ভাবগম্ভীর পরিবেশে চট্টগ্রামে পবিত্র ঈদুল আজহা উদ্‌যাপন

চট্টগ্রাম নগরের জমিয়াতুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ ময়দানে অনুষ্ঠিত হয় ঈদের প্রধান জামাতছবি: প্রথম আলো

ভাবগম্ভীর পরিবেশে সারা দেশের মতো চট্টগ্রামেও উদ্‌যাপিত হচ্ছে মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৭টায় ঈদের নামাজ আদায়ের মধ্য দিয়ে শুরু হয় উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। নগরের জমিয়াতুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ ময়দানে অনুষ্ঠিত হয় ঈদের প্রধান জামাত।

প্রধান জামাতে ইমামতি করেন জমিয়াতুল ফালাহ জাতীয় মসজিদের খতিব সৈয়দ আবু তালেব মোহাম্মদ আলাউদ্দিন আল কাদেরী। পরে সকাল ৮টায় একই স্থানে দ্বিতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন মসজিদের জ্যেষ্ঠ পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ আহমদুল হক।

নামাজ শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি এবং মানুষের সুস্থতা কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

ঈদের জামাতে অংশ নেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন, সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান ও সাঈদ আল নোমান, বিএনপি নেতা মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন, জাতীয় পার্টির নেতা সোলাইমান আলম শেঠসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

নামাজ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। তিনি বলেন, পবিত্র ঈদুল আজহার মূল শিক্ষা হলো ত্যাগ, আত্মশুদ্ধি ও মানবিক মূল্যবোধ চর্চা। কোরবানি শুধু পশু জবাই বা মাংস ভোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর প্রকৃত তাৎপর্য হলো লোভ-লালসা ত্যাগ করে নিজেকে একজন ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা এবং একটি মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ঈদুল আজহার চেতনাকে শুধু আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। ত্যাগের শিক্ষা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রজীবনে প্রতিফলিত করতে হবে। দেশ ও মানুষের কল্যাণে সবাইকে কাজ করতে হবে।

চট্টগ্রামবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণে সিটি করপোরেশন ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। বেলা ২টা থেকে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম শুরু হবে। আগামী ছয় ঘণ্টার মধ্যে নগর পরিষ্কার করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

শাহাদাত হোসেন জানান, এ কাজে ৩ হাজার ২০০ পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও ৩০০টি গাড়ি নিয়োজিত থাকবে। পাশাপাশি ৪১টি ওয়ার্ডের জন্য পৃথক ৪১টি বিশেষ গাড়িও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে পরিবেশবান্ধব ইকো-ফ্রেন্ডলি প্যাকেট সরবরাহ করা হয়েছে, যা সহজেই মাটির সঙ্গে মিশে যায়।

নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করে মেয়র বলেন, কোরবানির বর্জ্য যত্রতত্র না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে রাখতে হবে অথবা সিটি করপোরেশনের দেওয়া বিশেষ প্যাকেটে ভরে রাখতে হবে।

এদিকে সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে নগরের আরও ৯টি মসজিদে সকাল ৮টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে লালদীঘি শাহি জামে মসজিদ, শেখ ফরিদ (রহ.) চশমা ঈদগাহ মসজিদ, সুগন্ধা আবাসিক এলাকা জামে মসজিদ, চকবাজার সিটি করপোরেশন জামে মসজিদ, জহুর হকার্স মার্কেট জামে মসজিদ, দক্ষিণ খুলশী ভিআইপি আবাসিক এলাকা জামে মসজিদ, আরেফীন নগর কেন্দ্রীয় কবরস্থান জামে মসজিদ, সাগরিকা গরুর বাজার জামে মসজিদ এবং মা আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) চসিক জামে মসজিদ।