সেমিনারের প্রধান অতিথি অর্থনীতিবিদ ও বাংলাদেশ পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের সভাপতি কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, ‘বাংলাদেশে মূল্যবোধের অবক্ষয়, নিজেকে এগিয়ে নিতে চাই—এই দৌড়ে কাকে মারলাম, কাকে অবজ্ঞা করলাম, তা দেখি না।’ মাদকের ব্যবহার ও নারী নির্যাতন বেড়ে যাওয়ায় মানবাধিকার লঙ্ঘন বেশি হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে এ ধরনের বিষয়গুলোতে নজর দেওয়ার আহ্বান জানান।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সার্বক্ষণিক সদস্য সেলিম রেজা। তিনি বলেন, নাগরিকের মানবাধিকার লঙ্ঘনের খবর যেমন কমিশন গণমাধ্যম থেকে পেয়ে থাকে, তেমনি মানবাধিকার লঙ্ঘনে কমিশনের নেওয়া পদক্ষেপ গণমাধ্যম প্রকাশ করে সমাজে বার্তা দিচ্ছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত এ ধরনের অনেক ঘটনা কমিশন স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে আমলে নিয়েছে এবং সরকারি কর্তৃপক্ষের জবাবদিহি নিশ্চিত করেছে।

সেমিনারের বিশেষ অতিথি জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, সাংবাদিক সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার তারিখ কেন ৯৫ বারেও দেওয়া হলো না, এর ব্যাখ্যা প্রয়োজন। পাশাপাশি কোনো সাংবাদিকও এ ঘটনার কোনো অনুসন্ধানমূলক প্রতিবেদন করতে পারেননি, যা দুর্ভাগ্যজনক।

সেমিনারে মানবাধিকার কমিশনের সচিব নারায়ণ চন্দ্র সরকার, কমিশনের অবৈতনিক সদস্য বিশ্বজিৎ চন্দ, আমিনুল ইসলাম, কংজরী চৌধুরী, তানিয়া হক বক্তব্য দেন। সাংবাদিকদের মধ্যে দ্য ডেইলি অবজারভারের সম্পাদক ইকবাল সোবহান চৌধুরী, দৈনিক সমকালের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মোজাম্মেল হোসেন, বাসসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, ইউএনবির সম্পাদক ফরিদ হোসেন, প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক সোহরাব হাসান, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মনজুরুল আহসান বুলবুল, সুভাষ চন্দ্র সিংহ রায়, এস এম জাহিদ হাসান প্রমুখ আলোচনা করেন। সেমিনারে উপস্থিত সাংবাদিকেরা বর্তমান কমিশনকে সংবাদকর্মীদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় সোচ্চার থাকার আহ্বান জানান।