ঢাবিতে অনশনের ৫০ ঘণ্টা পার: উপাচার্যের আহ্বানেও অনড় শিক্ষার্থীরা
জুলাই বিপ্লব ও গণভোটের রায় রক্ষাসহ তিন দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে শিক্ষার্থীদের আমরণ অনশনের ৫০ ঘণ্টা পার হয়েছে। শুক্রবার রাতে অনশনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দেখা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। তিনি শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙার অনুরোধ করলেও তাঁরা নিজেদের দাবিতে অনড় রয়েছেন।
শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপাচার্য রাজু ভাস্কর্যে গিয়ে অনশনরত শিক্ষার্থীদের কথা শোনেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সায়মা হক বিদিশা, প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমেদসহ অন্য শিক্ষকেরা উপস্থিত ছিলেন।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে উপাচার্য বলেন, ‘তোমাদের দাবিগুলো রাজনৈতিক ইস্যু। এর সিদ্ধান্ত সংসদে হবে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে নয়। তোমাদের অসুস্থতা নিয়ে আমি চিন্তিত। অনশন ভেঙে ঘরে ফেরো, আমি তোমাদের দাবিগুলো সরকারের কাছে পৌঁছে দেব।’
তবে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের এই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেন। অনশনরত শিক্ষার্থী সাদিক মুনওয়ার মুনেম বলেন, ‘আমরা কোনো সান্ত্বনা নিয়ে ফিরব না। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এখান থেকে নড়ব না। এখান থেকে আমাদের দেহ যাবে সংসদে, নয়তো দাফন হবে।’ উপাচার্য চলে যাওয়ার পর মুনেম সাংবাদিকদের বলেন, উপাচার্যের আচরণে মনে হয়েছে তিনি তাঁদের দাবির প্রতি ন্যূনতম শ্রদ্ধাশীল নন।
অনশনে অংশ নিচ্ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী সাদিক মুনওয়ার মুনেম, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সাকিবুর রহমান এবং নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শেখ মোস্তাফিজ। তাঁরা গত বুধবার রাত থেকে কোনো খাবার বা চিকিৎসা গ্রহণ ছাড়াই অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন।
এদিকে অনশনকারীদের সঙ্গে সংহতি জানাতে রাজু ভাস্কর্যে ভিড় করছেন জুলাইয়ের শহীদ পরিবারের সদস্য ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। গত কয়েক দিনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, জাতীয় নাগরিক পার্টির নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, ডাকসু ভিপি আবু সাদিক কায়েম এবং বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্য অনশনকারীদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন।