ছাত্রলীগও যে সাহস করেনি তা প্রকাশ্যে ছাত্রশিবির করেছে: ছাত্রদল সভাপতি রাকিব

ছাত্রশিবিরের হামলায় আহত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিচ্ছেন ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব। ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, ৬ মার্চ ২০২৬ছবি: ছাত্রদলের সৌজন্যে

ছাত্রলীগও যে সাহস করেনি তা প্রকাশ্যে ইসলামী ছাত্রশিবির করেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব। তিনি বলেছেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলার যে সাহস কেউ করেনি, সেটা তারা করে দেখিয়েছে।

শুক্রবার ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছাত্রশিবিরের হামলায় আহত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকদের দেখতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন। রাকিবুল ইসলাম বলেন, ‘সুস্থ হওয়ার পর যদি আমার ছাত্রদল কোনো অন্যায় করে সবার আগে নিউজ করবেন। আগামী রোববারের মধ্যে এই ঘটনার বিচার হবে। মনোবল হারাবেন না, সাহস রাখেন, আশ্বাস নয়, অঙ্গীকার দিচ্ছি।’

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি বলেন, ‘ক্যাম্পাসে কোনো সন্ত্রাসী কার্যক্রম রাখব না। রগ কাটার সংস্কৃতি ফিরে আসতে দেব না। আমরা দেখেছি শিবিরের নেতৃত্ববৃন্দ হামলা করেছে, কিন্তু আমাদের নেতৃবৃন্দ হামলা করে নাই। সাংবাদিক সমিতিতে শিবিরের নেতৃবৃন্দের কাজ কী?’

নতুন বাংলাদেশে এই ধরনের হামলা কোনোভাবে কাম্য নয় মন্তব্য করে রাকিবুল ইসলাম আরও বলেন, ‘আমরা এখন পর্যন্ত সহনশীলভাবে রাজনীতি করে যাচ্ছি। আমাদের স্পষ্ট বক্তব্য, এই ঘটনার সাথে যে সাংবাদিক জড়িত, তাদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার হতে হবে। আপনাদের কথা দিয়ে যাচ্ছি এর যথাযথ তদন্ত ও সুষ্ঠু বিচার করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জবাবদিহি দিতে হবে কেন এমন হামলা করেছে শিবির।’

ছাত্রদল সভাপতি বলেন, ‘আপনাদের ওপর শিবিরের এমন ন্যক্কারজনক হামলার জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি। এ হামলার সাথে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। আমরা সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে এর জন্য যা করা দরকার তাই করব।’

ছাত্রদল সভাপতি আরও বলেন, ‘এ হামলা প্রশাসন এবং শিবিরের সুপরিকল্পিত। কারণ, আমরা জানতে পেরেছি আগে থেকে শিবিরের নেতা–কর্মীরা সেখানে লাঠিসোঁটা ও স্টাম্প জড়ো করে রেখেছিল। এমনকি পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের সিসিটিভি ক্যামেরাও বন্ধ ছিল হামলার সময়। এটাও রহস্য সৃষ্টি করেছে।’

এ সময় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল, সদস্যসচিব শামসুল আরেফিন, যুগ্ম আহবায়ক সুমন সর্দার, মুস্তাফিজুর রহমান রুমি, রবিউল আউয়াল, মাহমুদুল হাসানসহ আরও অনেক নেতা–কর্মী উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে শিবিরের নেতৃত্বে হামলার ঘটনায় অন্তত ১২ জন সাংবাদিক আহত হন। সাংবাদিকদের উদ্ধার করতে গিয়ে আহত হন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি এ কে এম রাকিবও।

আহত সাংবাদিকদের অভিযোগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির নির্বাচনের চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় প্রায় ৩৫ জন সাংবাদিকের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। বিষয়টি জানতে তাঁরা সমিতির কার্যালয়ে গেলে সেখানে উপস্থিত শিবির ও জকসু নেতা–কর্মীরা তাঁদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান।