রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার ঈশ্বরীপুরে গত বছরের ২৩ মার্চ দুই সাঁওতাল কৃষকের আত্মাহুতি আমাদের অনেককেই কাঁদিয়েছিল। সবটা ‘ক্যামেরা কান্না’ ছিল কি না জানি না, তবে দীর্ঘশ্বাসগুলো সত্যিকারের ছিল। সেচের পানি না পাওয়ায় নিরুপায় হয়ে তাঁরা প্রতিবাদস্বরূপ আত্মাহুতি দিয়েছিলেন।

সাঁওতালদের ‘বেটা’ অভিনাথ মার্ডি ও তাঁর চাচাতো ভাই রবি মার্ডি একটু পানির জন্য বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) ডিপ অপারেটরের পায়ে–পায়ে ১২ দিন ধরে ঘুরছিলেন। মাগনা ছিল না সেই ‘জলপ্রার্থনা’। আগাম নগদ অর্থ দিয়েও অপারেটরের মন ভেজাতে পারেননি তাঁরা। তাঁদের সেচের পানি দেওয়া হয়নি।

বোরো ধানের আবাদের সঙ্গে যাঁদের বিন্দুমাত্র জানাশোনা আছে, তাঁরা বুঝবেন চৈত্রের গরমে টানা ১২ দিন ধানের কচি চারাগুলোর পিয়াস মেটাতে না পারলে কী নতিজা হয়। পানি শুকিয়ে ধানি জমি বিবর্ণ হতে থাকে। সর্বশেষ ২৩ মার্চ আবারও ডিপ অপারেটরের কাছে সেচের পানির জন্য যান অভিনাথ ও রবি। কিন্তু সিরিয়াল না পেয়ে অসহায় দুজন একসঙ্গে বিষপান করেন।

প্রথমে সেই আত্মাহুতিকে হাঁড়িয়া পানজনিত মৃত্যু বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। ময়নাতদন্তে হাঁড়িয়া নয়, বিষই পাওয়া যায়। তাতে সবার টনক না নড়লেও অনেকে নড়েচড়ে বসেন। গরিব ভাগচাষির জন্য সেটাও অনেক।

‘সিরিয়াল’–এর শিকল থেকে মুক্তি নেই

সেচের পানির ন্যায্য হিস্যা নিয়ে দাঙ্গা–হাঙ্গামার খবর ইতিমধ্যে গণমাধ্যমে আসতে শুরু করেছে। গত চার–পাঁচ সপ্তাহে চট্টগ্রামের হাটহাজারী থেকে জামালপুরের মাদারগঞ্জ পর্যন্ত পানি নিয়ে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়েছে। হাটহাজারীতে একজনকে পিটিয়েই মেরে ফেলা হয়েছে। হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে জমিতে সেচ দেওয়া নিয়ে সংঘর্ষে টেঁটাবিদ্ধসহ অন্তত ২৫ জন আহত হন। গত বছরের এপ্রিলে এই বানিয়াচংয়ে সেচ নিয়ে কাইজায় টেঁটার আঘাতে নিহত হয়েছিলেন ১৮ বছরের তরুণ মোশাহিদ মিয়া।

সেচ নিয়ে গোল বেধেছে ঝিনাইদহের শৈলকুপায়। দুই পক্ষের সংঘর্ষে সেখানে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ সেখানে এমন পর্যায়ে চলে গেছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়তে হয়। জামালপুরের মাদারগঞ্জে ধানখেতে পানি সেচ দেওয়া নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে নারীসহ ১৪ জন আহত হন।

কেন পরিস্থিতি জটিলতর হচ্ছে

রবি মৌসুমে প্রায় ৫০ লাখ হেক্টর জমিতে সেচনির্ভর ফসলের চাষ হয়। এসব চাষাবাদের জন্য সার-বীজ, কীটনাশকের পাশাপাশি আরেক জরুরি উপাদান পানি। আমাদের সেচের পানির প্রধান দুটি উৎস হচ্ছে উন্মুক্ত জলাশয় (নদী, খাল, বিল, পুকুর, নালা ইত্যাদি) আর ভূগর্ভের পানি। দুই উৎস থেকে সেচের পানি নিতে বিদ্যুৎ লাগে। ফেব্রুয়ারি থেকে সেচ মৌসুম শুরু হয়ে চলে ৩১ মে পর্যন্ত। এই সময় বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ে। চলতি মৌসুমে মোট সেচ সংযোগের সংখ্যা কাগজে–কলমে ৪ লাখ ৬৫ হাজার ৪৫৬টি। এ জন্য বিদ্যুৎ লাগবে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট।

বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, এবার সেচ মৌসুমে বিদ্যুতের দৈনিক চাহিদা প্রায় দেড় হাজার মেগাওয়াট বাড়বে। গত বছর সেচ মৌসুমে ১৬ এপ্রিলে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ছিল ১৪ হাজার ৭৮২ মেগাওয়াট। সুতরাং এবার আমাদের প্রয়োজন হবে ১৬ হাজার মেগাওয়াট। গত বছর অন্য জায়গায় বিদ্যুৎ বন্ধ রেখে সেচের চাহিদা মেটানো হয়েছিল। এবার পরিস্থিতি আরও নাজুক।

সর্বশেষ জেলা প্রশাসকদের সম্মেলন শেষে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘সামনের মৌসুমে বিদ্যুৎ বিতরণের ক্ষেত্রে সেচকে যেন সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়, আমরা সেটা বলেছি। সেচ মৌসুমে বিদ্যুৎ–ঘাটতি হলে সংশ্লিষ্ট বিতরণ কোম্পানিগুলোকে বিকল্প উপায়ে তা সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে।’

প্রতিমন্ত্রী বিপিসিকে চাহিদার অতিরিক্ত ফার্নেস অয়েল কিনে রাখার নির্দেশনা দিয়েছেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি), পেট্রোবাংলা ও বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করে বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্রগুলোতে জ্বালানি তেল, গ্যাস ও কয়লার সরবরাহ নিশ্চিত করতে বলেছেন। তিনি সেচপাম্পে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে গ্রিড উপকেন্দ্র, সঞ্চালন লাইন, বিতরণ লাইন এবং উপকেন্দ্রগুলো সংরক্ষণ ও মেরামতকাজ জরুরিভিত্তিতে শেষ করারও নির্দেশনা দেন।

পানির স্তর দ্রুত নেমে যাচ্ছে

যেসব জায়গায় ভূগর্ভের পানি দিয়ে সেচকাজ চলে, সেখানে আশঙ্কাজনক হারে পানির স্তর নেমে যাচ্ছে। অনেক জায়গায় ডিজেলচালিত শ্যালো মেশিন কাজ করছে না। অকেজো হয়ে পড়েছে ডিপ সেট টিউবওয়েল ও অগভীর নলকূপ। আধুনিক সাবমার্সিবল পাম্প ছাড়া ভূগর্ভের পানি ওঠানো যাচ্ছে না। নাটোরের গুরুদাসপুরে গত পাঁচ বছরে পানির স্তর প্রায় ১৭ ফুট নিচে নেমে যাওয়ায় সেচসংকট তীব্র হয়েছে।

চলনবিলের কোলে অবস্থান হলেও গুরুদাসপুরের নিম্নাঞ্চলের নদী-নালায়ও পানি নেই। ফলে অন্তত ১০ ফুট গর্ত করে ডিজেলচালিত শ্যালো মেশিন বসিয়ে পানি তুলতে হচ্ছে। এতে পরিশ্রমের পাশাপাশি বাড়ছে সেচ খরচ। বিএডিসির জরিপমতে, ২০১৮ সালে যেখানে ১৯ ফুট নিচে গেলেই সেচের পানি মিলত, সেখানে এখন ৩৬ ফুট নিচে যেতে হচ্ছে।

সেচপাম্পে বিতরণ নীতিমালা মানা হচ্ছে না

নীতিমালা অনুযায়ী, একটি সেচপাম্প থেকে আরেকটির দূরত্ব ২ হাজার ৭০০ ফুট (৮২৩ মিটার) থাকতে হবে। একটি লো-লিফট পাম্পের (এলএলপি) আওতায় সর্বোচ্চ ২ হাজার হেক্টর (১৪ হাজার ৯৪০ বিঘা) আবাদি জমি থাকতে পারে। বিএডিসির কর্মকর্তারা সেচপাম্প বরাদ্দের নীতিমালা মানেননি। সেচপাম্প স্থাপনে অনিয়মের বিষয়ে বিএডিসির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুদক প্রধান কার্যালয়ে অভিযোগ করেছে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা সেচ ও কৃষি উন্নয়ন সমবায় সমিতি। সেখানে ২০০ মিটারের মধ্যে একাধিক পাম্প দেওয়া হয়েছে। এতে একেকটি পাম্প ৩০০-৪০০ বিঘা জমিতে সেচ দিতে পারছে না।

পাম্পমালিকেরা বলেন, মাসে কমপক্ষে ১ হাজার ২০০ বিঘা জমিতে সেচ দিতে পারলে বিদ্যুৎ বিল উঠে আসে। কাছাকাছি দূরত্বে একাধিক পাম্প দেওয়ায় বিদ্যুৎ বিলের টাকাই উঠছে না।

মেহেরপুরে এলএলপি সেচ প্রকল্প নিতে আবেদনকারীকে ২০ হাজার টাকা জমা দিতে হয়। একটি সেচ প্রকল্প নির্মাণে সরকারের ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা খরচ পড়ে। পাম্পমালিকেরা বলছেন, প্রকল্পের আওতায় গাংনী উপজেলায় ১২টি এলএলপি মধ্যে ৬টি দেওয়া হয়েছে ৪০০ মিটারের কম দূরত্বে। এতে পানির অপচয়সহ দ্রুত পানির স্তর দ্রুত নেমে যাচ্ছে।

একই ঘটনা গোবিন্দগঞ্জের। ভগর্ভস্থ পানি ব্যবস্থাপনা ও সেচ আইন অমান্য করে মাত্র ২৫০ ফিট ব্যবধানে নতুন করে অগভীর সেচ লাইসেন্স দেওয়া ও সেচ প্রকল্প গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। এতে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।

ট্রান্সফরমার চুরি বাড়ছে

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ, রাজশাহীর তানোর, নওগাঁর রানীনগর, মেহেরপুরের গাংনীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সেচ মৌসুমে ট্রান্সফরমার চুরি বেড়েছে। গত কয়েক মাসে কেবল কোম্পানীগঞ্জে অন্তত ১২টি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। মেহেরপুরের গাংনীতে গত তিন মাসে খোয়া গেছে কমপক্ষে ২২টি ট্রান্সফরমার। ফলে এসব জায়গায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন চাষিরা। চুরির ঘটনায় প্রথমবার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ৫০ শতাংশ দামে ট্রান্সফরমার সরবরাহ করলেও দ্বিতীয়বার চুরি হলে গ্রাহককে পুরো টাকা দিতে হয়।

চুরির অভিযোগ উঠেছে একশ্রেণির অপারেটর ও পল্লী বিদ্যুতের কথিত কর্মচারীদের দিকে। কৃষকদের অভিযোগ, সেচ–বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে অপারেটর ও কথিত কর্মচারীরা সিন্ডিকেট করে ট্রান্সফরমার চুরি করছেন। তাঁদের অভিযোগ, অভিজ্ঞ ব্যক্তি ও পল্লী বিদ্যুতের লোকজনের যোগসাজশ ছাড়া অল্প সময়ে এত ট্রান্সফরমার চুরি প্রায় অসম্ভব। ভুক্তভোগীরা মনে করেন, পুলিশ তৎপর হলেই এসব চুরি বন্ধ হতে পারে। অথচ নওগাঁর রানীনগরে পুলিশ করছে উল্টো কাজ। প্রথম চুরির পরের রাতে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করলেও তাঁদের চুরি নয়, জুয়ার মামলায় আদালতে সোপর্দ করা হয়।

সেচ নবাবদের নবাবি বেড়েই চলেছে

সেচের চাহিদা থাকায় সেচ আর বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের একশ্রেণির কর্মকর্তা–কর্মচারীরা ক্রমশ সেচ নবাবে পরিণত হচ্ছে। তাদের স্বেচ্ছাচারী কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ সাধারণ চাষিরা। কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার বেরুবাড়ী ইউনিয়নের বলরামপুর গ্রামে গভীর নলকূপের অপারেটর ও হতদরিদ্র কৃষক কেদার আলীর দায়িত্বে থাকা গভীর নলকূপের দুটি ট্রান্সফরমার চার মাস আগে চুরি হয়ে যায়। পরদিন বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) নাগেশ্বরী অফিসে জানানো হলেও অফিস থেকে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি মেকানিক।

পরে গভীর নলকূপের অপারেটর কেদার আলীকে ট্রান্সফরমারের মূল্য বাবদ ৪০ হাজার টাকা দেওয়ার দিতে বলেন মেকানিক। আংশিক অর্থ দিয়ে বাকি টাকা কিস্তিতে দেওয়ার বিধান থাকলেও কেদার আলীকে সে সুযোগ দেওয়া হয়নি। একপর্যায়ে মেকানিক ট্রান্সফরমার দেওয়ার কথা বলে তাঁর কাছ থেকে ২৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন।

দুই মাস পার হলেও কেদার আলীকে ট্রান্সফরমার দেওয়ার কথা বলে টালবাহানা করছেন মেকানিক। শোনা যাচ্ছে, এই ব্যক্তি নাকি অফিসে ২৫ হাজার টাকা জমা দেননি। মৌসুমের শুরুতে গভীর নলকূপ চালু করতে না পারায় সেখানকার স্কিমভুক্ত কৃষকদের দিশেহারা অবস্থা।

আরেক ঘটনায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাটে নলকূপের নারী অপারেটর ও তাঁর স্বামীকে অফিসে ডেকে কান ধরে ওঠবস করানোর অভিযোগ উঠেছে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন প্রকল্পের সহকারী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে। নারী অপারেটর সখিনা বেগমের অপরাধ, তিনি নলকূপ মেরামতের জন্য প্রকৌশলীকে বারবার তাগিদ দিয়েছিলেন।

দিনাজপুরের হিলি উপজেলার খট্টামাধবপাড়া ইউনিয়নের বলরামপুর (গোবিন্দপুর) গ্রামের সেচপাম্পটি পরিচালনা করছে সেখানকার কৃষক সমবায় সমিতি। সেচপাম্পের জায়গা নিজের দাবি করে সেখানে তালা দিয়ে রেখেছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য। এতে বোরোর বীজতলা নষ্ট হয়ে কৃষকদের ধান রোপণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। সেচপাম্পের জমির মালিকানা নিয়ে দুই পক্ষের দ্বন্দ্বে ২০০ বিঘা জমির বোরো আবাদ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

সমাধানের পথ কী

জেলা–উপজেলায় সেচ নিয়ে বিরোধ থেকে ‘সেচ সংঘর্ষ’ কোথাও কোথাও এই সংঘর্ষ ভয়াবহ রূপ নিয়ে থাকে। সেচ নিয়ে সংঘর্ষপ্রবণ এলাকাগুলো আগে থেকে চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে হবে। জেলা–উপজেলায় সেচ টাস্কফোর্স গড়ে সময়মতো তাদের কাজে লাগানো যেতে পারে। যেখানে মানুষ আস্থার সঙ্গে তাঁদের সমস্যার কথা বলতে এবং ন্যায়বিচার আশা করতে পারবেন।

বর্তমানে গভীর নলকূপ পরিচালনার ক্ষেত্রে দুটি পদ্ধতি চালু আছে। একটি হচ্ছে বরেন্দ্র প্রকল্পের অধীনে সরকারিভাবে পরিচালিত গভীর নলকূপভিত্তিক সেচ প্রকল্প। এখানে বরেন্দ্র প্রকল্পের তরফ থেকে বিদ্যুৎ–সংযোগসহ যাবতীয় তদারকি কাজ করা হয়ে থাকে।

দ্বিতীয়টি হচ্ছে, ব্যক্তি ও সমবায়ভিত্তিক সেচ প্রকল্প। এ ক্ষেত্রে গভীর নলকূপের যাবতীয় মেরামত, সংরক্ষণকাজসহ জ্বালানি সরবরাহ বা বিদ্যুৎ–সংযোগের যাবতীয় কাজ স্কিম পরিচালকদেরই বহন করতে হয়। উভয় ব্যবস্থায় পানি–বাণিজ্যের একটি বিরাট বাজার তৈরি হয়েছে—ওপরের উদাহরণগুলো থেকে এমনই ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। সেচ দিন দিন দরিদ্র কৃষকদের শোষণের হাতিয়ার হয়ে উঠছে। সেচব্যবস্থায় প্রকৃত কৃষকের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে কৃষকবান্ধব একটা সেচব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

  • গওহার নঈম ওয়ারা, লেখক গবেষক

  •  ই–মেইল: nayeem [email protected]