এসএসসিতে ‘জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতী সংবর্ধনা’ অনুষ্ঠান এখন দেশের লাখো শিক্ষার্থীর অনুপ্রেরণার জাতীয় প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। এ উদ্যোগ আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বড় স্বীকৃতি পেয়েছে। বৈশ্বিক সম্মান ও স্বীকৃতি অর্জনের বিষয়টি অংশীজনদের সঙ্গে উদ্যাপন করেছে প্রথম আলো। এ উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো কার্যালয়ে এক ঘরোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
জিপিএ-৫ পাওয়া কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিয়ে থাকে প্রথম আলো। এ আয়োজনের জন্য ইন্টারন্যাশনাল নিউজ মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশন (ইনমা) থেকে এ বছর ‘বেস্ট ইউজ অব অ্যান ইভেন্ট টু বিল্ড আ নিউজ ব্র্যান্ড’ শ্রেণিতে প্রথম আলো তৃতীয় পুরস্কার পেয়েছে। জার্মানির বার্লিনে ৭ মে এ পুরস্কার ঘোষণা করে বিশ্বের ১০২টি দেশের ১ হাজারের বেশি সংবাদমাধ্যমের সমন্বয়ে গঠিত সংগঠন ইনমা। এবার এ পুরস্কারের পাশাপাশি ইনমার ‘গ্লোবাল মিডিয়া অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬’-এ আরও দুটি সম্মানজনক স্বীকৃতি পেয়েছে প্রথম আলো।
এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়া কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে চার বছর ধরে প্রথম আলোর সঙ্গে প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে রয়েছে শিক্ষার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘শিখো’। গত বছর দেশের ৬৪ জেলায় এ আয়োজন হয়। প্রায় এক লাখ শিক্ষার্থী ‘শিখো-প্রথম আলো জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতী সংবর্ধনা’ আয়োজনে অংশ নেয়।
পথচলা অব্যাহত থাকুক
শিখোর প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) ইশমাম আহমেদ চৌধুরী প্রথম আলো কার্যালয়ে আয়োজিত ঘরোয়া অনুষ্ঠানে বলেন, ২০২২ সালে এ অংশীদারত্বের সূচনা হয়েছিল, যখন শিখো ছিল তুলনামূলক নতুন একটি প্রতিষ্ঠান। সে সময় প্রথম আলো অংশীদার হিসেবে শিখোকে নিয়েছিল, যা শিখোর জন্য বড় অনুপ্রেরণা হয়ে দাঁড়ায়। দেশজুড়ে কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়ার এ আয়োজন এখন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। এটি সবার জন্য গৌরবের। প্রথম আলোর সঙ্গে শিখোর পথচলা অব্যাহত থাকবে।
কৃতী সংবর্ধনা আয়োজনের আরেক অংশীজন মুঠোফোনে আর্থিক সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠান বিকাশ। এ প্রতিষ্ঠানের চিফ মার্কেটিং অফিসার মীর নওবত আলী নিজের ছোটবেলার স্মৃতিচারণা করে অনুষ্ঠানে বলেন, তখন ভালো ফল করলে জাতীয়ভাবে উদ্যাপন করার এমন কোনো সংস্কৃতি ছিল না। কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়ার বিষয়টি একটি অসাধারণ উদ্যোগ।
অনুষ্ঠানে কনকর্ড গ্রুপের জ্যেষ্ঠ উপমহাব্যবস্থাপক উজ্জ্বল কুমার বসাক বলেন, যা কিছু ভালো, তার সঙ্গে যেমন প্রথম আলো থাকে, তেমনি কনকর্ড গ্রুপও ভালো কাজের সঙ্গে থাকার চেষ্টা করে। উদ্যোগটা যেহেতু আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে, তাই ভবিষ্যতে আরও ভালো কিছু করার প্রচেষ্টা থাকবে।
মেঘনা গ্রুপের চিফ মার্কেটিং অফিসার কাজী মো. মহিউদ্দিন জানান, এ উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত থাকার সুবাদে প্রতিবছরই পরিচিত অভিভাবকদের ফোন পান তিনি। অনুষ্ঠানে সন্তানদের রেজিস্ট্রেশন যেন ঠিকমতো হয়, সে অনুরোধ করেন তাঁরা। এটি প্রমাণ করে যে এ আয়োজন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছে কতটা কাঙ্ক্ষিত হয়ে উঠেছে।
ইলেকট্রোমার্ট লিমিটেডের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক নুরুল আফসার বলেন, চার বছর ধরে প্রথম আলোর এ উদ্যোগের সঙ্গে তাঁরা আছেন। বিগত বছরের অভিজ্ঞতা থেকে পরের বছর নতুন কিছু করার যে চেষ্টা, সেই অনুশীলন অনেক কিছু শিখিয়েছে।
আন্তর্জাতিক পুরস্কার পাওয়া নিয়ে প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির প্রিন্সিপাল অ্যাডভাইজার অধ্যাপক মো.আনোয়ারুল কবীর বলেন, ‘এ যেন সোনার হাতে সোনার কাঁকন। প্রথম আলোর যে সুনাম, পত্রিকাটির প্রতি আমাদের যে আস্থা এবং দেশের প্রধান পত্রিকা হিসেবে তাদের যে অবস্থান, এটি তারই জ্বলন্ত প্রমাণ।’
‘দেশটা ভালো জায়গায় পৌঁছে যাবে’
অনুষ্ঠানে প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান বলেন, ‘শুরু থেকেই প্রথম আলোকে আমরা শুধু পত্রিকা ভাবিনি। সমাজের মঙ্গলের জন্য সংবাদের বাইরেও অনেক কিছু ভেবেছি। আমরা শুধু বলব, শুধু বুদ্ধি দেব, জ্ঞান দেব, নিজেরা কিছু করব না? এই দায়বোধ থেকেই এ ধরনের কর্মসূচিগুলো আমরা করি।’
মতিউর রহমান বলেন, কিশোর-তরুণদের ভালো উদ্যোগ ও ইতিবাচক কাজের সঙ্গে যুক্ত করা গেলে দেশটা একদিন ভালো জায়গায় পৌঁছে যাবে।
প্রথম আলোর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আনিসুল হক বলেন, শিক্ষার্থীরা ভালোভাবে বেড়ে উঠলে বাংলাদেশ সুন্দরভাবে গড়ে উঠবে। কিশোর-তরুণেরা আলোকিত হলে বাংলাদেশ আলোকিত হবে।
প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক সুমনা শারমীন বলেন, এ ধরনের আয়োজনের মধ্যে একই সঙ্গে যেমন আনন্দ থাকে, একই সঙ্গে ভবিষ্যতের কথা বলা থাকে। গতবারের আয়োজনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও যেভাবে প্রশ্ন করেছে, জানতে চেয়েছে, তাতেই বোঝা যায়, তারা এই অনুষ্ঠানকে ভবিষ্যতের জন্য তৈরি হওয়ার একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বেছে নিয়েছে।
প্রথম আলোর পরামর্শক মুনির হাসান বলেন, এক লাখ শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়, এ রকম কোনো অনুষ্ঠান কোথাও কোনো দেশ করে কি না, জানা নেই।
আরও যাঁরা বক্তব্য দেন
অংশীজনদের মধ্যে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ইলেকট্রোমার্ট লিমিটেডের ন্যাশনাল সেলস ম্যানেজার মো. জুলহক হোসাইন, বিকাশের সহকারী ব্যবস্থাপক (মিডিয়া অ্যান্ড ডিজিটাল মার্কেটিং) নাজমুল আহসান, বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপক (মিডিয়া অ্যান্ড ডিজিটাল মার্কেটিং) মো. আশিকুল ইসলাম, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসির হেড অব স্টুডেন্ট ব্যাংকিং মো. আরিফুর রহমান, কোয়ালিটি গ্রুপের মানবসম্পদ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মো. তমাল হাসান ও ব্যবস্থাপক (লিগ্যাল) আমিরুল হক, আকিজ টেলিকম লিমিটেডের হেড অব সেলস জি এম ফরিদ হোসাইন, প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির হেড অব বিজনেস ডিপার্টমেন্ট মো. জুলফিকার আলী, ডেপুটি ডিরেক্টর (স্ট্রাটেজিক অপারেশন অ্যান্ড স্টুডেন্ট অপারেশনস) মো. মুশফিকুর রহমান ও ডেপুটি ডিরেক্টর (অ্যাডমিশন অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন) মো. জাহিদ হাসান, স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের জনসংযোগ বিভাগের পরিচালক মো. ওমর ফারুক, ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার (পাবলিক রিলেশনস) সৈয়দ আশরাফুল হক, ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ ক্যাম্পাস শাখার উপপরিচালক সাইফুল ইসলাম, অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্যসচিব মো. কামরুজ্জামান, এসিআই কো-রো সানকুইকের ব্রান্ড ম্যানেজার রিয়াজুল কবির, এটিএন বাংলার উপদেষ্টা (অনুষ্ঠান ও সম্প্রচার) তাশিক আহমেদ, আম্বার আইটি লিমিটেডের হেড অব মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন্স হিটলার এ হালিম, প্রথম আলো বন্ধুসভার জাতীয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি জাফর সাদিক।
প্রথম আলোর বিভিন্ন বিভাগের সাংবাদিক ও ব্যবস্থাপকদের মধ্যে ছিলেন উপসম্পাদক লাজ্জাত এনাব মহছি, চিফ অ্যাডভার্টাইজমেন্ট অফিসার মো. রশিদুর রহমান, চিফ ডিজিটাল বিজনেস অফিসার এ বি এম জাবেদ সুলতান। অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ছিলেন প্রথম আলোর মহাব্যবস্থাপক ও হেড অব মার্কেটিং আজওয়াজ খান।
দেশজুড়ে কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা কার্যক্রম কীভাবে হয়, সেটি অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন প্রথম আলোর সহকারী ব্যবস্থাপক (ইভেন্টস) আল মামুন।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এ বছর এসএসসি এবং সমমানের পরীক্ষায় যারা জিপিএ–৫ পাবে, তাদের নিয়েও ‘শিখো-প্রথম আলো জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতী সংবর্ধনা’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। সেই প্রস্তুতি কিছু দিনের মধ্যেই শুরু হবে।