ইভিএমকে দুর্বল যন্ত্র আখ্যা দিয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, গাইবান্ধা-৫ আসনের উপনির্বাচনে ভোটকক্ষে ইভিএমে একধরনের ডাকাত দেখা গেছে। কিন্তু আরেক ধরনের ডাকাত আছেন, যাঁরা স্যুট-কোট পরা, শীতাতপনিয়ন্ত্রিত কক্ষে থাকেন। তাঁরা সংখ্যায় খুব অল্প। এই অতি অল্পসংখ্যক ব্যক্তি ইভিএমে কারসাজি করতে পারেন। সেটা কাকপক্ষীও টের পাবে না। তিনি মনে করেন, জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করা হলে নির্বাচন নিয়ে সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।

নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থার সংকট ব্যাপক—মন্তব্য করে বদিউল আলম বলেন, কারও আঙুলের ছাপ না মিললে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা তাঁর আঙুলের ছাপ দিয়ে ভোটারকে ভোট দেওয়ার সুযোগ দিতে পারেন। ইসি বলছে, সর্বোচ্চ ১ শতাংশ ভোটারকে এই সুযোগ দেওয়া হবে। কিন্তু ১ শতাংশের জায়গায় ১০-১৫ শতাংশ ভোট এভাবে দেওয়া হচ্ছে কি না, তা কে যাচাই করবে?

তথ্যপ্রযুক্তিবিদ সাইফুর রহমান বলেন, যেটা করা উচিত নয়, ইভিএমে সেটা করা সম্ভব কি না, তা পরীক্ষা করতে হলে সোর্স কোড প্রয়োজন। কারণ, এমনও করা সম্ভব যে ভোট দেওয়ার বাটনে (বোতাম) ১০ বার চাপ দিয়ে অসংখ্য ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা করা যাবে। ভোট চলাকালেও যন্ত্রে কারচুপি করা সম্ভব।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ভোটার যে প্রতীকে ভোট দিচ্ছেন, তা সেই প্রতীকে যাচ্ছে কি না, তার কোনো প্রমাণ থাকছে না। তিনি বলেন, ইভিএম নয়, মূল বিষয় হলো নির্বাচনকালীন সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রেখে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ তুলে ধরেন ভোডাফোনের (নেদারল্যান্ডস) সিনিয়র সল্যুশন আর্কিটেক্ট ফয়েজ আহমদ তৈয়ব। তিনি বলেন, ইভিএমের মূল সমস্যা হলো কেন্দ্রীয় ফলাফল তৈরি করা হয় হাতে লিখে। এখানে পেপার ট্রেইল (ভোটার কোন প্রতীকে ভোট দিয়েছেন, তা ছাপা হয়ে বের হওয়া) নেই। এতে কারসাজির সুযোগ থাকে। এ বিষয়ে তিনি ২০২০ সালের একটি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের একটি কেন্দ্রের ফলাফলের কথা তুলে ধরেন। সেখানে আগের রাতে প্রিন্ট করা ইভিএমের ফলাফল আর ভোটের দিন কেন্দ্র থেকে হাতে লিখে দেওয়া ফলাফল একই ছিল।

ফয়েজ আহমদ তৈয়ব বলেন, ভোটের দিন স্বচ্ছ ব্যালটবাক্স এজেন্টদের দেখানোর বাধ্যবাধকতা আছে। কিন্তু ইভিএমে অডিট কার্ডে (ভোট দেওয়ার পর যেখানে তথ্য সংরক্ষিত থাকে) আগে থেকেই কোনো ফলাফল রেকর্ড করা আছে কি না, তা যাচাই করার ব্যবস্থা নেই। তিনি বলেন, ইভিএমের প্রোগ্রামিং প্রভাবিত করলে নির্বাচন প্রভাবিত করা যাবে।