পদ্মা সেতু চালুর পর দক্ষিণাঞ্চলের রুটগুলোতে নৌপথে যাত্রী কমে গেছে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। এতে অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) আয়ও কমেছে।

আজ সোমবার জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দা রুবিনা আক্তারের প্রশ্নের জবাবে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী এ তথ্য জানান। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৈঠকের শুরুতে প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, পদ্মা সেতু নির্মাণের ফলে দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীদের সড়কপথে দ্রুত সময়ের মধ্যে নিজ নিজ গন্তব্যস্থলে যাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। নৌপথে চলাচলে সময় বেশি প্রয়োজন হওয়ায় ঢাকা-চাঁদপুর, ঢাকা-ইলিশাসহ কয়েকটি নৌপথ ছাড়া প্রায় সব নৌপথে যাত্রী চলাচলের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে।

পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর শিমুলিয়া-বাংলাবাজার, শিমুলিয়া-মাঝিকান্দি নৌপথে চলাচলকারী ৮৭টি লঞ্চ, ১৫৫টি স্পিডবোটের চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ঢাকা নদীবন্দর থেকে দক্ষিণাঞ্চলগামী প্রতিদিন ৮৫-৯০টি লঞ্চ চলাচল করত। এখন সেখানে ৬০ থেকে ৬৫টি লঞ্চ চলাচল করছে। ছয় মাসের মধ্যে নৌপথে যাত্রী চলাচলের সংখ্যা বর্তমানের চেয়ে কিছুটা বাড়ার সম্ভাবনা আছে।

গত ২৫ জুন পদ্মা সেতু উদ্বোধন হয়। সেতু দিয়ে স্বাভাবিক যান চলাচল শুরু হয় উদ্বোধনের পরদিন ২৬ জুন থেকে। এরপর ৩০ দিনে পদ্মা সেতু দিয়ে ছয় লাখের বেশি যানবাহন পারাপার হয়। এসব যানবাহন থেকে টোল আদায় হয় ৭৬ কোটি টাকার বেশি।

আজ খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, পদ্মা সেতু চালু হওয়ার ফলে বিআইওব্লিউটিসির রকেট স্টিমারের যাত্রীসংখ্যা অতিমাত্রায় কমে গেছে। এ ছাড়া মাওয়া-মাঝিকান্দি ফেরি রুটে ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। দৌলতদিয়া ফেরি রুটেও যানবাহন চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এতে সংস্থার রাজস্ব আয়ও কমেছে।

বেনজীর আহমেদের প্রশ্নের জবাবে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী জানান, সারা দেশে প্রায় ১৩ হাজার ৫৬৪ জন অবৈধ নদী দখলদারকে উচ্ছেদ করা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, সাশ্রয়ী মূল্যে যাত্রী ও মালামাল পরিবহনের নতুন নৌরুট সৃষ্টি করার সম্ভাবনা যাচাই করা হচ্ছে। নৌপথ জনবান্ধব করার জন্য দ্রুতগতিসম্পন্ন আধুনিক নৌযান সংযোজনসহ নৌদুর্ঘটনা রোধে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। আধুনিক নৌবন্দর স্থাপন করে নৌপথে যাত্রীদের যাতায়াতব্যবস্থা আনন্দদায়ক ও নিরাপদ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর শিমুলিয়া ঘাটকেন্দ্রিক ব্যবসায় ধস

৩২ কোটি ৩১ লাখ ৯ হাজার ৫০০ ডোজ টিকা আমদানি
জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য সৈয়দ আবু হোসেনের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, ইতিমধ্যে দেশব্যাপী অভিযান চালিয়ে ১ হাজার ৭০০টি অবৈধ ক্লিনিক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অনেকগুলোকে জরিমানা করা হয়েছে, অনেকগুলোকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। যাঁরা অনিয়ম করেন, তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযান চলমান থাকবে।

সরকারি দলের সংসদ সদস্য আলী আজমের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক জানান, দেশে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে ২২ আগস্ট পর্যন্ত সময়ে ৩২ কোটি ৩১ লাখ ৯ হাজার ৫০০ ডোজ টিকা আমদানি করা হয়েছে। এ সময়ে ১২ কোটি ৯৮ লাখ ৬০ হাজার ৫৭৮ জনকে প্রথম ডোজ, ১২ কোটি ১০ লাখ ৬৭ হাজার ৭৪০টি দ্বিতীয় ডোজ এবং ৪ কোটি ২৭ লাখ ৬৯ হাজার ৭৭৭ জনকে তৃতীয় ডোজ টিকা প্রদান করা হয়েছে।

সরকারি দলের এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে ১৪ হাজার ১২০টি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। শিগগরিই এর সংখ্যা ১৪ হাজার ৮৯০-এ বৃদ্ধি করা হবে।

আরও পড়ুন

পদ্মা সেতুতে প্রথম দিনে টোল আদায় ২ কোটি ৯ লাখ

মন্ত্রী জানান, ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত ২২ হাজার ২৭৩ জন চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

সরকারি দলের সংসদ সদস্য কাজিম উদ্দিন আহম্মেদের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের চাহিদার ৯৮ শতাংশ ওষুধ বাংলাদেশের উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান উৎপাদন করছে। দেশের চাহিদা পূরণ করে ইউরোপ, আমেরিকাসহ ১৫৭টি দেশে বাংলাদেশ ওষুধ রপ্তানি করছে।

জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য রুস্তম আলী ফরাজীর প্রশ্নের জবাবে বিডিএইচএস-২০১৬-এর সূত্র উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে নরমাল ডেলিভারির হার ৬৯ শতাংশ এবং সিজারিয়ান ডেলিভারির হার ৩১ শতাংশ।

আরও পড়ুন

পদ্মা সেতুতে ৩০ দিনে টোল আদায় ৭৬ কোটি টাকা