জাতি দিশাহারা হলে পথ দেখাবে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর: প্রধান উপদেষ্টা

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের চূড়ান্ত পর্যায়ের কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। ঢাকা, ২০ জানুয়ারিছবি: প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের চূড়ান্ত পর্যায়ের কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। এই জাদুঘর ভবিষ্যতে জাতিকে পথ দেখাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।

প্রধান উপদেষ্টা আজ মঙ্গলবার বিকেলে গণভবনে নির্মাণাধীন জাদুঘরে পৌঁছান। এ সময় জাদুঘরে থাকা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পেছনের ইতিহাস এবং শেখ হাসিনার ১৬ বছরের দুঃশাসনের বিভিন্ন চিত্র ঘুরে দেখেন।

পরিদর্শনকালে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘এই জাদুঘর জুলাই শহীদদের রক্ত তাজা থাকতেই করা সম্ভব হয়েছে, এটা গোটা পৃথিবীর এক নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত। আমরা চাই না ভবিষ্যতে কোথাও আর এমন জাদুঘর তৈরির প্রয়োজন হোক। যদি আমাদের জাতি কখনো কোনো কারণে দিশাহারা হয়, তবে এই জাদুঘরে পথ খুঁজে পাবে।’

দেশের প্রত্যেক নাগরিককে জাদুঘর পরিদর্শনের আহ্বান জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘দেশের প্রত্যেক নাগরিকের উচিত হবে এখানে এসে একটি দিন কাটানো, শিক্ষার্থীরা দল বেঁধে এই জাদুঘরে আসবেন। এই জাদুঘরে একটা দিন কাটালে মানুষ জানতে পারবে কী নৃশংসতার মধ্য দিয়ে এ জাতিকে যেতে হয়েছে। এখানে যে আয়নাঘরগুলো তৈরি হয়েছে, সেখানে কিছু সময়, কয়েক ঘণ্টা অথবা একটা দিন কেউ যদি থাকতে চায়, সে যেন থাকতে পারে।’

সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর নেতৃত্বে জাদুঘরের কিউরেটর তানজীম ওয়াহাব, মেরিনা তাবাশ্যুম খান, জুলাই জাদুঘরের গবেষকসহ দায়িত্বশীল অন্যরা আগত ব্যক্তিদের পুরো জাদুঘর ঘুরিয়ে দেখান।

গণ–অভ্যুত্থানের সময়ের বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য ঘটনা ভাস্কর্যের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে জাদুঘরে। ঢাকা, ২০ জানুয়ারি
ছবি: প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং

জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে অভ্যুত্থানের ছবি, বিভিন্ন স্মৃতিচিহ্ন, শহীদদের পোশাক, চিঠিপত্র, গুরুত্বপূর্ণ দলিল, সে সময়কার পত্রিকার কাটিং, অডিও-ভিডিওসহ নানা উপকরণ সংরক্ষণ করা হয়েছে। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পালিয়ে যাওয়ার দৃশ্যও সংরক্ষিত রয়েছে সেখানে।

পরিদর্শনকালে প্রধান উপদেষ্টা ১৫ মিনিটের একটি প্রামাণ্যচিত্র দেখেন। এতে বিগত সরকারের শাসনামলে গুম, রাষ্ট্রীয়ভাবে পরিচালিত দমন-পীড়ন, বিরোধীদের ওপর হামলা এবং জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত গণহত্যার চিত্র তুলে ধরা হয়।

প্রামাণ্যচিত্রটি নির্মাণ করেছে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়।

জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের ভেতরে পরিদর্শন করেন প্রধান উপদেষ্টা। ঢাকা, ২০ জানুয়ারি
ছবি: প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং

সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেন, ‘অল্প সময়ে এই জাদুঘরের কাজ এই পর্যায়ে এসেছে, এটা একটা রেকর্ড। এটা সম্ভব হয়েছে অনেক ছেলেমেয়ের অক্লান্ত পরিশ্রমে। আট মাস ধরে বিনা পারিশ্রমিকে এখানে কাজ করেছেন অনেকে। তাঁদের সবার প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা জানাই।’

এ সময় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ, জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শনকালে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও উপদেষ্টা পরিষদের কয়েকজন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। ঢাকা, ২০ জানুয়ারি
ছবি: প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং

উপদেষ্টাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম, স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান, প্রধান উপদেষ্টার এসডিজি সমন্বয়ক লামিয়া মোর্শেদ, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম।

এ সময় গুমের শিকার পরিবারগুলোর সংগঠন মায়ের ডাকের সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম তুলি, গুম থেকে ফেরত আসা মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে সম্মুখসারিতে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রনেতা ও সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া ও হাসনাত আবদুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।