মুক্তিযুদ্ধকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে এ নিয়ে এক যুগের বেশি সময়ে ৫০টি মামলার রায় এল। এসব মামলায় দণ্ডিত আসামি ১২৯ জন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ছয় আসামি হলেন মো. মোখলেছুর রহমান মুকুল, মো. সাইদুর রহমান রতন, শামছুল হক ফকির, নুরুল হক ফকির, মো. সুলতান মাহমুদ ফকির ও নাকিব হোসেন আদিল সরকার।

রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, ওই মামলার তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনালে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। ২০১৮ সালের ৫ ডিসেম্বর এই মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। আসামিদের বিরুদ্ধে ছয়টি অভিযোগ আনা হয়। তখন মামলায় আসামি ছিলেন নয়জন। ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার দুজন, পলাতক একজনসহ তিন আসামি মারা গেছেন। শুনানি শেষে গত বছরের ৫ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনাল মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন। আজ রায় ঘোষণা করা হয়।

এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ সীমন ও তাপস কান্তি বল। আসামিপক্ষে ছিলেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী গাজী এম এইচ তামিম। পরে তাপস কান্তি বল প্রথম আলোকে বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধকালে আটক, নির্যাতন, অপহরণ, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগ, হত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের ছয়টি অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। ছয় আসামিই পলাতক।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের পর সব আইনি প্রক্রিয়া শেষে এ পর্যন্ত শীর্ষ পর্যায়ের সাত আসামির দণ্ড কার্যকর হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ছয়জনের ফাঁসি কার্যকর হয়েছে। আর আমৃত্যু কারাদণ্ড ভোগ করছেন জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী। মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া আসামিরা হলেন জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ, জামায়াতের শীর্ষ পর্যায়ের নেতা আবদুল কাদের মোল্লা, মুহাম্মদ কামারুজ্জামান ও মীর কাসেম আলী। এ ছাড়া মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসি কার্যকর হয়েছে বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর।

ট্রাইব্যুনালের যাত্রা শুরু হয় ২০১০ সালের ২৫ মার্চ। ট্রাইব্যুনালের যাত্রা শুরুর পর দুই বছরের মাথায় ২০১২ সালের ২২ মার্চ আরেকটি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়, যা ট্রাইব্যুনাল-২ নামে পরিচিতি পায়। ২০১৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর দুই ট্রাইব্যুনালকে একীভূত করে আবার একটি ট্রাইব্যুনাল করা হয়। এখন একটি ট্রাইব্যুনালে (আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১) চলছে বিচার কার্যক্রম।