বিজিবি মহাপরিচালক আরও বলেন, ‘সীমান্তে একটা হত্যা মানে শুধু একটা মানুষের মৃত্যু নয়, এতে নিহতের পুরো পরিবার ভোগে। এলাকার মানুষের মাঝে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। আমাদের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে যে পেশাদার সম্পর্ক, সেটাও প্রশ্নবিদ্ধ হয়। এসব আমরা বিএসএফকে বুঝিয়েছি। তারাও বুঝেছে, আমরা সব সমস্যা একীভূত করে কীভাবে কমানো নয়, শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে পারি। আমাদের যে স্পিরিট, সেটা কাজে লাগিয়ে আমরা আশাবাদী এটা সম্ভব।’

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত দিয়ে দালালদের মাধ্যমে রোহিঙ্গা নাগরিকেরা প্রবেশ করছেন বলে জানিয়েছেন বিজিবি মহাপরিচালক। তিনি বলেন, এভাবে ৫১ পরিবারের ২১২ রোহিঙ্গা সদস্য বাংলাদেশে ঢুকেছেন বলে বিজিবি নিশ্চিত হয়েছে।

বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, দালাল চক্রের কার্যক্রমকে কীভাবে প্রতিহত করা যায়, সেটা নিয়ে সীমান্ত সম্মেলনে বিস্তারিত কথা হয়েছে। এ ব্যাপারে সীমান্তে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বিএসএফকে বলা হয়েছে বলে জানান তিনি। বিএসএফ এ নিয়ে আশ্বস্ত করেছে বলেও তিনি জানান। সীমান্ত ছাড়াও হয়তো দুর্গম পথে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে বলেও জানান তিনি।

বিজিবি প্রধান আরও বলেন, ‘আমরা উভয় সীমান্ত বাহিনী চেষ্টা করছি গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান করতে। আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক সম্পর্ক জোরদার করতে উদ্যোগী হওয়ার ব্যাপারে আলোচনা করেছি।’

১৭ জুলাই থেকে ঢাকায় পিলখানার বিজিবি সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের সীমান্ত সম্মেলন। আজ যৌথ আলোচনার দলিল স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের ৫ দিনব্যাপী ৫২তম সীমান্ত সম্মেলন শেষ হয়।

বিএসএফ মহাপরিচালক পঙ্কজ কুমার সিংয়ের নেতৃত্বে ভারতের স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিসহ ৯ সদস্যের ভারতীয় প্রতিনিধিদল সম্মেলনে অংশ নেয়।
বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল সাকিল আহমেদের নেতৃত্বে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, যৌথ নদী কমিশন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, সার্ভেয়ার জেনারেল অব বাংলাদেশ এবং ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিসহ ২০ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল সম্মেলনে অংশ নেয়।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন