এইচএসসির সম্পূরক পরীক্ষার ফলাফল কি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় কাজে লাগবে না

মুঠোফোনে এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল দেখছেন এক শিক্ষার্থীফাইল ছবি
প্রথম আলোকে নির্ভরযোগ্য সূত্র হিসেবে পেতে হলেএখানে ক্লিক করুন

উচ্চশিক্ষায় ভর্তির সুযোগ বাড়ানোর লক্ষ্যেই এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় সর্বোচ্চ দুই বিষয়ে (চতুর্থ বিষয় বাদে) অকৃতকার্য হওয়া পরীক্ষার্থীদের জন্য আগামী ১ ডিসেম্বর সম্পূরক পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এ উদ্যোগের সুফল নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

কারণ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক প্রথম বর্ষে ভর্তির প্রাথমিক আবেদন নেওয়া এ মাসেই শেষ হবে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়েও আবেদন নেওয়া শুরু হবে এ মাসে। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ও ভর্তি কার্যক্রমের প্রক্রিয়া শুরু করছে।

অর্থাৎ যে উদ্দেশ্যে দ্রুত সম্পূরক পরীক্ষা নেওয়ার উদ্যোগ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি কার্যক্রমের সঙ্গে সময়ের সমন্বয় না থাকায় সেই উদ্দেশ্যই ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সম্পূরক পরীক্ষা নেওয়া ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কার্যক্রমের সময়সূচি নির্ধারণের ক্ষেত্রে সমন্বয় থাকা প্রয়োজন ছিল। সমন্বিত সময়সূচি নির্ধারণ করা হলে শিক্ষার্থীরা এ উদ্যোগের সুফল পেতেন। সমন্বয়হীনতার কারণে একদিকে যেমন শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন, অন্যদিকে এক মাসের মধ্যে পরীক্ষা নেওয়ার ইতিবাচক সিদ্ধান্তটিও প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

এবার এক ও দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন মোট ৪ লাখ ২২ হাজার ৯০৫ জন পরীক্ষার্থী। তাঁদের মধ্যে এক বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন ২ লাখ ৯৮ হাজার ৪০ জন এবং দুই বিষয়ে ১ লাখ ২৪ হাজার ৮৬৫ জন।
আরও পড়ুন

শিক্ষা বিভাগের একটি সূত্র জানিয়েছে, এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি), শিক্ষা বোর্ড ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে আলোচনা হলেও প্রথম সারির বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অনাগ্রহের কারণে এবার হয়তো শিক্ষার্থীরা এ উদ্যোগের সুফল না–ও পেতে পারেন। তবে আরও কিছু জায়গায় ভর্তির সুযোগ থাকবে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, এ বছর প্রথমবার ফলাফল প্রকাশের এক মাসের মধ্যে সম্পূরক পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। তাই কিছু ঘাটতি থাকতে পারে। তবে আগামী বছর থেকে সব বিশ্ববিদ্যালয়েই এ সুবিধা পাওয়া যাবে বলে মনে করেন তিনি। অন্যান্য অসামঞ্জস্যতা থাকবে না।

শুধু তা-ই নয়, উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নের ফলাফল প্রকাশের সময় নিয়েও জটিলতা তৈরি হতে পারে। কোনো পরীক্ষার্থী তিন বিষয়ে অকৃতকার্য হয়ে পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেছেন। পরে পুনর্নিরীক্ষণের ফলে যদি এক বা দুই বিষয়ে পাস করেন, তাহলে তাঁর সম্পূরক পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

কিন্তু আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির ঘোষণা অনুযায়ী, পুনর্নিরীক্ষণের ফলাফল প্রকাশ করা হবে ২৩ নভেম্বর। অন্যদিকে সম্পূরক পরীক্ষার চলমান ফরম পূরণের শেষ সময় ৯ নভেম্বর। ফলে পুনর্নিরীক্ষণের ফলাফল প্রকাশের আগেই ফরম পূরণের সময় শেষ হয়ে যাচ্ছে। এতে ফলাফলের পরিবর্তনের কারণে সম্পূরক পরীক্ষা দেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করলেও কোনো কোনো পরীক্ষার্থী সুযোগটি না–ও পেতে পারেন।

আগামী ১ ডিসেম্বর এ সম্পূরক পরীক্ষা শুরু হবে। নিয়মিত ও অনিয়মিত—দুই ধরনের পরীক্ষার্থীরাই এতে অংশ নিতে পারবেন। ৫ নভেম্বর থেকে পরীক্ষার ফরম পূরণ শুরু হয়েছে। চলবে ৯ নভেম্বর পর্যন্ত। ফি জমা দেওয়ার শেষ সময় ১০ নভেম্বর।
আরও পড়ুন

নাম প্রকাশ না করার শর্তে চট্টগ্রামের একজন ব্যক্তি প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর এক প্রতিবেশীর কয়েকজন সন্তান এবার এইচএসসি পরীক্ষায় দুই বা তিন বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন। তাঁদের কেউ কেউ ফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করেছেন। এখন পুনর্নিরীক্ষণের ফলাফলে তিন বিষয়ের মধ্যে এক বা দুই বিষয়ে পাস করলে তাঁরা সম্পূরক পরীক্ষা দেওয়ার যোগ্য হবেন। কিন্তু ফরম পূরণের সময় শেষ হওয়ার পর পুনর্নিরীক্ষণের ফলাফল প্রকাশিত হলে তাঁরা কীভাবে পরীক্ষায় অংশ নেবেন, সে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় নেওয়া উচিত।

জানতে চাইলে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক জেসমিন তাসলিমা বানূ প্রথম আলোকে বলেন, শিক্ষার্থীদের স্বার্থে সব ব্যবস্থাই থাকবে।

গত ৩১ অক্টোবর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীন পরীক্ষায় ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। গড় পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন।

এবার এক ও দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন মোট ৪ লাখ ২২ হাজার ৯০৫ জন পরীক্ষার্থী। তাঁদের মধ্যে এক বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন ২ লাখ ৯৮ হাজার ৪০ জন এবং দুই বিষয়ে ১ লাখ ২৪ হাজার ৮৬৫ জন।

এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় সর্বোচ্চ দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়া পরীক্ষার্থীদের জন্য সম্পূরক পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত ভালো উদ্যোগ। এর মাধ্যমে তাঁদের পাস করার একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে।
অধ্যাপক আবদুস সালাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (শিক্ষা)

সম্পূরক পরীক্ষার আয়োজন

সাধারণত এসএসসি ও এইচএসসির মতো পাবলিক পরীক্ষায় এক বা একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য হলে পরের বছর আবার পরীক্ষায় বসতে হয়। সে ক্ষেত্রে শুধু অকৃতকার্য হওয়া বিষয়গুলো অথবা ইচ্ছা করলে সব বিষয়ে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ থাকে। কিন্তু এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ার কারণে একজন শিক্ষার্থীকে পুরো এক বছর অপেক্ষা করতে হয়। এ সমস্যা বিবেচনায় নিয়ে এবার ফল প্রকাশের এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ দুই বিষয়ে অকৃতকার্য পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

আগামী ১ ডিসেম্বর এ সম্পূরক পরীক্ষা শুরু হবে। নিয়মিত ও অনিয়মিত—দুই ধরনের পরীক্ষার্থীরাই এতে অংশ নিতে পারবেন। ৫ নভেম্বর থেকে পরীক্ষার ফরম পূরণ শুরু হয়েছে। চলবে ৯ নভেম্বর পর্যন্ত। ফি জমা দেওয়ার শেষ সময় ১০ নভেম্বর। তত্ত্বীয় প্রতিটি পত্র বা বিষয়ের ফরম পূরণ ফি ১২৫ টাকা এবং ব্যবহারিক প্রতিটি পত্র বা বিষয়ের জন্য ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া পরীক্ষাকেন্দ্র ফি ৪৫০ টাকা।

এদিকে পরীক্ষার ফরম পূরণের নামে কোনো পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে অতিরিক্ত ফি আদায় করা যাবে না বলে নির্দেশনা দিয়েছে আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি। ৫ নভেম্বর জারি করা এক নোটিশে বলা হয়েছে, এ নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সরকারের সদিচ্ছার কারণেই এবার ফলাফল প্রকাশের এক মাসের মধ্যে এইচএসসিতে সর্বোচ্চ দুই বিষয়ে অকৃতকার্য পরীক্ষার্থীদের পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় সেশনজটের বিষয়টিও তাঁদের বিবেচনায় রাখতে হয়েছে। তবে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় এবার এ সুযোগ না দিলেও আরও অনেক বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ রয়েছে।
অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান, আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কার্যক্রম শুরু

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক প্রথম বর্ষ ভর্তির অনলাইন আবেদন শুরু হবে ১১ নভেম্বর। আবেদন চলবে ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত। পাঁচটি ইউনিটের মাধ্যমে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে। এর মধ্যে বিজ্ঞান ইউনিটের পরীক্ষা ১২ ডিসেম্বর, কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিটের ১৯ ডিসেম্বর, চারুকলা ইউনিটের (সাধারণ জ্ঞান ও অঙ্কন) ২২ ডিসেম্বর, ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটের ২৬ ডিসেম্বর এবং আইবিএ ইউনিটের পরীক্ষা ৫ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে।

জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক আবদুস সালাম প্রথম আলোকে বলেন, এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় সর্বোচ্চ দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়া পরীক্ষার্থীদের জন্য সম্পূরক পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত ভালো উদ্যোগ। এর মাধ্যমে তাঁদের পাস করার একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার প্রতিযোগিতার চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি আসনের বিপরীতে প্রায় ৮০ জন পরীক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতেন। এখন এ সংখ্যা ৬০ থেকে ৭০ জন হয়। এরপরও ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া পরীক্ষার্থীদের ৯৫ থেকে ৯৬ শতাংশ পাস নম্বর পান না।

ইউজিসির তথ্য অনুযায়ী, এবার উচ্চশিক্ষায় মোট আসন রয়েছে প্রায় ১৪ লাখ ৯২ হাজার। এর মধ্যে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও অধিভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় ১০ লাখের বেশি এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় চার লাখের বেশি আসন রয়েছে। এ হিসাবে এবার উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সবাই উচ্চশিক্ষায় ভর্তি হলেও ৮ লাখ ৪৫ হাজারের বেশি আসন খালি থাকার কথা।

নিজের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে অধ্যাপক আবদুস সালাম বলেন, সম্পূরক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হলেও তাঁরা খুব একটা লাভবান হবেন বলে তিনি মনে করেন না।

অন্যদিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে একই শিক্ষাবর্ষে স্নাতক (সম্মান) শ্রেণিতে ভর্তির প্রাথমিক আবেদন শুরু হবে ১২ নভেম্বর। আবেদন শেষ হবে ২৭ নভেম্বর। ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ৮, ৯ ও ১৬ জানুয়ারি। ওই তিন দিনে যথাক্রমে ‘বি’, ‘সি’ ও ‘এ’ ইউনিটের পরীক্ষা নেওয়া হবে।

বুয়েটে ভর্তির পরীক্ষা হবে আগামী ১৬ জানুয়ারি। বুয়েট ভর্তি পরীক্ষা কমিটির প্রধান অধ্যাপক কামরুল হাসান প্রথম আলোকে বলেন, কবে থেকে আবেদন নেওয়া শুরু হবে, তা এখনো একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় অনুমোদন হয়নি। তবে আশা করা যায়, ২০ তারিখের পরপর তা শুরু হবে। তিনি বলেন, তাঁরা সব সময়ই পুনর্নিরীক্ষণের ফলাফল পর্যন্ত অপেক্ষা করেন। এবারও তা–ই করা হবে।

আরও পড়ুন

তবে সম্পূরক পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের বুয়েটের ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া যাচ্ছে না বলে অধ্যাপক কামরুল হাসানের কথায় বোঝা গেল। তিনি বলেন, বুয়েটে অল্পসংখ্যক শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পান। সম্পূরক পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দিয়ে লাভ আছে?

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক (সম্মান) ও বিবিএ প্রথম বর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য অনলাইনে আবেদন কার্যক্রম ১৫ নভেম্বর শুরু হবে। আবেদন কার্যক্রম চলবে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

অর্থাৎ ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে সম্পূরক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের আগেই ভর্তির আবেদনের সময় শেষ হয়ে যাবে। যদিও এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা পরে অনুষ্ঠিত হবে, তবু আবেদন করার যোগ্যতা নির্ধারণের সময় সম্পূরক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার ফল বিবেচনায় নেওয়ার সুযোগ থাকছে না। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কার্যক্রমও শুরু হলে একই ধরনের জটিলতা তৈরি হতে পারে।

আরও পড়ুন

ইউজিসির তথ্য অনুযায়ী, এবার উচ্চশিক্ষায় মোট আসন রয়েছে প্রায় ১৪ লাখ ৯২ হাজার। এর মধ্যে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও অধিভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় ১০ লাখের বেশি এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় চার লাখের বেশি আসন রয়েছে। এ হিসাবে এবার উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সবাই উচ্চশিক্ষায় ভর্তি হলেও ৮ লাখ ৪৫ হাজারের বেশি আসন খালি থাকার কথা।

এমন পরিস্থিতিতে উচ্চশিক্ষায় ভর্তির সুযোগ বাড়াতে সম্পূরক পরীক্ষা নেওয়ার উদ্যোগের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি কার্যক্রমের সময়সূচি সমন্বয় করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাঁদের মতে, সম্পূরক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ এবং পুনর্নিরীক্ষণের ফলে পাস করা শিক্ষার্থীদেরও ভর্তি প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। অন্যথায় দ্রুত পরীক্ষা নেওয়ার উদ্যোগ সত্ত্বেও বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষায় ভর্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।

জানতে চাইলে আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, পুরো বিষয় বিবেচনায় নিতে হয়েছে। সরকারের সদিচ্ছার কারণেই এবার ফলাফল প্রকাশের এক মাসের মধ্যে এইচএসসিতে সর্বোচ্চ দুই বিষয়ে অকৃতকার্য পরীক্ষার্থীদের পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় সেশনজটের বিষয়টিও তাঁদের বিবেচনায় রাখতে হয়েছে। তবে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় এবার এ সুযোগ না দিলেও আরও অনেক বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ রয়েছে। সম্পূরক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীরা সেসব প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ কাজে লাগাতে পারবেন বলে আশা করা যায়।