হাসিনা-আসাদুজ্জামানের আমৃত্যু কারাদণ্ডের বিরুদ্ধে সাজা বৃদ্ধি চেয়ে আপিল শুনানি ২০ জানুয়ারি
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিনটি ঘটনায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকে দেওয়া আমৃত্যু কারাদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে সাজা বাড়াতে রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিল শুনানি ২০ জানুয়ারি। আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক আজ বৃহস্পতিবার এই তারিখ ধার্য করেন।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের এক মামলায় গত ১৭ নভেম্বর রায় ঘোষণা করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। রায়ে তিনটি ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। অপর তিনটি ঘটনায় দুজনকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অপর আসামি সাবেক পুলিশপ্রধান চৌধুরী আবদুল্লাহ আল–মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়।
এ মামলায় শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়, যাতে অনেকগুলো ঘটনা রয়েছে। মোটাদাগে পাঁচটি অভিযোগ হচ্ছে উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান; প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের নির্মূল করার নির্দেশ; রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যা; রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকায় আন্দোলনরত ছয়জনকে গুলি করে হত্যা এবং আশুলিয়ায় ছয়জনকে হত্যার পর লাশ পুড়িয়ে দেওয়া।
হাসিনা ও আসাদুজ্জামানের আমৃত্যু কারাদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে গত ১৫ ডিসেম্বর আপিল করে প্রসিকিউশন (রাষ্ট্রপক্ষ)। আপিল দায়েরের পর সেদিন প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম বলেছিলেন, গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানকে দুটি সাজা দেওয়া হয়। একটি আমৃত্যু কারাদণ্ড, আরেকটি মৃত্যুদণ্ড। আমৃত্যু কারাদণ্ডের সাজা বাড়িয়ে দুজনের মৃত্যুদণ্ড চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল করা হয়েছে। আপিলে তাঁরা আটটি গ্রাউন্ড (যুক্তি) দিয়েছেন।
রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিলটি চেম্বার আদালতের আজকের কার্যকালিকায় ৫৮ নম্বর ক্রমিকে ওঠে। ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম শুনানিতে ছিলেন।
পরে গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আপিল আর্লি হিয়ারিংয়ের (দ্রুত শুনানি) জন্য আবেদন করা হয়। আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে আপিলটি শুনানির জন্য ২০ জানুয়ারি তারিখ নির্ধারণ করেছেন চেম্বার আদালত। ট্রাইব্যুনালে আসামির বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছিল। পাঁচটি অভিযোগ দুই ভাগে ভাগ করে দণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। প্রথম অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং দ্বিতীয় অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। ট্রাইব্যুনাল আইনে তাঁদের বিরুদ্ধে সব অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। তাই আমরা বলেছি আমৃত্যু কারাদণ্ড হতে পারে না, অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় মৃত্যুদণ্ডই হতে হবে।’
মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় তিনটি ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ওই ঘটনা হচ্ছে, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা আন্দোলনকারীদের ‘রাজাকারের বাচ্চা’ সম্বোধন করে উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। একই দিন রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি মাকসুদ কামালের সঙ্গে শেখ হাসিনার কথোপকথন আন্দোলনকারীদের রাজাকার বলে তাঁদের ফাঁসি দেবে বলে উসকানি ও আদেশ দেন এবং অপরাধ সংঘটনে আসামিরা তাঁর অধীন ব্যক্তিদের কোনো বাধা প্রদান করেননি। ফলে রংপুরে আবু সাঈদকে পুলিশ গুলি করে হত্যা করে।