আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন বিষয়টি উপস্থাপন করেন, সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বশির আহমেদ। পরে অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘একটি মামলা (দণ্ডবিধিতে করা) শুনানির জন্য কার্যতালিকায় রয়েছে। অপর মামলাটি (বিস্ফোরক দ্রব্য) উল্লেখিত হিসেবে ছিল, যা শুনানির জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে।’

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ঢাকার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমাবেশে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। এতে দলের নেতা-কর্মীসহ ২৪ জন নিহত হন। আহত হন শেখ হাসিনাসহ দলের কয়েক শ নেতা-কর্মী।

এ ঘটনায় করা মামলার ২০১৮ সালের অক্টোবরে রায় দেন বিচারিক আদালত। তাতে ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড, ১৯ জনের যাবজ্জীবন এবং অপর ১১ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

কোনো মামলায় আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে হাইকোর্টের অনুমোদন লাগে, যা ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) মামলা হিসেবে পরিচিত। এ অনুসারে মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য বিচারিক আদালতের রায় ও নথিপত্র হাইকোর্টে পাঠানো হয়। ডেথ রেফারেন্স, আসামিদের জেল আপিল, আপিল ও বিবিধ আবেদনের ওপর সাধারণত একসঙ্গে শুনানি হয়ে থাকে। তবে শুনানির পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে পেপারবুক প্রস্তুত করতে হয়।

এ মামলায় পেপারবুক (মামলার বৃত্তান্ত) ইতিমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে। চলতি বছরের আগস্টে অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেছিলেন, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মামলাটি হাইকোর্টে শুনানির জন্য প্রধান বিচারপতির কাছে দরখাস্ত দেওয়া হয়েছে। কেননা ডেথ রেফারেন্স ও দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আসামিরা যে আপিল করেন, সেগুলো শুনানি ও নিষ্পত্তির জন্য প্রধান বিচারপতি বেঞ্চ নির্ধারণ করে দেন। সেই বেঞ্চে শুনানি হয়ে থাকে।

আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এরপর প্রধান বিচারপতি মামলাটি শুনানির জন্য ওই বেঞ্চ নির্ধারণ করে দেন। এর ধারাবাহিকতায় একটি মামলা গতকাল রোববার উল্লেখিত হিসেবে হাইকোর্টের ওই বেঞ্চের কার্যতালিকায় ওঠে।