ইভিএমের ব্যালট ইউনিটে পছন্দের প্রতীকের পাশে থাকা সাদা বোতামে চাপ দিতে হয়। এরপর ব্যালট ইউনিটের সবুজ বোতাম চেপে ভোট দেওয়া নিশ্চিত করা হয়। এখন ইসি চাইছে এক চাপেই ভোট সম্পন্ন করার পদ্ধতি চালু করতে। অর্থাৎ প্রতীকের পাশের সাদা বোতাম চাপ দিলেই ভোট দেওয়া হয়ে যাবে।

বিদ্যমান পদ্ধতিতে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে একজন ভোটার ভুলে কোনো প্রতীকের পাশের বাটনে চাপ দিলেও তা পরিবর্তন করার সুযোগ পান। কিন্তু এক চাপে ভোট দেওয়ার পদ্ধতি চালু হলে ওই সুযোগ আর থাকবে না।

ইসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এক চাপে ভোট দেওয়ার পদ্ধতি চালু করা হলে ভোট দিতে আগের চেয়ে কিছুটা কম সময় লাগবে। ইভিএমে অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলোতে অনেক কেন্দ্রে ভোট দিতে বিলম্ব হতে দেখা গেছে। এই পরিবর্তন আনতে বাড়তি তেমন কিছু করতে হবে না। শুধু একটি বোতামের ফাংশন (কার্যকারিতা) বন্ধ রাখতে হবে।

নির্বাচন কমিশনার মো. আহসান হাবিব খান প্রথম আলোকে বলেন, ইভিএমে ভোট দেওয়ার পদ্ধতি আরও সহজ ও ভোটারবান্ধব করার বিষয়ে তাঁরা চিন্তা করছেন। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

default-image

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি, জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টিসহ ইসিতে নিবন্ধিত ৩৯টি দলের বড় অংশই ইভিএম নিয়ে সংশয় ও সন্দেহ প্রকাশ করে আসছে।

কাজী হাবিবুল আউয়ালের নেতৃত্বাধীন বর্তমান কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর এই সন্দেহ দূর করতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে মতবিনিময় করেছিল। গত জুনে অনুষ্ঠিত ওই মতবিনিময়েও ইভিএম নিয়ে বেশির ভাগ দলের সংশয় ও সন্দেহ দূর হয়নি; বরং ইভিএমের বিপক্ষেই বেশির ভাগ দলের অবস্থান।

যে যন্ত্র মানুষকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করে, সে যন্ত্র ব্যবহারের কোনো যুক্তি নেই। ইভিএমে ভিভিপিএটি যুক্ত করা বা সমস্যার সমাধান করবে, এমন পরিবর্তন আনার বিষয়ে ইসির আসলে কোনো আগ্রহ নেই।
বদিউল আলম মজুমদার, নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক

সন্দেহ, সংশয়, অবিশ্বাস, আস্থাহীনতা এবং বিতর্ক থাকলেও আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনেই ইভিএমে ভোট গ্রহণ চায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। ইভিএম নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে গত জুন মাসে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় বিষয়টি স্পষ্ট করেই বলেছে দলটি। ওই সভা শেষে বেরিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘আমরা ৩০০ আসনেই ইভিএম চাই। মন থেকে চাই। চেতনা থেকে চাই।’

গত ফেব্রুয়ারি মাসে বর্তমান নির্বাচন কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর শিক্ষাবিদ, বিশিষ্ট নাগরিক, সম্পাদক, সাংবাদিকসহ অংশীজনদের সঙ্গে সংলাপ করেছিল। প্রতিটি সংলাপে ঐকমত্য ছাড়া ইভিএম ব্যবহার না করার পরামর্শ এসেছে। কারও কারও পরামর্শ ছিল, ইভিএমে ভোটার ভেরিফায়েবল পেপার অডিট ট্রেইল (ভিভিপিএটি) যুক্ত করা। এটি যুক্ত করা হলে একজন ভোটার ভোট দেওয়ার পর একটি কাগজ (প্রিন্ট করা) বেরিয়ে আসবে। এতে ভোটার কোন প্রতীকে ভোট দিয়েছেন, তা দেখতে পারবেন। তবে কাগজটি ইভিএমের পাশে একটি বাক্সে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জমা হবে। যদিও ভিভিপিএটি যুক্ত করার বিষয়ে ইসি এখনো কিছু ভাবছে না।

এদিকে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আগামী রোববার নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ শুরু করতে যাচ্ছে ইসি। সংলাপের নির্ধারিত কোনো আলোচ্যসূচি নেই। তবে গতবারের মতো এবারের সংলাপেও ইভিএম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়ে পরিণত হতে পারে।

দেশের ২৬টি নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থার সঙ্গে জুন মাসে মতবিনিময় করেছিল ইসি। এসব সংস্থা বলেছিল, ইভিএমে মানুষের বিশ্বাস কম। আবার ভোট দেওয়ার গোপন কক্ষে এখন ‘জিন’ বা ডাকাতের উপস্থিতি থাকে।

এই জিন অন্যের ভোট দিয়ে দেয় (ইভিএমের বাটন চেপে)। সুষ্ঠু ভোট করতে গেলে আগে এই জিন দূর করতে হবে। বিতর্ক ও সন্দেহ থাকায় আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ইসিকে আরও ভাবতে পরামর্শ দেন বিভিন্ন পর্যবেক্ষক সংস্থার প্রতিনিধিরা।

আস্থাহীনতা ও বিতর্কের মধ্যেই ইভিএমে কিছুটা পরিবর্তন আনার বিষয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার প্রথম আলোকে বলেন, যে যন্ত্র মানুষকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করে, সে যন্ত্র ব্যবহারের কোনো যুক্তি নেই। ইভিএমে ভিভিপিএটি যুক্ত করা বা সমস্যার সমাধান করবে, এমন পরিবর্তন আনার বিষয়ে ইসির আসলে কোনো আগ্রহ নেই।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন