পার্বত্য মন্ত্রণালয়ে অপাহাড়ি প্রতিমন্ত্রীকে প্রত্যাহারের দাবি
নতুন সরকারকে অভিনন্দন জানিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে অপাহাড়ি প্রতিমন্ত্রীকে প্রত্যাহার ও দপ্তর পুনর্বণ্টনের আহ্বান জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলন।
আজ সোমবার দেওয়া এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানায় পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নের দাবিতে গঠিত নাগরিক এই জোট। এই জোটের যুগ্ম সমন্বয়কারী মানবাধিকার কর্মী জাকির হোসেন ও অধ্যাপক খায়রুল ইসলাম চৌধুরী আজ গণমাধ্যমে যৌথ বিবৃতি পাঠিয়ছেন। তাঁরা এই আহ্বান জানিয়েছেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে জয়ী হওয়া বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের কাছে।
বিবৃতিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল গণরায় নিয়ে বিজয়ী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নতুন সরকারকে অভিনন্দন জানানো হয়। বিবৃতিদাতারা আশা করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক পথে বাংলাদেশের নতুন এই অভিযাত্রায় পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন এবং জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অধিকারসহ সব প্রান্তিক জাতিগোষ্ঠীর মানবাধিকারের বিষয়গুলো প্রাধান্য পাবে।
বিবৃতিতে বলা হয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলন পর্যবেক্ষণ করছে যে নবগঠিত মন্ত্রিসভায় পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে একজন পাহাড়িকে পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়ার পাশাপাশি আরেকজন অপাহাড়িকে প্রতিমন্ত্রীর পদে রাখা হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে অপাহাড়ি প্রতিমন্ত্রী দায়িত্ব প্রদান ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী সংগ্রামের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক উত্তরণে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যার রাজনৈতিক সমাধানের লক্ষ্যে জনসংহতি সমিতির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সংলাপ শুরু করে। তারই ধারাবাহিকতায় ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
বিবৃতিদাতারা আরও বলেন, ২০০১ সালে বিএনপি পুনরায় ক্ষমতায় এসে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নপ্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পার্বত্য জেলার তিনটি আসনে পাহাড়ের ভোটাররা বিপুল ভোটে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের নির্বাচিত করে। এতে প্রতীয়মান হয়, বিএনপির প্রতি পাহাড়ের মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস রয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, বিএনপি তাদের ৩১ দফা কর্মসূচির মাধ্যমে বহুজাতির ‘রেইনবো নেশন’ বিনির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষ বিএনপির ‘রেইনবো নেশন’কে স্বাগত জানিয়েছে। বিএনপি ঘোষিত বহুজাতির রেইনবো নেশনের বনিয়াদ মজবুত করার লক্ষ্যে নবগঠিত সরকারের উচিত হবে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ অপাহাড়ি প্রতিমন্ত্রীকে পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয় থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়া এবং দপ্তর পুনর্বণ্টন করা।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ২০০১ সালে চুক্তি বাস্তবায়নপ্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া যেমন রাষ্ট্রনায়কোচিত ভূমিকা রেখেছিলেন, ঠিক তেমনি তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করে নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নপ্রক্রিয়া সচল রাখতে বিচক্ষণ ভূমিকা রাখবেন বলে দেশবাসীর প্রত্যাশা।