অনুদান ও জাকাত প্রদানকে আরও সহজ করেছে বিকাশ
সংযম, ইবাদত আর আত্মশুদ্ধির রমজান মাসে মুসলমানরা তাঁদের সামর্থ্যের সর্বোচ্চটুকু দিয়ে দান-সদকা ও জাকাত প্রদান করে থাকেন। সরাসরি অনুদান প্রদানের পাশাপাশি এখন বড়সংখ্যক মানুষ নির্ভর করছেন ডিজিটাল আর্থিক সেবার ওপর। প্রযুক্তির সহায়তায় দাতার হাত থেকে উপকারভোগীর হাতে পৌঁছে যাচ্ছে সহায়তার অর্থ—দ্রুত, অধিকতর সহজ ও স্বচ্ছ উপায়ে।
দান-অনুদান কিংবা জাকাতের টাকা সঠিক বণ্টনের এই বিস্তারে ভূমিকা রাখছে দেশের বৃহত্তম মোবাইল আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ‘বিকাশ’। বিকাশের মাধ্যমে এখন দেশজুড়ে কাজ করা ৫০টির বেশি দাতব্য ও স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানে সরাসরি জাকাত ও অনুদান পাঠানো যাচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সংস্থা ও সংগঠনের মার্চেন্ট অ্যাকাউন্টের মাধ্যমেও জাকাত ও অনুদান পাঠানোর সুযোগ রয়েছে।
বছরজুড়েই অনুদান দেওয়ার সুযোগ থাকলেও রমজান মাসে এর ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। বিকাশ অ্যাপের ‘ডোনেশন’ আইকনে ক্লিক করে পছন্দের প্রতিষ্ঠান নির্বাচন, নাম-ই–মেইল ও অনুদানের পরিমাণ উল্লেখ করে সাবমিট—এভাবেই কয়েক ধাপে সম্পন্ন করা যায় অনুদান। দাতা চাইলে ‘পরিচয় দিতে অনিচ্ছুক’ অপশন বেছে নিয়ে গোপনীয়তাও বজায় রাখতে পারেন। অনুদান সম্পন্ন হলে তাৎক্ষণিক প্রাপ্তিস্বীকারপত্র পাওয়া যায়। প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ‘আরও জানুন’ অংশে ক্লিক করার সুবিধাও রয়েছে। এমনকি অনুদানের অর্থ কোথায় ব্যয় হচ্ছে, সে তথ্য জানার জন্য অনুদান শেষে প্রাপ্তিস্বীকারপত্রে দেওয়া ই-মেইলে যোগাযোগ করতে পারবেন দাতারা।
শুরুর দিকের অনুদান সংগ্রহের ইতিহাস স্মরণ করে আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের ট্রাস্টি ও সহসভাপতি মোহাম্মদ আজিম বখ্শ বলেন, ‘একটা সময় ছিল, যখন দোকানে মানুষ কোটার বাক্সে দানের টাকা ফেলত। কালের বিবর্তনে এখন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এসেছে। এখন সুবিধা হলো, মানুষ দেশের ৬৪ জেলার যেকোনো স্থান থেকে যেকোনো অ্যামাউন্ট দান করতে পারছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘আগে আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামে জাকাত প্রদানকারীর সংখ্যা ছিল ২০০ থেকে ৪০০ জন। এখন মোট দাতার সংখ্যা প্রায় ১২ হাজার। বিকাশের মাধ্যমে এই বিশালসংখ্যক মানুষের কাছ থেকে ডোনেশন পাচ্ছি আমরা।’
বর্তমানে সবকিছুই ডিজিটাল হয়ে গেছে উল্লেখ করে সেন্টার ফর যাকাত ম্যানেজমেন্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া বলেন, ‘বিকাশের মাধ্যমে অনেকেই আমাদের এখানে জাকাত, দান-সদকা দিয়ে থাকেন। এই সংগ্রহ প্রক্রিয়া অত্যন্ত স্বচ্ছ। সেন্টার ফর যাকাত ম্যানেজমেন্টে যাঁরা অনুদান পাঠান, তাঁদেরকে সঙ্গে সঙ্গেই একটা রিসিপ্ট পাঠানো হয়। পরবর্তী সময়ে সংগৃহীত টাকা কোথায় ব্যয় করা হচ্ছে এবং কারা এর দ্বারা উপকৃত হচ্ছে—সেটাও দাতারা জানতে পারেন।’
বিকাশ অ্যাপ বা ওয়েবসাইট থেকে যেসব প্রতিষ্ঠানে অনুদান দেওয়া যায়
আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম, বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশন, সেন্টার ফর যাকাত ম্যানেজমেন্ট, ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন, ডু-নেশন ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট, ফ্রেন্ডশিপ, ব্র্যাক, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, টিএমএসএস, আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন, একশনএইড, আল মারকাজুল ইসলামী, চট্টগ্রাম মা-শিশু ও জেনারেল হাসপাতাল, এসো সবাই, ফুড ফর অল-খুকুমনি ফাউন্ডেশন, হিউম্যান এইড বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন, গিভ বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন, ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশন (জাকাত), আইসিডিডিআরবি, জাগো ফাউন্ডেশন, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, মাস্তুল ফাউন্ডেশন, মজার ইশকুল, ন্যাশনাল লিভার ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ, অভিযাত্রিক ফাউন্ডেশন, প্রথম আলো ট্রাস্ট, কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন, রোগী কল্যাণ সমিতি (জাকাত), আমরা পরোপকারী পরিবার, সাজিদা ফাউন্ডেশন, শক্তি ফাউন্ডেশন, এসওএস চিলড্রেন ভিলেজ বাংলাদেশ, তাসাউফ ফাউন্ডেশন, উৎস বাংলাদেশ, ইউনিসেফ ও বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি।
বিকাশের মাধ্যমে ডোনেশনের বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন।