আজ সোমবার পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ১৯ দশমিক ৯২ শতাংশ বাড়িয়েছে এ খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। দাম বাড়ানোর বিরোধিতা করছে বাংলাদেশ কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)।

গত জানুয়ারিতে বিদ্যুতে দাম বাড়ানোর আবেদন করেছিল বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। তাদের প্রস্তাব নিয়ে শুনানির পর গত ১৩ অক্টোবর দাম না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত দিয়েছিল বিইআরসি। এরপর সেই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনায় ১৩ নভেম্বর আবেদন করে পিডিবি। এটি আমলে নিয়ে দাম বাড়ানো হলো এবার। এ বিষয়ে শামসুল আলম বলছেন, পিডিবি নতুন করে তথ্য জমা দিয়েছে। এসব তথ্য নিয়ে শুনানি হয়নি। ভোক্তার পক্ষ থেকে বক্তব্য নেওয়া হয়নি। তাই এটা পক্ষপাতদুষ্ট হয়েছে। যদিও আইনি কাঠামো মেনেই দাম বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছে বিইআরসি।

দাম ঘোষণার সময় বিইআরসি বলেছে, বছরে সাড়ে ৬ শতাংশ বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়বে ধরে দাম বাড়ানো হয়েছে। এর তীব্র সমালোচনা করছেন শামসুল আলম। তিনি বলেন, জুলাই থেকে টানা চার মাস লোডশেডিং করা হয়েছে। লোডশেডিংয়ের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমেছে। তাই দাম বাড়ানোর কারণে পিডিবি এবার মুনাফা করবে, যা বিইআরসি আইনের পরিপন্থী।

ক্যাবের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মনে করছেন, গত আগস্টে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর সরকার ব্যাপক চাপের মুখে পড়ে। দেশে ওই সময় চরম লোডশেডিং চলছিল। তাই বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে। এখন শীতের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা কমায় লোডশেডিং বন্ধ হওয়ার সুযোগ নিয়ে দাম বাড়ানো হচ্ছে। এটা ভোক্তার সঙ্গে প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই নয়।

পাইকারি পর্যায়ে দাম বাড়লেও এখনই ভোক্তার ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না বলে জানিয়েছে বিইআরসি ও বিদ্যুৎ বিভাগ। এ বিষয়ে শামসুল আলম বলেন, খুচরা বিক্রেতা কীভাবে ঘাটতি পূরণ করবে। পাইকারির পর বিতরণ কোম্পানির ঘাটতি মেটানোর নামে খুচরা পর্যায়ে দাম বাড়ানো হবে। এখনই প্রভাব পড়বে না বলে যা বলা হচ্ছে, তা ভোক্তার সঙ্গে প্রতারণার শামিল। এটা কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহের ব্যাপার।