কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কার্বন নিঃসরণের মানমাত্রা নির্ধারণ চায় সংসদীয় কমিটি
কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কার্বন নিঃসরণের মানমাত্রা নির্ধারণ করে দেওয়ার পক্ষে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে যেসব দেশ বিনিয়োগ করবে, তাদের নিজ দেশের মানমাত্রা ও বাংলাদেশের মানমাত্রা বিবেচনায় নিতে হবে।
আজ সোমবার পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ সুপারিশ এসেছে। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে পরিবেশ অধিদপ্তরের সভাকক্ষে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
পরিবেশ অধিদপ্তর কিসের ভিত্তিতে নতুন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের কার্বন নিঃসরণ মাত্রা নির্ধারণ করে সে বিষয়টি জানতে চেয়েছিল সংসদীয় কমিটি। পরিবেশ অধিদপ্তর এ-সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদনে জানায়, বায়ুদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা ২০২২ এবং বিভিন্ন দেশের মানমাত্রার ভিত্তিতে নতুন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কার্বন নিঃসরণের মাত্রা নির্ধারণ করা হয়।
বৈঠক শেষে সংসদীয় কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, বৈঠকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের প্রকল্প থেকে দূষণের মাত্রা নিয়ে আলোচনা হয়। বিদ্যুৎ ও জ্বালানির নতুন যে মহাপরিকল্পনা হচ্ছে, সেখানে এ বিষয়ে তেমন কিছুর উল্লেখ নেই। বিভিন্ন দেশ যারা এখানে বিনিয়োগ করছে, তারা তাদের দেশের মানমাত্রা অনুসরণ করছে, তারা বাড়তি ছাড় চাইছে। তিনি বলেন, তাঁরা এ বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। পরিবেশের দিকটা দেখবেন। তাঁদের সুপারিশ, প্রকল্পে কার্বন নিঃসরণের ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের নিজেদের দেশের মানমাত্রা এবং বাংলাদেশের আইন বিবেচনায় নিতে হবে।
পরিবেশদূষণে জরিমানা বাড়বে
কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, বৈঠকে জানানো হয়, পরিবেশদূষণের দায়ে জরিমানার পরিমাণ বাড়ানো হবে। বিদ্যমান জরিমানার পরিমাণ সংশোধন করা হবে। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ট্যানারিগুলো নিজেদের তরল বর্জ্য পরিশোধনাগার (ইটিপি) বন্ধ রাখলে ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা লাভ হয়। কিন্তু ইটিপি বন্ধ করে দূষণের দায়ে তাদের জরিমানা হচ্ছে ২০ হাজার টাকা। তাই তারা জরিমানা দেওয়ার সুযোগটি নেবে, এটাই স্বাভাবিক।
এ ছাড়া কোনো সংক্ষুব্ধ ব্যক্তিকে পরিবেশদূষণের দায়ে সরাসরি মামলা করার সুযোগ দিয়ে আইনে সংশোধন আনা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
বৈঠক শেষে সংসদ সচিবালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ব্লক ইট তৈরিতে ভাটামালিকদের সুযোগ বাড়ানো, ব্লক ইট ব্যবহারের সুফল সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সরকারি নির্মাণকাজে শতভাগ ব্লক ইটের ব্যবহার নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের সুপারিশ করে কমিটি।
সাবের হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে কমিটির সদস্য পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী শাহাব উদ্দিন, উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার, রেজাউল করিম ও খোদেজা নাসরিন আক্তার হোসেন বৈঠকে অংশ নেন।