১৪ জানুয়ারি রাতে ছয়জন একটি স্থানে আড্ডা দিয়েছিলেন। সেখান থেকে ফিরে তাঁরা অসুস্থ হন। ঘটনার দিন রাতে একজন মারা যান। পরে আরও চারজনের মৃত্যু হয়। প্রথমে অসুস্থতার বিষয়টি তাঁরা পরিবারের সদস্যদের কাছে গোপন করেন। মারা যাওয়া পাঁচজন হলেন কুলিয়ারচর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. গিয়াস উদ্দিন ও জহির রায়হান, হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক গোবিন্দ চন্দ্র বিশ্বাস, রিকশাচালক শাহজাহান মিয়া এবং চা দোকানদার লিটন মিয়া। ওই আড্ডায় তাঁদের সঙ্গী কুলিয়ারচর পৌরসভার প্যানেল মেয়র হাবিবুর রহমান ঢাকার একটি হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে আছেন।

মারা যাওয়া পাঁচজনের মধ্যে শাহজাহান মিয়া ছাড়া অন্যরা চিকিৎসা নিয়েছেন জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। হাসপাতালের রেজিস্ট্রারে বলা আছে, গিয়াস উদ্দিন ও জহির রায়হানের শরীরে অ্যালকোহলের (অ্যালকোহল অ্যাবিউসার) উপস্থিতি পাওয়া গেছে। তবে গোবিন্দ্র চন্দ্র বিশ্বাস মারা যান হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে। শাহজাহান ও লিটনের মৃত্যু সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা প্রথম আলোকে বলেন, এ ঘটনায় কোনো মামলা না হলেও স্বণোদিতভাবে ঘটনাটির তদন্ত চলছে। তবে এখনো এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পাঁচজনের মৃত্যু হলেও খবর পাওয়ার আগেই দুজনের লাশ দাফন করায় তাঁদের ময়নাতদন্ত করা যায়নি। তবে অন্য তিনজনের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে।

পাঁচজনের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে ডিএনসির কর্মকর্তারাও তদন্ত করছেন। তাঁদের তদন্ত এখনো প্রাথমিক অবস্থায় আছে। একজন কর্মকর্তার ভাষ্য, রেক্টিফায়েড স্পিরিটের সঙ্গে কথিত শক্তিবর্ধক মিশিয়ে তৈরি তরল পানের পর বিষক্রিয়ায় তারা মারা গেছেন। এটি তৈরি করেছিলেন হোমিও চিকিৎসক।

ডিএনসির ঢাকা বিভাগীয় অতিরিক্ত পরিচালক জাফরুল্ল্যাহ কাজল প্রথম আলোকে বলেন, কুলিয়ারচরের ঘটনা নিয়ে অনুসন্ধান এখনো চলমান আছে। তদন্ত শেষ হলে এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো সম্ভব হবে।

ভেজাল মদ খেয়ে মৃত্যুর ঘটনা নতুন নয়। ২০২১ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত একটি চক্রের সরবরাহ করা ভেজাল মদ পান করে ঢাকা ও গাজীপুরে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছিল। এই ঘটনা তখন ব্যাপক আলোচনায় এসেছিল। প্রায় একই সময়ে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে বগুড়ায় একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে ভেজাল মদপানে ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছিল।

এদিকে ১৯৯৮ সালে গাইবান্ধায় পয়লা বৈশাখের প্রাক্কালে ভেজাল মদ পান করে ৭১ জনের প্রাণহানি হয়। সে সময় এই ঘটনা নিয়ে তোলপাড় হয়েছিল। স্থানীয় একটি হোমিও চিকিৎসকের কাছ থেকে রেক্টিফায়েড স্পিরিট কিনে এই মদ তৈরি করা হয়েছিল। গাইবান্ধা ট্র্যাজেডির পরের বছরই ১৯৯৯ সালের ৭ মে নরসিংদীতে বিষাক্ত মদ পানে শতাধিক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।