যুব উন্নয়নে নিয়োগের প্রশ্নপত্র ফাঁস: তদন্তে অগ্রাধিকার পাচ্ছে দুটি বিষয়

সড়ক অবরোধ করে পরীক্ষার প্রবেশপত্র ছিঁড়ে প্রতিবাদ পরীক্ষার্থীদের। গতকাল শনিবার বেলা ১১টায় রাজধানীর সাতমসজিদ রোডেছবি: প্রথম আলো

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে পাঁচ সদস্যের কমিটি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দুটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে কমিটি তদন্ত শুরু করেছে। এক. প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় কারা জড়িত। দুই. এই ঘটনায় কাদের গাফিলতি ছিল।

আজ রোববার তদন্ত কমিটির সদস্যরা রাজধানীর মতিঝিলে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরে যাবেন বলে জানা গেছে। তাঁরা সেখান থেকে তথ্য সংগ্রহ করবেন।

আরও পড়ুন

সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগের লক্ষ্য গতকাল শনিবার ঢাকার ৯৫টি কেন্দ্রে প্রিলিমিনারি (বাছাই) পরীক্ষার আয়োজন করা হয়েছিল। ২৪২টি পদের বিপরীতে আবেদন করেছিলেন প্রায় ৩ লাখ ১৯ হাজার প্রার্থী।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি নজরে আসায় পরীক্ষা শুরুর আগে তা স্থগিত করা হয়। পরীক্ষা স্থগিত হওয়ায় ক্ষুব্ধ হন প্রার্থীরা। তাঁরা রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ করে প্রতিবাদ করেন।

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর জানিয়েছে, স্থগিত হওয়া পরীক্ষাটি ১৬ অক্টোবর শুক্রবার বেলা তিনটায় নেওয়ার তারিখ ও সময় প্রাথমিকভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। পরীক্ষার্থীদের এসএমএসের মাধ্যমে বিষয়টি আবার জানানো হবে।

আরও পড়ুন

প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা তদন্তে গতকাল যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মাহফুজুল আলম খানকে প্রধান করে পাঁচ সদস্য একটি কমিটি করা হয়। পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটিকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব নুসরাত আইরিন, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপসচিব জিল্লুর রহমান, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের পরিচালক এ কে এম মফিজুল ইসলাম।

জানা গেছে, গতকাল রাত থেকেই কমিটির সদস্যরা কাজ শুরু করেছেন। তদন্ত কমিটির একজন সদস্য প্রথম আলোকে বলেন, তদন্ত করতে গিয়ে কারিগরি কিছু বিষয় সামনে আসতে পারে। তাই তাঁরা তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগ থেকে একজন কর্মকর্তা চাইবেন।

আরও পড়ুন

এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কীভাবে প্রশ্নপত্র গেল, প্রশ্নপত্র ফাঁসে কারা জড়িত, কাদের গাফিলতি ছিল, প্রশ্নপত্র তৈরি ও ছাপায় কারা কারা সম্পৃক্ত ছিল—এসব বিষয়ে তদন্ত করা হবে। প্রশ্নপত্র ফাঁসে কারা উপকারভোগী, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে।

তদন্ত কমিটির একই সদস্য আরও বলেন, এই নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরি, ছাপা ও বিতরণের বিষয়গুলো তদন্তের আওতায় আসবে। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কার্যালয় ঘিরে তদন্ত বেশি গুরুত্ব পাবে।

তদন্ত কমিটির প্রধান মাহফুজুল আলম খান প্রথম আলোকে বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে বিভিন্ন তথ্য–উপাত্ত সংগ্রহ করে যাচাই–বাছাই করা হয়েছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন আমলে নেওয়া হচ্ছে। আজ কমিটির সদস্যরা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরে যাবেন। সেখান থেকে আরও তথ্য–উপাত্ত সংগ্রহ করবেন তাঁরা। তিন কর্মদিবসের মধ্যেই প্রতিবেদন জমার ব্যাপারে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

আরও পড়ুন