পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় ন্যায়বিচার এবং শিশু সুরক্ষায় জরুরি পদক্ষেপের দাবি
রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় গভীর শোক, তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কোয়ালিশন ফর অ্যাডভান্সিং ইকুয়ালিটি অ্যান্ড জাস্টিস। কোয়ালিশন মনে করে, এই নৃশংস ঘটনা শুধু একটি শিশুর জীবন কেড়ে নেওয়ার ঘটনা নয়; এটি বাংলাদেশে শিশুদের সুরক্ষা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতে জবাবদিহি এবং সুরক্ষা ব্যবস্থার গুরুতর ঘাটতির বিষয়টিও নতুন করে সামনে এনেছে।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স, জাগো ফাউন্ডেশন, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন, অক্সফাম ইন বাংলাদেশ, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ, সেভ দ্য চিলড্রেন ইন বাংলাদেশ এবং ওয়াটারএইড বাংলাদেশকে নিয়ে গঠিত কোয়ালিশন ফর অ্যাডভান্সিং ইকুয়ালিটি অ্যান্ড জাস্টিসের পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতিতে এই ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করা হয়। পাশাপাশি ১০ দফা দাবি জানানো হয়।
কোয়ালিশনের দাবির মধ্যে রয়েছে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় অবিলম্বে নিরপেক্ষ ও শিশু-সংবেদনশীল তদন্ত নিশ্চিত করা এবং দায়ীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা; স্বাধীন শিশু সংস্কার কমিশন গঠন করা; শিশু নির্যাতন ও যৌন সহিংসতার সব মামলায় তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া শিশুবান্ধব করা; নির্যাতনের শিকার শিশু ও তাদের পরিবারের জন্য শক্তিশালী সুরক্ষা, চিকিৎসা, মনোসামাজিক সহায়তা, আইনি সহায়তা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা; ভয়ভীতি, আপস, প্রভাব বা অন্য কোনো উপায়ে মামলা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা প্রতিরোধ করা।
শিশুবিষয়ক একটি পৃথক অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করা ছাড়াও বিদ্যালয়, কমিউনিটি, অনলাইন পরিসর এবং থানায় শিশু সুরক্ষাব্যবস্থা জোরদার করা; শিশু নির্যাতন নিয়ে নীরবতা ভাঙতে দেশব্যাপী সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা; শিশু নির্যাতনের ঘটনার জন্য স্বাধীন পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা এবং জাতীয় তথ্যভান্ডার তৈরি করার দাবিও জানিয়েছে কোয়ালিশন।
শিশুদের বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতা, নির্যাতন, ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে উল্লেখ করে কোয়ালিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, পল্লবীর ঘটনা সেই বৃহত্তর বাস্তবতার প্রতিফলন, যেখানে শিশুদের নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং সহিংসতামুক্ত পরিবেশে বেড়ে ওঠার অধিকার গুরুতরভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে। এ ধরনের অধিকার লঙ্ঘন কোনোভাবেই সহনীয় নয়।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের তথ্য তুলে ধরে কোয়ালিশন বলছে, চলতি বছরের প্রথম চার মাসেই ১ হাজার ২৮ জন নারী ও মেয়েশিশু যৌন সহিংসতাসহ বিভিন্ন ধরনের সহিংসতার শিকার হয়েছে; এর মধ্যে মেয়েশিশুর বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনা ৪৭৯টি।
যৌন হয়রানি প্রতিরোধে প্রস্তাবিত আইন দ্রুত প্রণয়ন করতে হবে উল্লেখ করে কোয়ালিশন আরও বলেছে, পল্লবীর শিশুটির জন্য ন্যায়বিচার বাংলাদেশের প্রতিটি শিশুর নিরাপত্তা ও মর্যাদার দাবি। শিশু সুরক্ষা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক, আইনগত ও নৈতিক দায়িত্ব।
শিশু হত্যা, ধর্ষণ ও নির্যাতনের ঘটনায় উদ্বেগ এইচআরএসএসের
পল্লবীতে আট বছরের শিশু ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনাসহ সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে শিশু হত্যা, ধর্ষণ ও নির্যাতনের ধারাবাহিক ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়ে পৃথক বিবৃতি দিয়েছে হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)।
এইচআরএসএসের নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এই বিবৃতিতে অবিলম্বে এসব শিশু হত্যা ও ধর্ষণের সব ঘটনার দ্রুত, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের যথাযথ প্রয়োগ, বিনা মূল্যে আইনি সহায়তা, ভুক্তভোগী পরিবারকে নিরাপত্তা ও ক্ষতিপূরণ, চিকিৎসা ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার দাবি জানায় মানবাধিকারবিষয়ক বেসরকারি এই প্রতিষ্ঠান।