ডেঙ্গু মোকাবিলায় বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন

‘ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত অন্যান্য রোগ প্রতিরোধবিষয়ক জাতীয় কমিটি’–এর প্রথম সভায় বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে এ বৈঠক হয়ছবি: স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সৌজন্যে

ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম জোরদার করতে উচ্চপর্যায়ের বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করেছে সরকার। জাতীয় কমিটির সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় এবং কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করবে এই টাস্কফোর্স।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর বাংলাদেশ সচিবালয়ে ‘ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত অন্যান্য রোগ প্রতিরোধবিষয়ক জাতীয় কমিটি’–এর প্রথম সভায় টাস্কফোর্স গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সভায় ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে চলমান কার্যক্রম, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রস্তুতি এবং মাঠপর্যায়ের সমন্বয় নিয়ে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর ২০২৬ সালের বার্ষিক কর্মপরিকল্পনাও পর্যালোচনা করা হয়।

স্থানীয় সরকার বিভাগ জানিয়েছে, বিশেষ টাস্কফোর্সের প্রধান কাজ হবে জাতীয় কমিটির নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো মাঠপর্যায়ে যথাযথভাবে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা। প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে দিকনির্দেশনাও দেবে টাস্কফোর্স।

এ ছাড়া ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, সিটি করপোরেশন ও সরকারি সংস্থার মধ্যে সমন্বয় করবে কমিটি। মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়মিতভাবে জাতীয় কমিটিকে জানানো হবে। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কোনো সীমাবদ্ধতা বা বাধা দেখা দিলে তা দূর করতেও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে টাস্কফোর্স।

ডেঙ্গু প্রতিরোধবিষয়ক জাতীয় কমিটিতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান সদস্য হিসেবে রয়েছেন। দুই সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং স্বাস্থ্য ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মকর্তারাও টাস্কফোর্সের কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত থাকবেন।

কমিটিতে স্থানীয় সরকার বিভাগের নগর উন্নয়ন অনুবিভাগ, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা থাকবেন। এ ছাড়া গৃহায়ণ ও গণপূর্ত; পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন; প্রতিরক্ষা; রেলপথ; কৃষি; মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ; তথ্য ও সম্প্রচার এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরাও এতে অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।

ঢাকা মহানগর পুলিশ, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এবং ওয়াসাগুলোর প্রতিনিধিরাও টাস্কফোর্সে থাকবেন। স্থানীয় সরকার বিভাগের নগর উন্নয়ন-২ শাখার উপসচিব সদস্যসচিবের দায়িত্ব পালন করবেন।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের নেতৃত্বে টাস্কফোর্সটি পরিচালিত হবে। তিনি এর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। স্থানীয় সরকার বিভাগ আশা করছে, এই উদ্যোগের ফলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে মাঠপর্যায়ে আরও কঠোর নজরদারি এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত কার্যক্রম নিশ্চিত হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা ইতিমধ্যে চার হাজার ছাড়িয়েছে। গত রোববার সকাল পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ২২০ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন এবং ২ জনের মৃত্যু হয়। এতে বছরের শুরু থেকে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৯। বর্ষা শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আক্রান্ত ও হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে।

এদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রাক্-বর্ষা জরিপে ৭৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৬৩টিতেই এডিস মশার ঘনত্ব নির্ধারিত মাত্রার বেশি পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ২৭টি ওয়ার্ডকে ডেঙ্গু সংক্রমণের অতিঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, নিয়মিত ওষুধ প্রয়োগ এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত কার্যক্রম জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।