গত মঙ্গলবার রাতে শুরু হওয়া বৃষ্টিতে নগরের ডিসি সড়কসহ ২ নম্বর গেট, আগ্রাবাদের চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল, চকবাজার, কাতালগঞ্জ, কাপাসগোলা, চান্দগাঁও, বাকলিয়া, বহদ্দারহাট, হালিশহরের ওয়াপদাসহ নগরের ১৫টি এলাকায় জলাবদ্ধতা হয়েছে। গতকাল দুপুর পর্যন্ত এসব এলাকায় পানি জমেছিল।

বর্ষা মৌসুম শুরুর আগে থেকেই এবার চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতার ভোগান্তি শুরু হয়। বর্ষায় এ দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। গত আড়াই মাসে অন্তত সাত দফা ডুবেছে চট্টগ্রাম। এর মধ্যে গত জুনে টানা ছয়-সাত দিন পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গিয়েছিল। গতকালের ভারী বৃষ্টিতে আবারও জলাবদ্ধতা দেখা দিল।

চট্টগ্রাম আবহাওয়া দপ্তর থেকে জানানো হয়, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ছয়টা থেকে গতকাল সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত চট্টগ্রামে ১৫৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এ বৃষ্টি আরও দু-তিন দিন অব্যাহত থাকবে।

চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা দূর করতে বর্তমানে চারটি প্রকল্পের কাজ চলছে। এতে ব্যয় হচ্ছে ১০ হাজার ৯২১ কোটি টাকা। তবে এখনো মুক্তি মেলেনি জলাবদ্ধতা থেকে। চার বছর ধরে প্রকল্পগুলোর কাজ চললেও জলাবদ্ধতার তেমন কোনো উন্নতি হয়নি; বরং একটু ভারী বৃষ্টি হলেই নগরের অধিকাংশ এলাকায় পানি জমে যাচ্ছে। এ পানি জমে থাকছে দিনের পর দিন।

ডিসি সড়ক এলাকার বাসিন্দা আনিসুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ থেকে আমাদের যেন মুক্তি নেই। কিছুদিন আগে বৃষ্টি না থাকলেও জোয়ারের পানিতে রাস্তাঘাট ঘণ্টার পর ঘণ্টা ডুবে ছিল। এখন বৃষ্টি শুরু হতেই পানিতে তলিয়ে গেল অলিগলি ও রাস্তা।’

গতকাল সরেজমিনে দেখা যায়, নগরের নিচু এলাকায় সকালে পানি জমে ছিল। এর মধ্যে আগ্রাবাদে চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের নিচতলা পানিতে ডুবে আছে। হাসপাতালের রোগীর স্বজনদের জন্য রাখা আসনগুলো প্রায় পানিতে তলিয়ে গেছে। এর মধ্যে জরুরি প্রয়োজনে চলাচল করতে হচ্ছে রোগী ও রোগীর স্বজনদের। এভাবে পানি জমে থাকায় তাঁদের দুর্ভোগ চরমে ওঠে।

সানজিদা আক্তার নামের এক রোগীর অভিভাবক গতকাল সকালে প্রথম আলোকে বলেন, মঙ্গলবার রাত থেকে পানি জমে আছে। এখনো পানি নামছে না। কী যে কষ্ট, তা কাউকে বোঝানো যাবে না।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনাবিষয়ক স্থায়ী কমিটির সভাপতি মোবারক আলী প্রথম আলোকে বলেন, জলমগ্ন এলাকাগুলোতে পানি যাতে দ্রুত নেমে যায়, সে জন্য সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে ক্র্যাশ প্রোগ্রাম অব্যাহত রয়েছে। নালা-নর্দমা ও খালগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন