কেনাকাটায় দুর্নীতি হয়েছিল, তদন্ত আমার এখতিয়ারের বাইরে ছিল: সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালফাইল ছবি: প্রথম আলো

আসামিপক্ষের আইনজীবীর জেরায় সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) ইকবাল করিম ভূঁইয়া বলেন, ‘আমি সেনাপ্রধান থাকাকালে কেনাকাটা-সংক্রান্ত দুর্নীতি হয়েছিল। তবে তা আমার এখতিয়ারের বাইরে বিধায় আমি এই বিষয়ে তদন্ত করি নাই।’

জেরায় এক প্রশ্নের জবাবে ইকবাল করিম ভূঁইয়া বলেন, ‘ইহা সত্য নহে যে আমি নিজেও কেনাকাটা-সংক্রান্ত বিষয়ে দুর্নীতির সাথে জড়িত ছিলাম বলে তদন্ত করি নাই।’

আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে শতাধিক মানুষকে গুম ও খুনের ঘটনায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় পঞ্চম দিনের জেরায় আজ মঙ্গলবার ইকবাল করিম ভূঁইয়া এ কথা বলেন। আজকে তাঁকে জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী আবুল হাসান।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে ২০১২ সালের ১৫ জুন থেকে ২০১৫ সালের ২৪ জুন পর্যন্ত সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ইকবাল করিম ভূঁইয়া।

এক প্রশ্নের জবাবে সাবেক এই সেনাপ্রধান বলেন, ‘ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের সিনিয়র অফিসার অনেকেই ছিল। তবে তাদের নাম মনে নেই। অফিসারদের বিরুদ্ধে অবৈধ আয়ের উৎস শনাক্ত করে কোনো আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করি নাই। কারণ, তা আমার এখতিয়ারের বাইরে ছিল।’

গণ-অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। এর তিন দিন পর ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়। আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে শতাধিক মানুষকে গুম ও খুনের ঘটনায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা হয়। এ মামলায় প্রথম সাক্ষী হিসেবে ইকবাল করিম ভূঁইয়া ৮ ও ৯ ফেব্রুয়ারি জবানবন্দি দেন। ৯ ফেব্রুয়ারির জবানবন্দি শেষে তাঁকে প্রথম দফায় জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী। এরপর ১৮ ও ২৩ ফেব্রুয়ারি এবং ২ মার্চ তাঁকে আরও তিন দফায় জেরা করা হয়।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ এই মামলার বিচার চলছে। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের এই ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

এ মামলার একমাত্র আসামি জিয়াউল আহসান গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। আজ তাঁকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।