ওরা যমজ ছিল, হারিয়ে গেল নিউমোনিয়ায়

শিশু ওয়ার্ডে কাচের ঘেরাটোপে শুয়ে আছে ছয় মাস বয়সী হাসান। ১৯ দিন আগেই একই লড়াইয়ে মৃত্যু হয়েছে তার যমজ ভাই হোসেনের। ৩১ জানুয়ারি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেছবি: প্রথম আলো

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে জায়গা নেই, ২১ শয্যার এই ওয়ার্ডে রোগীর সংখ্যা ৯৪। তাই মেঝেতে পাটি পাতা শয্যার ওপরও শুয়ে আছে অসুস্থ শিশুরা—তাদের কারও নিশ্বাস দ্রুত পড়ছে। ২০৮ নম্বর কক্ষের এই ভিড়ের এক কোণে কাচের ঘেরাটোপে শুয়ে আছে ছয় মাস বয়সী হাসান। পাশে বসে মা আর নানি তাকিয়ে আছেন নির্বাক চোখে। মাত্র ১৯ দিন আগেই একই লড়াইয়ে হেরে গেছে হাসানের যমজ ভাই হোসেন।

গত ৩১ জানুয়ারি হাসপাতালে দেখা হয় শিশু হাসানের মা মীম আক্তার (১৬) আর নানি কুলসুম বেগমের (৪০) সঙ্গে। হাসান নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত। তার শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল।

সেদিন হাসানের অবস্থা বেশ গুরুতর ছিল। দরকার নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ)। কিন্তু হাসপাতালে শিশুদের আইসিইউ শয্যা খালি নেই। অপেক্ষা করতে হবে। স্বজনেরা তখন হাসানকে অ্যাম্বুলেন্সে নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে আইসিইউ খুঁজতে থাকেন। ৩১ জানুয়ারি রাত ১২টার দিকে ধানমন্ডির একটি বেসরকারি হাসপাতালে হাসানেরও মৃত্যু হয়। যমজ দুই ভাই—১৯ দিনের ব্যবধানে দুজনই চলে গেল ঠান্ডাজনিত অসুস্থতায়।

ফার্মেসির ওষুধ, তারপর নিভে যাওয়া জীবন

হাসান–হোসেনের বাবা মো. আমিনুল ইসলাম গাজীপুরের একটি জুতার কারখানায় কাজ করেন। এই যমজ ছিল তাঁদের প্রথম সন্তান।

৪ ফেব্রুয়ারি মুঠোফোনে কথা হয় হাসান–হোসেনের নানি কুলসুম বেগমের সঙ্গে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ৯ জানুয়ারি গাজীপুর থেকে বাড্ডায় মায়ের সঙ্গে নানিবাড়ি বেড়াতে আসে যমজ হাসান–হোসেন। তখন তাদের ঠান্ডা–কাশি ছিল। পরদিন ১০ জানুয়ারি বাড়ির পাশের একটি ফার্মেসির কর্মীর কাছ থেকে ওষুধ কিনে খাওয়ানো হয়। ১১ জানুয়ারি বাড়িতেই মৃত্যু হয় ছোট্ট হোসেনের।

রাজধানীতে শীত তেমন নেই। তবু হাসপাতালগুলোয় ঠান্ডাজনিত রোগে শিশুদের ভিড়। নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশু রোগী সবচেয়ে বেশি। এ ছাড়া জ্বর, ব্রঙ্কিওলাইটিস (দুই বছরের কম বয়সী শিশুদের ফুসফুসের ক্ষুদ্র শ্বাসনালির ভাইরাসজনিত প্রদাহ) এবং ডায়রিয়া আক্রান্ত শিশুরাও আছে।

পরদিন ১২ জানুয়ারি হাসানকে ভর্তি করা হয় কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে। ২০ জানুয়ারি হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। কিন্তু বাসায় আনার পর সেদিন রাতেই আবার অসুস্থ হয় হাসান। এরপর তাকে দ্রুত নেওয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। আইসিইউ না পেয়ে ছুটতে হয় এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে।

১১ মাস বয়সী আরিফা ইসলাম নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত। ছোট্ট হাতে ক্যানুলা নিয়ে বাবার কোলে বসে আছে সে। ৩১ জানুয়ারি রাজধানীর মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ছবি: প্রথম আলো

হাসান–হোসেনের নানি বলেন, ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত আইসিইউতে শয্যা না পেয়ে তিনি ও শিশুটির মা হাসানকে নিয়ে বিকালে ছুটে যান কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে। সেখানেও আইসিইউর শয্যা খালি পাননি। এরপর বেসরকারি হাসপাতালগুলোয় খুঁজতে থাকেন। রোগীর অবস্থা একেবারেই খারাপ বলে হাসপাতালগুলো তাঁদের ফিরিয়ে দিতে থাকে।

শিশু বিভাগে রোগী যখন বেড়ে যায়, তখন এক শয্যায় দু–তিনজন রোগী রাখতে হয়। এটা অনেক কঠিন কাজ আমাদের জন্য। রোগীরা শেষ আশ্রয় হিসেবে এই হাসপাতালে চলে আসে, ফেরাতে পারি না। এখানে শয্যার তুলনায় তিন গুণ রোগী থাকে। শীতের সময় নিউমোনিয়া একটু বেড়ে যায়। এবারও বেড়েছে।
— ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, পরিচালক, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

কুলসুম বেগম বলেন, ‘আমরা বলছি টাকা দিমু, কিন্তু তারা কয় রোগীর অবস্থা ভালো নয়।’ শেষ পর্যন্ত একটি বেসরকারি হাসপাতালে আইসিইউ পাওয়া গেল। ভর্তিও করানো হয়। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। রাত ১১টার দিকে হাসপাতাল থেকে বলা হয় হাসানের অবস্থা ভালো নয়। তাঁরা যেন দেখে আসেন।

‘আমি আগে যাই। দেখি কাচের ভেতরে ভাই (নাতি) চুপ করে শুয়ে আছে। ডাকলাম—ও ভাই! মনে হইল যেন তাকাইল।’ কথাগুলো বলতে বলতে হাহাকার করে ওঠেন কুলসুম বেগম। তিনি বলেন, ‘ওরা যমজ ছিল। একজন চলে গেছিল, আরেকজনরে নিয়া ছিলাম। এখন দুজনই নাই। বুকটা কেমন খালি খালি লাগে!’

শীত নেই, তবু নিউমোনিয়ার ভিড়

রাজধানীর হাসপাতালগুলোয় এখনো ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত শিশুদের ভিড়। নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশু রোগী সবচেয়ে বেশি। এ ছাড়া জ্বর, ব্রঙ্কিওলাইটিস (দুই বছরের কম বয়সী শিশুদের ফুসফুসের ক্ষুদ্র শ্বাসনালির ভাইরাসজনিত প্রদাহ) এবং ডায়রিয়া আক্রান্ত শিশুরাও আছে।

শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের ১ নম্বর ওয়ার্ডের দুটি নিবন্ধন খাতার তথ্য থেকে জানা গেছে, ২ ফেব্রুয়ারি সেখানে ১৪টি শিশু ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ৩টি শিশু নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত। ওই ওয়ার্ডে ৫৬টি শয্যার প্রতিটিতেই রোগী আছে। বেশির ভাগই ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত। এই হাসপাতালে নির্ধারিত শয্যার বাইরে মেঝেতে চিকিৎসা দেওয়া হয় না।

৩১ জানুয়ারি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সরেজমিনে দেখা গিয়েছিল, ২০৮ নম্বর শিশু ওয়ার্ডের ৯৪টি শিশুর মধ্যে ৬৬টি শিশুই নিউমোনিয়া আক্রান্ত। ২১০ নম্বর ওয়ার্ডে শয্যাসংখ্যা ১৪। এ ওয়ার্ডের ৫২ শিশুর মধ্যে ১৮টি শিশু নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত।

৩ ফেব্রুয়ারি আবারও ওয়ার্ড দুটি ঘুরে দেখা গেল, ২০৮ নম্বর ওয়ার্ডের ৮১ জনের মধ্যে ৬১ জন এবং ২১০ নম্বর ওয়ার্ডে ৪৩ জনের মধ্যে ১৪ জন নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের ২০৮ নম্বর কক্ষ। ৩ ফেব্রুয়ারি
ছবি: প্রথম আলো

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, ‘শিশু বিভাগে রোগী যখন বেড়ে যায়, তখন এক শয্যায় দু–তিনজন রোগী রাখতে হয়। এটা অনেক কঠিন কাজ আমাদের জন্য। রোগীরা শেষ আশ্রয় হিসেবে এই হাসপাতালে চলে আসে, ফেরাতে পারি না। এখানে শয্যার তুলনায় তিন গুণ রোগী থাকে। শীতের সময় নিউমোনিয়া একটু বেড়ে যায়, এবারও বেড়েছে।’

এখন নিউমোনিয়া বাড়ার কারণ শুষ্ক আবহাওয়া। বাতাসে ধূলিকণার পরিমাণ বেশি। বিশেষ করে ঢাকা শহরে শিশুরা শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়ায় বেশি আক্রান্ত হচ্ছে।
—মো. নূর উদ্দীন তালুকদার, সহযোগী অধ্যাপক, শিশু বিভাগ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

মো. আসাদুজ্জামান আরও বলেন, হাসপাতালে ১৫০টির বেশি আইসিইউ শয্যা আছে। শিশুদের জন্য আছে ১৬টি শয্যা। রোগীর তুলনায় এ শয্যাসংখ্যা যথেষ্ট নয়।

শুধু ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নয়, রাজধানীর মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালেও একই চিত্র।

৩১ জানুয়ারি মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, বাবার কোলে নিউমোনিয়া আক্রান্ত ১১ মাস বয়সী আরিফা ইসলাম আরা। বাবা মো. হৃদয় বলেন, ‘প্রথমে ডায়রিয়া নিয়ে বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করাই। দুই হাসপাতাল ঘুরে এখানে আসি। ডাক্তার বলছেন, নিউমোনিয়া আর রক্তে ইনফেকশন।’

৩ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের ১ নম্বর ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা হয় মা ফারজানা আক্তার (২৫) ও তাঁর এক বছর বয়সী মেয়ে ফারিশা সাবার সঙ্গে।

মা ফারজানা বলেন, তাঁরা সিলেট থেকে এসেছেন। ২৫ ডিসেম্বর থেকে তাঁর মেয়ের কাশি ও জ্বর। স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করেছিলেন। পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে ঢাকায় শিশু হাসপাতালে সন্তানকে ভর্তি করেন ১৪ জানুয়ারি। তাঁর সন্তান নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত; হৃদ্‌রোগও শনাক্ত হয়েছে।

শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের ১ নম্বর ওয়ার্ডের দুটি নিবন্ধন খাতার তথ্য থেকে জানা গেছে, ২ ফেব্রুয়ারি সেখানে ১৪টি শিশু ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ৩টি শিশু নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত। ওই ওয়ার্ডে ৫৬টি শয্যার প্রতিটিতেই রোগী আছে। বেশির ভাগই ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত। এই হাসপাতালে নির্ধারিত শয্যার বাইরে মেঝেতে চিকিৎসা দেওয়া হয় না।

শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের ১ নম্বর ওয়ার্ডে ৫৬টি শয্যার প্রতিটিতেই রোগী আছে। বেশির ভাগই ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত। ৩ ফেব্রুয়ারি
ছবি: প্রথম আলো

শিশুমৃত্যুর ২৪ শতাংশ নিউমোনিয়ায়

আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি) ২০২৩ সালের নভেম্বরে ‘শিশুদের নিউমোনিয়া: আমরা কি যথেষ্ট করছি?’ শিরোনামের একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ওই অনুষ্ঠানে বলা হয়, নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে দেশে প্রতিবছর ৫ বছরের কম বয়সী প্রায় ২৪ হাজার শিশুর মৃত্যু হচ্ছে।

আইসিডিডিআরবির জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী মোহাম্মদ জোবায়ের চিশতী বলেন, ২০২২ সালে সারা বিশ্বে ৫ বছরের কম বয়সী প্রায় ৫০ লাখ শিশুর মৃত্যু হয়েছিল। এর ১৪ শতাংশ ছিল নিউমোনিয়ায় মৃত্যু। একই সময়ে বাংলাদেশে ৫ বছরের কম বয়সী প্রায় এক লাখ শিশুর মৃত্যু হয়। এর মধ্যে প্রায় ২৪ হাজার বা ২৪ শতাংশই ছিল নিউমোনিয়ায় মৃত্যু।

মোহাম্মদ জোবায়ের চিশতী বলেন, নিউমোনিয়ায় শিশুমৃত্যুর বৈশ্বিক হারের চেয়ে বাংলাদেশে মৃত্যুহার বেশি। গত চার–পাঁচ বছর মৃত্যুর সংখ্যা একই আছে। পরিস্থিতির উন্নতি দেখা যাচ্ছে না। অপুষ্টি, অপরিণত শিশুর জন্ম, ঘরের মধ্যে বায়ুদূষণ, অ্যান্টিবায়োটিক অকার্যকর হয়ে পড়া এবং রক্তে অক্সিজেনের স্বল্পতা ঠিক সময়ে শনাক্ত করতে না পারা—এগুলো নিউমোনিয়ায় মৃত্যুঝুঁকি বাড়ায়।

মোহাম্মদ জোবায়ের চিশতী বলেন, ঘরের ভেতরের বায়ুর মান উন্নত করে নিউমোনিয়ায় মৃত্যু অর্ধেক করা যায়, হাত ধোয়ার অভ্যাস ২১ শতাংশ মৃত্যু কমায়, জন্মের পর প্রথম ছয় মাস শিশু শুধু মায়ের দুধ খেলে নিউমোনিয়ায় মৃত্যু ১৫ শতাংশ কমে যায়।

যেভাবে বুঝবেন শিশুর নিউমোনিয়া হয়েছে

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. নূর উদ্দীন তালুকদার প্রথম আলোকে বলেন, এখন নিউমোনিয়া বাড়ার কারণ শুষ্ক আবহাওয়া। বাতাসে ধূলিকণার পরিমাণ বেশি। বিশেষ করে ঢাকা শহরে শিশুরা শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়ায় বেশি আক্রান্ত হচ্ছে।

এই চিকিৎসক বলেন, নিউমোনিয়ার লক্ষণ হলো জ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্ট। নিউমোনিয়া হলে জ্বরের তীব্রতা বেশি থাকে। শিশু নেতিয়ে পড়তে পারে। আবার অনেক সময় খেতে পারে না।

মো. নূর উদ্দীন তালুকদার আরও বলেন, মা-বাবা অনেক সময় সাধারণ জ্বর ভেবে বুঝতে পারেন না। তাই অনেক সময় হাসপাতালে আনতে বেশি দেরি হয়ে যায়। এ ক্ষেত্রে কিছু বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে—শূন্য থেকে ২ মাস বয়সের শিশু যদি মিনিটে ৬০ বারের বেশি শ্বাস নেয়, সেটাকে বলা হয়, দ্রুত শ্বাস। দুই মাস থেকে এক বছরের শিশুর জন্য মিনিটে ৫০ বার এবং ১ থেকে ৫ বছরের শিশুর জন্য মিনিটে ৪০ বার শ্বাসকে দ্রুত শ্বাস বলা হয়। দ্রুত শ্বাস দেখা দিলে কোনোভাবেই দেরি করা যাবে না, দ্রুত শিশুকে হাসপাতালে নিতে হবে।