পেট্রলপাম্পে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি পাম্পমালিকদের

জ্বালানি তেলের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে পেট্রলপাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সংবাদ সম্মেলন। আজ মঙ্গলবার রাজধানীর মগবাজারে।ছবি: প্রথম আলো

দেশের পেট্রলপাম্পগুলোয় নিরাপত্তা জোরদার, সরকারি মনিটরিং বৃদ্ধি ও বিশৃঙ্খলা রোধে উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে পেট্রলপাম্পের মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটর্স, এজেন্ট অ্যান্ড পেট্রলপাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তেলের কোনো স্থায়ী সংকট নেই। তাই আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ না করে সবাইকে ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে।

দেশে জ্বালানি তেল নিয়ে সাময়িক চাপ ও ভোক্তাদের মধ্যে আতঙ্কের প্রেক্ষাপটে রাজধানীর মগবাজারে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটর্স, এজেন্ট অ্যান্ড পেট্রলপাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের কার্যালয়ে আজ মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানিয়েছেন সংগঠনটির আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল।

যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ চলছে। মাসব্যাপী চলা এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়েছে। এতে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় বিশ্বে নজিরবিহীন জ্বালানিসংকট তৈরি হয়েছে। যার প্রভাব বাংলাদেশেও প্রকট আকার ধারণ করেছে।

চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ না থাকায় বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহনের দীর্ঘ লাইন কমছে না। কোথাও কোথাও অকটেন ফুরিয়ে যাওয়ায় বিক্রি বন্ধ। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে তেল না পেয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে চালকদের। ডিজেলের সংকটে নৌযান চলাচলও কমে গেছে।

সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম বলেন, দেশের পেট্রলপাম্পগুলো সরকার নির্ধারিত দামে নিয়মিত জ্বালানি তেল সরবরাহ করে আসছে। মালিক ও কর্মীরা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করলেও বিভিন্ন স্থানে পাম্পে হামলা, কর্মীদের লাঞ্ছনা ও হয়রানির ঘটনা ঘটছে, যা উদ্বেগজনক।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার কারণে সরকার জ্বালানি তেল সরবরাহে রেশনিং ব্যবস্থা চালু করেছে। তবে এটি সাময়িক ব্যবস্থা। সরকারের দাবি অনুযায়ী দেশে পর্যাপ্ত তেলের মজুত আছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ চলছে।

অযথা আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ বা ‘প্যানিক বায়িং’ পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করে তুলতে পারে। এতে কৃত্রিম সংকট তৈরি হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে এবং অনেকেই প্রয়োজনীয় তেল থেকেও বঞ্চিত হতে পারেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, ব্যক্তিগতভাবে তেল মজুত করা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা বিপজ্জনক। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে; বরং পারস্পরিক সহমর্মিতা ও সংযমের মাধ্যমে সংকট মোকাবিলা সম্ভব।

আরও পড়ুন

সংগঠনটি জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো গুজবে কান না দিয়ে পাম্প থেকে নির্ধারিত নিয়ম মেনে তেল সংগ্রহ করা উচিত। পাশাপাশি পাম্পে শৃঙ্খলা বজায় রাখা ও কর্মীদের সঙ্গে সহযোগিতামূলক আচরণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

পাম্পে নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে আট দফা প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। প্রস্তাবগুলো হলো—

  • পেট্রলপাম্পে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা

  • বাস্তবতার ভিত্তিতে তেল সরবরাহ সমন্বয় করা

  • ভোক্তাদের সচেতনতা ও ধৈর্য বজায় রাখা

  • পাম্পে হুমকি বা বিশৃঙ্খলা বন্ধ করা

  • পেট্রল-অকটেন বিক্রির সময় সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা নির্ধারণ

  • উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে নিরাপত্তা জোরদার

  • ট্যাংকলরিতে পূর্ণ ধারণক্ষমতা অনুযায়ী তেল সরবরাহ

  • সরকারি মনিটরিং জোরদার ও অযথা দোষারোপ বন্ধ।

সংগঠনটি জানিয়েছে, রাতে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পেট্রল ও অকটেন সরবরাহ সীমিত রাখার প্রস্তাব করা হলেও ডিজেল সরবরাহ অব্যাহত থাকবে, যাতে গণপরিবহন চলাচলে সমস্যা না হয়।

কৃত্রিম সংকট নিয়ে অভিযোগের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে সংগঠনটির আহ্বায়ক বলেন, কোনো পাম্প ইচ্ছাকৃতভাবে তেল সরবরাহ বন্ধ রাখলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত, এমনকি ডিলারশিপ বাতিলও করা যেতে পারে।

সাজ্জাদুল করিম বলেন, ট্যাংকে কিছু তেল রেখে সরবরাহ বন্ধ করার প্রযুক্তিগত কারণ আছে—পুরো ট্যাংক খালি হয়ে গেলে ‘এয়ারলক’ তৈরি হয়, যা আবার চালু করতে সময় লাগে। অবৈধভাবে তেল বিক্রির বিষয়ে তিনি দাবি করেন, অনেক ক্ষেত্রে মোটরসাইকেলচালকেরাই ট্যাংক পূর্ণ করে বাইরে বেশি দামে বিক্রি করছেন। তবে অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংগঠন নিজেও ব্যবস্থা নেবে এবং সরকারকে সহায়তা করবে।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সদস্যসচিব মীর আহসান উদ্দিন, যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান রতনসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন