রাজধানীর একটি হোটেলে ‘উন্নয়ন নিয়ে বিআইডিএসের বার্ষিক সম্মেলন ২০২২: অনিশ্চিত ও বিভাজনকারী বিশ্বে কোভিড–পরবর্তী চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক তিন দিনব্যাপী সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন শুক্রবার ‘দক্ষিণ এশিয়ায় নারীর কাজ’ শীর্ষক অধিবেশনে আলোচকেরা বলেন, উচ্চশিক্ষিত নারীর তুলনায় কম শিক্ষিত নারীরা বাইরে কাজ করার ক্ষেত্রে বেশি পিছিয়ে। শ্রমবাজারে নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে শিক্ষার হার বাড়াতে হবে।

অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অবস্থিত পপুলেশন কাউন্সিলের জ্যেষ্ঠ সহযোগী সাজেদা আমিন।

প্যানেল আলোচনায় অংশ নিয়ে যুক্তরাজ্যের লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকসের অধ্যাপক নায়লা কবীর বলেন, দেশে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক চর্চা রয়েছে যে কী করা যাবে আর কী করা যাবে না। সেই চর্চা থেকে বিনা পারিশ্রমিকে বাড়িতে কাজ করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে নারীর ওপর। বাড়ির বাইরে নারীর কাজ করার ক্ষেত্রে পুরুষদের কাছ থেকেই বাধা আসে। বিবাহিতদের ক্ষেত্রে স্বামীর বাধায় নারীর চাকরির উদ্যোগ থেমে যায়। অনেক স্বামী এমনটা চান, স্ত্রী আয় করতে পারবেন, কিন্তু সেটা হতে হবে ঘরে বসে। আবার অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, স্ত্রী বাইরে কাজ করায় স্বামীকে সমাজের তিরস্কারের মুখে পড়তে হয়।

শ্রমবাজারে নারীর অংশ নেওয়াকে মর্যাদা দেওয়ার আহ্বান জানান যুক্তরাষ্ট্রের করনেল ইউনিভার্সিটির বৈশ্বিক উন্নয়ন বিভাগের সাবেক শিক্ষক ও ভিজিটিং স্কলার অলকা বসু।

অনলাইনে যুক্ত হয়ে তিনি বলেন, শ্রমে অংশগ্রহণ নারীর জন্য কল্যাণকর। কাজের মাধ্যমে নারী পরিবারসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক বিষয়ে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারে। নারীর এ ক্ষমতায়নকে প্রচলিত পুরুষতন্ত্র হুমকি বলে মনে করে। বিশ্বের যেকোনো দেশে নারীর কাজে অংশগ্রহণ দেশটির সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন, উৎপাদন, মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখে।

অনলাইনে যুক্ত হয়ে নারীর শিক্ষা ও চাকরি নিয়ে কথা বলেন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ডের অধ্যাপক সোনালদে দেশাই। তিনি এ বিষয়ে ভারতের তথ্য তুলে ধরে বলেন, এক গবেষণায় দেখা গেছে, ৭১টি দেশের মধ্যে ১৪টি দেশে প্রাথমিক পর্যায় পর্যন্তও পড়ালেখা করেননি, এমন নারীর তুলনায় মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত পড়েছেন এমন নারীরা শ্রমবাজারে কম অংশ নিচ্ছেন। এ অসমতার দিক দিয়ে রুয়ান্ডার পরই ভারতের অবস্থান। তিনি আরও বলেন, নিজ কর্মসংস্থানে নারীরা বেশি যুক্ত থাকায় করোনা মহামারির সময় কাজ হারানোর দিক দিয়ে পুরুষের তুলনায় নারীরা কম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে কাজ হারানো পুরুষেরা করোনা-পরবর্তী সময়ে যতটা কাজ ফিরে পেয়েছেন, নারীরা ততটা পাননি।