ইউপিএলের শোরুমে হামলা ও বিক্রয়কর্মীদের হয়রানির ঘটনায় ৩৬ বিশিষ্ট নাগরিকের নিন্দা

বিবৃতিপ্রতীকী ছবি

রাজধানীর বাংলাবাজারে প্রকাশনা সংস্থা ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেডের (ইউপিএল) শোরুমে ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বই বিক্রি বন্ধের দাবিতে হামলা ও বিক্রয়কর্মীদের হয়রানির ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশের ৩৬ জন বিশিষ্ট নাগরিক। এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ও বই বিক্রেতাদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। আজ মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে তাঁরা এ দাবি জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইউপিএলের প্রকাশিত বক্তব্য অনুযায়ী, গতকাল সোমবার কয়েকজন ব্যক্তি শোরুমে এসে আক্রমণাত্মক আচরণ করেন। তাঁরা দোকানের শাটার নামিয়ে দেন এবং দুই বিক্রয়কর্মীকে হয়রানি করেন। এমনকি বিক্রয়কর্মীদের পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে আটকে রাখার অভিযোগও উঠেছে। একটি বইকে কেন্দ্র করে প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের এভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

বিবৃতিতে বিশিষ্ট নাগরিকেরা বলেন, কোনো বইয়ের বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ, সমালোচনা কিংবা বিতর্ক করার অধিকার সবার রয়েছে। কিন্তু সেই অধিকার অন্যের বই প্রকাশ, বিক্রি কিংবা পড়ার অধিকার কেড়ে নেওয়ার সুযোগ দেয় না। কোনো বই নিষিদ্ধ হবে কি না, তা সম্পূর্ণ আইনসম্মত প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হওয়া উচিত; কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ঘোষণা ও চাপের ভিত্তিতে নয়। রাজনৈতিক মতভেদ নির্বিশেষে সব লেখক, প্রকাশক ও পাঠকের জন্য এই নীতি সমানভাবে প্রযোজ্য।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বাংলাদেশের ইতিহাসচর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ। এ বই নিয়ে ভিন্ন মূল্যায়ন থাকতে পারে। তবে সেই ভিন্নমত প্রকাশের সঠিক পথ হলো আলোচনা, গবেষণা ও যুক্তি; বইয়ের দোকানে হামলা বা কর্মীদের হয়রানি নয়। এ ধরনের ঘটনা অব্যাহত থাকলে প্রকাশকেরা স্বাধীনভাবে বই প্রকাশ করতে এবং পাঠকেরা স্বাধীনভাবে বই বেছে নিতে বাধার মুখে পড়বেন।

ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, বিক্রয়কর্মীদের পুলিশ ফাঁড়িতে আটকে রাখার ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা কী ছিল, তা-ও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ইউপিএলের কর্মীসহ সব প্রকাশক ও বই বিক্রেতার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানানো হয়, যাতে তাঁরা ভয়ভীতিহীন পরিবেশে কাজ করতে পারেন।

মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও জ্ঞানচর্চার পরিসর রক্ষা করা রাষ্ট্র ও সমাজ উভয়ের দায়িত্ব উল্লেখ করে বিবৃতিতে লেখক, পাঠক, প্রকাশকসহ সব সচেতন নাগরিককে এ ঘটনার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী বিশিষ্ট নাগরিকদের মধ্যে রয়েছেন মানবাধিকারকর্মী হামিদা হোসেন, ‘নিজেরা করি’র সমন্বয়কারী খুশী কবির; আলোকচিত্রী শহিদুল আলম; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তাসনীম সিরাজ মাহবুব, মোশাহিদা সুলতানা, সামিনা লুৎফা, রুশাদ ফরিদী; ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফিরদৌস আজীম; আদিবাসী অধিকার সুরক্ষাকর্মী রাণী ইয়েন ইয়েন, সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সারা হোসেন ও শরীফ ভূঁইয়া; লেখক ও গবেষক রেহনুমা আহমেদ, অর্থনীতিবিদ জিয়া হাসান, আইনজীবী কাজী জাহেদ ইকবাল, মানজুর আল মতিন ও প্রিয়া আহসান চৌধুরী; নারী অধিকারকর্মী মাহীন সুলতান; নারীপক্ষের আন্দোলন সম্পাদক গীতা দাস; ভয়েস ফর রিফর্মের ফাহিম মাশরুর; লেখক ও গবেষক পাভেল পার্থ, সাংবাদিক সায়দিয়া গুলরুখ প্রমুখ।

আরও পড়ুন