শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে এ ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। যৌন নিপীড়নের বিচারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময় শিক্ষক সমিতির এমন কর্মকাণ্ডকে অবিবেচকের কাজ বলে মন্তব্য করেছেন আইন অনুষদের অধ্যাপক ও শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি জাকির হোসেন। তিনি বলেন, এক ছাত্রীর সঙ্গে অকল্পনীয় একটা ঘটনা ঘটে গেছে। এ ঘটনার পরপরই শিক্ষক সমিতির প্রতিবাদ জানানো উচিত ছিল। বিবৃতি দেওয়া দরকার ছিল। ওই ছাত্রীর পাশে দাঁড়ানো উচিত ছিল। এমনকি ঘটনার একদিন পর সব শিক্ষককে নিয়ে মানববন্ধনের আয়োজন করা উচিত ছিল। কিন্তু দুঃখজনকভাবে কোনো কিছুই সমিতি করেনি।

এ ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্র ফেডারেশন, ছাত্র ফ্রন্ট, গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলসহ আরও নানা সংগঠন। কিন্তু চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি এখনো নীরব। তাঁরা আজ বিকেল সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত কোনো বিবৃতি দেয়নি।

জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সজীব কুমার ঘোষ প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কর্মকাণ্ডই চলমান। এখানে প্রতিবাদও হবে, আমাদের এগিয়েও যেতে হবে। অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা দুই মাস আগে করা হয়েছে। শিক্ষকেরা তাঁদের মতো করে প্রস্তুতি নিয়েছেন। এ কারণে হঠাৎ করে অনুষ্ঠান বন্ধ করা যায়নি।’

বিবৃতি দেওয়ার বিষয়ে সজীব কুমার ঘোষ বলেন, ‘বিবৃতি দেওয়ার জন্য সমিতির নির্বাহি কমিটির সভা আহ্বান করা হয়েছে। বিবৃতি দেওয়া হবে।’

গত রোববার রাত সাড়ে নয়টায় ক্যাম্পাসে পাঁচ তরুণের হাতে এক ছাত্রী যৌন নিপীড়ন ও মারধরের শিকার হন। নিপীড়নের শিকার ছাত্রীর ভাষ্যমতে, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের পোশাক ও কথাবার্তা শুনে মনে হয়েছে, তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয়ের বোটানিক্যাল গার্ডেন এলাকায় পাঁচ তরুণ ওই ছাত্রীকে বেঁধে বিবস্ত্র করে মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা এক বন্ধু প্রতিবাদ করলে তাঁকেও মারধর করা হয়। পরে মুঠোফোন ও মানিব্যাগ রেখে দুজনকে ছেড়ে দেন ওই তরুণেরা।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন