কিছু আসামির তৎপরতা সন্দেহজনক, নাশকতা ঘটাতে পারে: চিফ প্রসিকিউটর
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য নিরাপত্তাকর্মীদের সতর্ক করার কথা জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কিছু আসামির গতিবিধি, তৎপরতা সন্দেহজনক লেগেছে। তাঁদের কাছে কিছু গোপন তথ্য আছে যে তাঁরা (কিছু আসামি) যেকোনো স্যাবোটাজ বা নাশকতামূলক ঘটনা ঘটাতে পারেন।
আজ রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নিজ কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে চিফ প্রসিকিউটর এ কথা বলেন।
এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে আমিনুল ইসলাম বলেন, এখানে যাঁরা নিরাপত্তার কাজ করেন, ট্রাইব্যুনালের নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য তাঁরা তাঁদের সতর্ক করেছেন। কিছু কিছু আসামির গতিবিধি, তৎপরতা তাঁদের কাছে সন্দেহজনক লেগেছে। কিছু কিছু গোপন তথ্য তাঁদের (প্রসিকিউশন) কাছে আছে যে তাঁরা (কিছু আসামি) যেকোনো স্যাবোটেজ বা নাশকতামূলক ঘটনা ঘটাতে পারেন।
এসব বিষয় বিচার-বিশ্লেষণ করে কাজ করছেন বলে জানান আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন নামে একটি আইন হতে যাচ্ছে। এটি অত্যন্ত যুগোপযোগী আইন। এই আইনের মাধ্যমে সারা দেশে গুমের বিচার হয়তো অন্য মাত্রার একটা গতি পাবে। যাঁরা গুমের সঙ্গে জড়িত, তাঁরা অত্যন্ত শক্তিশালী। সেটা মাথায় রেখেই তাঁরা (প্রসিকিউশন) নিজেরা সতর্ক আছেন। গুমের শিকার ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদেরও সতর্ক থাকার জন্য তাঁরা অনুরোধ জানাচ্ছেন। সরকারের কাছে তাঁরা এই বিষয়ে সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছেন।
এক সপ্তাহ ধরে ‘স্যাবোটাজ’ শব্দটা একটু বেশি আসছে, সাংবাদিকের এমন প্রশ্নে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ট্রাইব্যুনালের ভেতরে-বাইরে প্রতিটা কর্মকাণ্ড, প্রতিটা জিনিস তাঁদের নজরদারিতে আছে। সে কারণে কেউ যদি কোনো অপতৎপরতা দেখাতে চান, এটা তাঁদের জন্য আত্মঘাতী হবে। এ রকম কোনো দুষ্টুচিন্তা কারও মনের মধ্যে যদি থাকে, কোনো অপরাধী যদি অন্য কোনো বিষয় চিন্তা করেন, এটা তাঁদের জন্য আত্মঘাতী বিষয় হবে।
গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্বজনদের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’-এর দেওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত করছে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে আজ গুমের শিকার ৫৫টি পরিবারের সদস্যরা আসেন। তাঁদের জবানবন্দি গ্রহণ করবে তদন্ত সংস্থা। আজ চিফ প্রসিকিউটর ব্রিফিং করার সময় এই ৫৫ ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, এই পরিবারগুলোর অভিযোগের তদন্ত যখনই শুরু হয়েছে, কিছু কিছু অপরাধীদের তৎপরতাও কিন্তু বেড়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। ট্রাইব্যুনালে যে বিচার চলছে, যাঁদের বিরুদ্ধে এখন বিচার চলছে, তাঁদের বিষয়ে প্রশাসনের লক্ষ রাখার প্রয়োজন আছে। গুমের ভুক্তভোগী প্রতিটি পরিবারের প্রতি লক্ষ রাখার বিষয় আছে, যাতে তাদের নিরাপত্তা বাড়ানো যায়।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, অপরাধীকে বন্ধু মনে করার কোনো কারণ নেই। তাঁরা (অপরাধী) তাঁদের মতো করেই কিন্তু যেকোনো সময় ছোবল মারতে পারেন।
সরকারকেও সচেতন থাকার আহ্বান জানান চিফ প্রসিকিউটর। তিনি বলেন, গুমের ভুক্তভোগী পরিবার যারা আছে, তাদেরও সতর্ক থাকতে বলছেন তাঁরা। বিশেষ করে এই তদন্ত যাতে কোনোভাবে ব্যাহত না হয়। কোনোভাবে যাতে কোনো ‘স্যাবোটাজ’ করে তদন্ত কার্যক্রমে কোনো ধরনের বাধা কেউ সৃষ্টি করতে না পারে।