সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদকের অভিযোগপত্র অনুমোদন

সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানফাইল ছবি

সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান ও তাঁর স্ত্রী লুৎফুল তাহমিনার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের অভিযোগে করা মামলায় অভিযোগপত্র অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আজ মঙ্গলবার দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) এ তথ্য জানান।

দুদকের তদন্তে লুৎফুল তাহমিনার নামে অর্জিত স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মূল্য ১৮ কোটি ৪৩ লাখ ৫৮ হাজার ৯৭৪ টাকা পাওয়া গেছে। এ ছাড়া তাঁর পারিবারিক ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৬৫ লাখ ৬৬ হাজার ৭২৩ টাকা। সব মিলিয়ে তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ২০ কোটি ৯ লাখ ২৫ হাজার ৬৯৭ টাকা। তদন্তে এই সম্পদের বিপরীতে তাঁর গ্রহণযোগ্য আয়ের পরিমাণ ৫ কোটি ২২ লাখ ২৮ হাজার ২২৭ টাকা পাওয়া গেছে। সে হিসাবে তাঁর নামে ১৪ কোটি ৮৬ লাখ ৯৭ হাজার ৪৭০ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ এবং এই সম্পদের বৈধ কোনো উৎস পাওয়া যায়নি।

দুদকের ভাষ্য, সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে আসাদুজ্জামান খান তাঁর স্ত্রীকে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনে সহযোগিতা করেছেন। এ ঘটনায় লুৎফুল তাহমিনার বিরুদ্ধে দুদক আইন, ২০০৪–এর ২৭(১) ধারায় এবং আসাদুজ্জামান খানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭–এর ৫(২) ধারা ও দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

তদন্তে আরও দেখা গেছে, লুৎফুল তাহমিনার মালিকানাধীন একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে জমা হওয়া ৬ কোটি ৬৫ লাখ ৭০ হাজার ৭৮০ টাকার উৎস সন্দেহজনক। তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে, এই অর্থ ঘুষ বা উৎকোচ হিসেবে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে এবং তা হস্তান্তর, রূপান্তর ও শেয়ারিংয়ের মাধ্যমে অবৈধ উৎস গোপনের চেষ্টা করা হয়েছে।

দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ১৪ কোটি ৮৬ লাখ ৯৭ হাজার ৪৭০ টাকার সম্পদের পাশাপাশি সন্দেহজনক ওই লেনদেনের ৬ কোটি ৬৫ লাখ ৭০ হাজার ৭৮০ টাকা মিলিয়ে মোট ২১ কোটি ৫২ লাখ ৬৮ হাজার ২৫০ টাকার অর্থ ও সম্পদের উৎস গোপনের উদ্দেশ্যে অর্থ পাচার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২–এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

তদন্তে লুৎফুল তাহমিনার নামে থাকা স্থাবর সম্পদের মধ্যে ফ্ল্যাট, জমি ও দোকান রয়েছে। আর অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে ব্যবসার শেয়ার, ব্যাংক ব্যালেন্স, এফডিআর, সঞ্চয়পত্র এবং যাত্রী পরিবহনের বাস।

মামলাটির তদন্ত করেন দুদকের উপপরিচালক (বিশেষ অনুসন্ধান ও তদন্ত–১) মুহাম্মদ জয়নাল আবেদীন। তদন্ত শেষে তিনি অভিযোগপত্র দাখিলের সুপারিশ করেন।