ধর্ষণ ও হত্যার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচার চান ২১ বিশিষ্ট নাগরিক
দেশে ক্রমবর্ধমান নারী-শিশু ধর্ষণ ও হত্যার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচারের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন ২১ জন বিশিষ্ট নাগরিক। এর পাশাপাশি তাঁরা নারী, শিশু, সংখ্যালঘু ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি তুলেছেন।
গত বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক যুক্ত বিবৃতিতে ২১ জন বিশিষ্ট নাগরিক এই দাবি জানান। তাঁদের পক্ষে বিবৃতিটি গণমাধ্যমে পাঠিয়েছেন সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক সালেহ আহমেদ।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘দেশজুড়ে ক্রমবর্ধমান সহিংসতা, শিশু ধর্ষণ ও হত্যা, দমন-পীড়ন ও জনজীবনে অনিরাপত্তার পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করছি। সম্প্রতি মাত্র সাত দিনে চারজন কন্যাশিশু ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হয়েছে বলে জানা গেছে। এসব ঘটনা নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা এবং ন্যায়বিচার ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার স্পষ্ট প্রতিফলন।’
সামাজিক অবক্ষয়ের প্রতিচ্ছবি এসব সহিংস ঘটনা জনমনে আতঙ্কের পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে উল্লেখ করে বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দীর্ঘ সময় ধরে চলা বিচারহীনতার সংস্কৃতি অপরাধীদের আরও উৎসাহিত করছে।
অন্যদিকে হামের টিকার ঘাটতি এবং সম্ভাব্য প্রাদুর্ভাবে শিশুমৃত্যুর মিছিল ক্রমেই বেড়ে চলেছে। দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে।
মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর ক্রমবর্ধমান হামলা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ২১ জন বিশিষ্ট নাগরিক বলেন, ধর্মের নামে ভিন্নমত দমন, ভয়ভীতি সৃষ্টি বা নিপীড়ন কাম্য হতে পারে না। বর্তমান সময়ে শিশু, নারী, সংখ্যালঘু ও সাধারণ মানুষ ক্রমাগত ভয় ও অনিরাপত্তার মধ্যে বসবাস করছে। সহিংসতা, হয়রানি, মব সন্ত্রাস এবং আইনের অপপ্রয়োগ উদ্বেগজনকভাবে স্বাভাবিক হয়ে উঠছে।
নীরবতা কখনোই দায় মুছে দিতে পারে না উল্লেখ করে ২১ জন বিশিষ্ট নাগরিক বলেন, অস্বীকার কোনোভাবেই ন্যায়বিচারের বিকল্প হতে পারে না। নিরাপত্তা, মর্যাদা, জবাবদিহি এবং গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা বাংলাদেশের মানুষের অধিকার।
ক্রমবর্ধমান নারী-শিশু ধর্ষণ ও হত্যা, ধর্মীয় সংখ্যালঘু নির্যাতন এবং প্রতিরোধযোগ্য শিশুমৃত্যুর দায় কারা নেবে? স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন এবং দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচার কোথায়? দায়বদ্ধতা কি আবারও আমলাতন্ত্র ও রাজনৈতিক অপসংস্কৃতির আড়ালে হারিয়ে যাবে?—প্রশ্ন রাখেন ২১ জন বিশিষ্ট নাগরিক।
বিবৃতিতে সই করেছেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা সুলতানা কামাল ও রাশেদা কে চৌধূরী, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য রামেন্দু মজুমদার, সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক সালেহ আহমেদ, নিজেরা করির নির্বাহী পরিচালক খুশী কবির, বাংলাদেশ কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি নূর মোহাম্মদ তালুকদার, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের উপদেষ্টা কাজল দেবনাথ।
আরও সই করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির শিক্ষক এম এম আকাশ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ আবদুল্লাহ আল-মামুন চৌধুরী, চিকিৎসক লেলিন চৌধুরী, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জাহিদুল বারী, সাংস্কৃতিক সংগঠন আনন্দনের প্রধান সংগঠক এ কে আজাদ, সুরকার ও গীতিকার সেলিম রেজা, খেলাঘরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম, মানবাধিকারকর্মী পারভেজ হাসেম।
শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদের (স্কপ) যুগ্ম সমন্বয়ক নুরুল আমিন, শিক্ষক নেতা জাহাঙ্গীর আলম, বাংলাদেশ মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রণজিৎ কুমার সাহা, কেন্দ্রীয় খেলাঘরের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল কবির এবং ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়ন বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান আজিজ বিবৃতিতে সই করেছেন।