গত এক দশকে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সংখ্যা তিন গুণের বেশি বেড়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন দূতাবাস। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষে যুক্তরাষ্ট্রে ৩ হাজার ৩১৪ জন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছিলেন। ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে এসে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে ১০ হাজার ৫৯৭ দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরে ১৯৭৪-৭৫ শিক্ষাবর্ষে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা নিতে যাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল মাত্র ৪৮০।

বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সব সময় স্বাগত জানায়। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রে যুগান্তকারী গবেষণা থেকে শুরু করে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ক্যাম্পাসজীবনকে সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে মেধার স্বাক্ষর রেখে চলেছে।’ রাষ্ট্রদূত পিটার হাস বলেন, ‘আমরা এটা জেনে আনন্দিত যে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরও বেশিসংখ্যক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রকে তাঁদের উচ্চশিক্ষার গন্তব্য হিসেবে বেছে নিচ্ছেন।’

আন্তর্জাতিক শিক্ষা সপ্তাহ-২০২২ উপলক্ষে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার আবেদনপ্রক্রিয়া, বিভিন্ন ধরনের শিক্ষা কার্যক্রম, শিক্ষাবিষয়ক তহবিল ও বৃত্তির সুযোগ-সম্পর্কিত ভার্চ্যুয়াল ও সশরীর উপস্থিত হয়ে অংশ নেওয়া যায়, এমন বেশ কয়েকটি তথ্যবিনিময় সেমিনার ও অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে মার্কিন দূতাবাস। বাংলাদেশে এডুকেশনইউএসএ পরামর্শ কেন্দ্রগুলো শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ের ওপর যেমন যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষার সুবিধাগুলো কী, তা নিয়ে বিশেষ অধিবেশনের আয়োজন করবে। এ ছাড়া সম্ভাব্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দেখা করার জন্য স্থানীয় স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পরিদর্শন করবে।

এসব বিশেষ অধিবেশনে বক্তা হিসেবে থাকবেন মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তা, যুক্তরাষ্ট্রের কলেজ/বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভর্তিবিষয়ক কর্মকর্তারা। তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার জন্য আবেদন প্রস্তুতপ্রক্রিয়া, বৃত্তি ও আর্থিক সহায়তা এবং যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত শিক্ষা ও পেশাজীবী বিনিময় কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করবেন।

প্রতিবছর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এডুকেশনাল অ্যান্ড কালচারাল অ্যাফেয়ার্স ব্যুরো এবং ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন ইনস্টিটিউট যৌথভাবে ওপেন ডোরস রিপোর্ট অন ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশনাল এক্সচেঞ্জ প্রকাশ করে। যুক্তরাষ্ট্র দেশটিতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের যাতায়াতসহ আন্তর্জাতিক শিক্ষার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আন্তর্জাতিক শিক্ষার সমর্থনে প্রণীত যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা বিভাগের নীতিবিষয়ক যৌথ বিবৃতিতে এটি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।

এডুকেশনইউএসএ যুক্তরাষ্ট্র সরকারের শিক্ষাবিষয়ক একটি বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক। এর অধীনে ৪৩০টির বেশি পরামর্শকেন্দ্রের মাধ্যমে দেশটির সরকার যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়ন নিয়ে সঠিক, সর্বশেষ ও বিস্তারিত তথ্য দিয়ে থাকে। এডুকেশনইউএসএ বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত পরামর্শকেন্দ্রগুলোর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নের সুযোগ-সম্পর্কিত তথ্য বিনা মূল্যে প্রদান করে। নিচের তালিকায় আমেরিকান স্পেসকেন্দ্রগুলোতে প্রশিক্ষিত পরামর্শক ও উপদেষ্টারা ভার্চ্যুয়াল এবং ব্যক্তিগত তথ্য অধিবেশনের আয়োজন করে থাকেন এবং শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বিনা মূল্যে ব্যক্তিগত পর্যায়ে ও দলভিত্তিক পরামর্শ সেবা দিয়ে থাকেন।

• আমেরিকান সেন্টার, যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস, ঢাকা;
• এডওয়ার্ড এম কেনেডি (ইএমকে) সেন্টার ফর পাবলিক সার্ভিস অ্যান্ড দ্য আর্টস, ধানমন্ডি, ঢাকা;
• আমেরিকান কর্নার খুলনা (নর্দার্ন ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি, খুলনা, শিববাড়ী মোড়, খুলনা);
• আমেরিকান কর্নার সিলেট (সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, শামীমাবাদ, বাগবাড়ী, সিলেট);
• আমেরিকান কর্নার রাজশাহী (বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাড়ি # ৫৩২, জাহাঙ্গীর সরণি, তালাইমারি, রাজশাহী-৬২০৪); এবং
• আমেরিকান কর্নার চট্টগ্রাম (নোট: আমরা বর্তমানে একজন এডুকেশনইউএসএ এডভাইজরের মাধ্যমে ভার্চ্যুয়াল পরামর্শ সহায়তা দিচ্ছি।

ওপেন ডোরস হলো যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত বা শিক্ষাদানকারী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের এবং আমেরিকান শিক্ষার্থী, যাঁরা বিদেশে তাঁদের নিজ দেশের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ক্রেডিট অর্জন করার জন্য অধ্যয়নরত তাঁদের বিস্তারিত তথ্যভান্ডার। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকা বিভিন্ন দেশের গবেষক এবং শিক্ষাপূর্ব নিবিড় ইংরেজি ভাষাশিক্ষা কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া বিদেশি শিক্ষার্থীদের সংখ্যা প্রকাশ করে।