ইরানে ইসরায়েলের হামলার জেরে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে ওই অঞ্চলের সব গন্তব্যে সাময়িকভাবে ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে। আটকা পড়েছেন কয়েক হাজার যাত্রী। এ অবস্থায় হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পরিদর্শন করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম (রিতা)।
আজ শনিবার সন্ধ্যায় তিনি বিমানবন্দরে যান। এ সময় তিনি টার্মিনালের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং আটকে পড়া যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন।
মন্ত্রী আফরোজা খানম প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিমানবন্দরে আটকে পড়া যাত্রীরা যাতে কোনো দুশ্চিন্তা না করেন, সে জন্য সেখানে গিয়ে তাঁদের সঙ্গে কথা বলেছি। যাত্রীদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। যাত্রীদের লাগেজ ফেরত পেতে যেন কোনো অসুবিধা না হয়, সে বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে বিমানবন্দরে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, যাত্রীদের যাতে কোনো ধরনের দুর্ভোগ বা ভোগান্তি না হয়, সে জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এর আগে আজ বিকেলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, দাম্মাম, জেদ্দা, মদিনা, রিয়াদ, শারজাহ, আবুধাবি, দুবাই, কুয়েতসহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য গন্তব্যে তাদের সব ফ্লাইট পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। এসব গন্তব্যের যাত্রীদের বিমানের সঙ্গে আগাম যোগাযোগ না করে সরাসরি বিমানবন্দরে না যাওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।
এদিকে বিকেলে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ইরানে ইসরায়েলের হামলার পর বাহরাইন, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত (দুবাই), কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে। সংশ্লিষ্ট দেশের কর্তৃপক্ষই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে ওই রুটের নির্ধারিত কয়েকটি বাণিজ্যিক ফ্লাইট বাতিল, বিলম্ব অথবা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসগুলোকে বেশ কিছু নির্দেশনা দিয়েছে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ফ্লাইট বাতিল বা বিলম্বের তথ্য যাত্রীদের খুদে বার্তা (এসএমএস), ই-মেইল ও কল সেন্টারের মাধ্যমে আগেভাগেই জানাতে হবে। একই সঙ্গে বিমানবন্দরে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের কর্মীদের উপস্থিত থেকে যাত্রীদের প্রয়োজনীয় তথ্য ও দিকনির্দেশনা দিতে হবে।
যাত্রীদের ভোগান্তি এড়াতে পুনর্নির্ধারিত ফ্লাইটের বিষয়ে স্পষ্ট ও সমন্বিত তথ্য দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে নির্দেশনায়।
পাশাপাশি উল্লিখিত রুটে ভ্রমণের পরিকল্পনায় থাকা যাত্রীদের নিজ নিজ এয়ারলাইনস বা ট্রাভেল এজেন্সির সঙ্গে জরুরি ভিত্তিতে যোগাযোগ করে ফ্লাইটের বর্তমান অবস্থা যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।