আগামী মাসেও একই থাকছে জ্বালানি তেলের দাম
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে অস্থিরতা তৈরি হয়। বিশ্ববাজারে দাম অনেক বেড়ে গেলে দেশেও গত এপ্রিলের মাঝামাঝি দাম বাড়ানো হয়। এরপর মে মাসে জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়। জুন মাসের জন্য তিন ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় সরকার। এরপর জুলাইয়ে দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়। আগস্টেও তা বহাল রয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে অপরিবর্তিত রাখার কথা জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১১৫ টাকা। গত ১৯ এপ্রিল থেকে এ দামে বিক্রি হচ্ছে ডিজেল। কেরোসিনের দাম প্রতি লিটার ১৩৫ টাকা, পেট্রলের দাম প্রতি লিটার ১৪০ টাকা আর অকটেনের দাম ১৪৫ টাকা করা হয়েছে। জুন থেকে এ দামেই বিক্রি হচ্ছে বাজারে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দেশের ইতিহাসে একলাফে জ্বালানি তেলের সর্বোচ্চ মূল্যবৃদ্ধি হয় ২০২২ সালের আগস্টে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর ডিজেলের দাম সাড়ে ৪২ শতাংশ বাড়িয়ে ১১৪ টাকা করা হয়। যদিও সমালোচনার মুখে একই মাসে লিটারে ৫ টাকা কমানো হয়েছিল দাম। আর গত এপ্রিলে মূল্যবৃদ্ধির পর দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দামে পৌঁছায় জ্বালানি তেল। পরের মাসে তা অপরিবর্তিত রাখা হলেও গত জুনে প্রতি লিটার কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেনের দাম ৫ টাকা করে বাড়ানো হয়।
২০২৪ সালের মার্চ থেকে বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জ্বালানি তেলের স্বয়ংক্রিয় মূল্যনির্ধারণ শুরু করে সরকার। সে হিসাবে আগের মাসে আমদানি করা জ্বালানি তেলের খরচ বিবেচনায় নিয়ে প্রতি মাসে নতুন দাম সমন্বয় করা হয়। মার্চের মতো এপ্রিলেও শুরুতে দাম অপরিবর্তিত রাখে সরকার।
জ্বালানি তেলের মধ্যে উড়োজাহাজে ব্যবহৃত জেট ফুয়েল ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহৃত ফার্নেস অয়েলের দাম নির্ধারণ করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। আর নির্বাহী আদেশে ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেনের দাম নির্ধারণ করে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে। এতে প্রভাব পড়ে বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের সরবরাহে। দেশেও তেলের সরবরাহ নিয়ে আতঙ্ক তৈরি হয়। ফিলিং স্টেশনগুলোতে লম্বা লাইন বাড়তে থাকে। তবে নতুন দাম কার্যকর হওয়ার এক দিন পর ২০ এপ্রিল থেকে বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ বাড়ানো হয়। এরপর ধীরে ধীরে ফিলিং স্টেশন থেকে ভিড় কমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।