, ৭) সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে গত রোববার প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। অবশ্য গতকাল সোমবার রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, আজ মঙ্গলবার থেকে সব সরকারি অফিস খোলা।
আজ সচিবালয়ে কয়েকটি মন্ত্রণালয় ঘুরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি কম দেখা যায়। যাঁরা ছিলেন, তাঁদের চোখেমুখেও আতঙ্কের ছাপ। আজ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের সচিব অফিস করেছেন। আবার অনেক মন্ত্রণালয়ের সচিব আসেননি।
বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হঠাৎ খবর আসে, সচিবালয়ে হামলা হবে। এ খবর পাওয়ার পর সব মন্ত্রণালয় থেকে হুড়মুড় করে সবাই সচিবালয় ত্যাগ করতে শুরু করেন। অফিস ত্যাগ করার কারণ জানতে চাইলে কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, সচিবালয়ে হামলা হতে পারে এমন কথা শোনার পর তাঁরা বাসায় চলে যাচ্ছেন। এ সময় সবার চোখেমুখে দেখা গেছে আতঙ্কের ছাপ।
তবে এ গুজব কে ছড়িয়েছে তা জানা যায়নি। অফিস ত্যাগ করার বিষয়ে সরকারের নির্দেশনাও ছিল না। আবার কেউ কেউ বলেছেন, আজ সকালে সচিবালয়ের পাশে গুলিস্তানে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আগুন দেওয়া হয়েছে। এরপর সচিবালয়েও আগুন বা হামলা হতে পারে, এমন গুজব ছড়িয়ে পড়ে। তখন সবাই বেরিয়ে যান।
সচিবালয়ের বাইরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিকল্পনা কমিশনের একাধিক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে জানান, একই সময়ে তাঁদের দপ্তরে গুজব ছড়িয়ে পড়ে অফিসে হামলা হবে। তখন তাঁরা তড়িঘড়ি করে অফিস থেকে বের হয়ে যান। একই সময়ে সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তারাও অফিস থেকে বের হয়ে যান।
একাধিক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতিতে এত দ্রুত সরকারি অফিস খুলে দেওয়া ঠিক হয়নি।
সচিবালয় থেকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের নামফলক সরিয়ে ফেলা হয়েছে। তাঁর মন্ত্রণালয়ের সব ধরনের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ছবিও সরিয়ে ফেলা হয়। সাবেক স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলাম, সাবেক ডাক ও টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্মেদ পলকের নামফলক সরিয়ে ফেলা হয়েছে। ওই সব মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ছবিও সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
সচিবালয়ে পদবঞ্চিতরা
এ সরকারের আমলে যেসব কর্মকর্তা পদোন্নতি পাননি, আজ সকালে তাঁদের অনেকে সচিবালয়ে আসেন। এঁদের একজন নেয়ামত উল্লাহ ভূঁইয়া। বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ৮৪ ব্যাচের এই কর্মকর্তা উপসচিব থেকে অবসরে যান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘গত ১৬ বছর সরকার জগদ্দল পাথরের মতো ছিল। এই সরকার আমাদের ওপর অবিচার করেছে। প্রশাসনে শান্তি ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে তাঁরা সচিবালয়ে এসেছেন।’
পদবঞ্চিত আরেক কর্মকর্তা জাকির হোসেন বলেন, ‘শৃঙ্খলামুক্ত হয়েছি। এবার শৃঙ্খলা ফেরানোর জন্য সচিবালয়ে এসেছি।’ তিনি বলেন, ‘কোটা সংস্কারের এই আন্দোলন ছিল বৈষম্যের বিরুদ্ধে। আমরাও বৈষম্যের শিকার।’
আজ সচিবালয়ে বিভিন্ন ব্যাচের পদবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একসঙ্গে অবস্থান করতে দেখা যায়।