আসন্ন সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিলের বৈধতা নিয়ে রিট

হাইকোর্ট ভবনফাইল ছবি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ঘোষিত তফসিলের বৈধতা নিয়ে রিট হয়েছে। হাইকোর্টে রিটটি করা হয়েছে বলে আজ সোমবার জানিয়েছেন আবেদনকারী আইনজীবী মো. ইউনুছ আলী আকন্দ।

গত ১১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন। তফসিল অনুযায়ী আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোট হবে।

রিট আবেদনের যুক্তিতে দেখা যায়, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারব্যবস্থা সংবিধানে নেই, তাই তত্ত্বাবধায়ক সরকার বা নির্বাচিত সরকার ছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের নির্বাচন কমিশন দিয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচন করা সংবিধানসম্মত নয়। সংবিধানের একাধিক [সংবিধানের ৬৫ ও ১২৩(৩)(৪) অনুচ্ছেদ] অনুচ্ছেদ ও গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) ১১ ধারা অনুসারে জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ার বাধ্যবাধকতা আছে। কিন্তু গণভোটের বিধান সংবিধানেও নেই, আরপিওতেও নেই। এ ছাড়া সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আইন ছাড়া কিছু করা যাবে না, তাই একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সংবিধানসম্মত নয়।

রিটের প্রার্থনায় দেখা যায়, গত ১১ ডিসেম্বর জারি করা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না—এ বিষয়ে রুল চাওয়া হয়েছে। নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করে ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন করার কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, এ বিষয়েও রুল চাওয়া হয়েছে। রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল স্থগিত রাখার আরজি রয়েছে।

এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের পরবর্তী সব কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে গত ৩ ডিসেম্বর বাংলাদেশ কংগ্রেসের পক্ষে দলটির মহাসচিব একটি রিট আবেদন করেছিলেন, যা হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চে শুনানির জন্য ওঠে। বৃহত্তর স্বার্থে রিটটি প্রত্যাহার অর্থাৎ উত্থাপন না করার (নট প্রেস) কথা আদালতে বলেন রিট আবেদনকারী। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ৮ ডিসেম্বর হাইকোর্ট রিটটি উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করে দেন।