বৈঠকে বন্দরের নিরাপত্তা, স্থলবন্দরের অবস্থা, ইমিগ্রেশন, শুল্ক, সড়কপথের পরিস্থিতি, কাস্টমসে বাংলাদেশের প্রস্তুতি কতটুকু– সেসব পর্যালোচনা করা হবে। নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র প্রথম আলোকে জানিয়েছে, ভারত সরকার জুলাইয়ের মধ্যেই চারটি ট্রায়াল রান শেষ করতে চেয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশ এখনো পুরোপুরি প্রস্তুত নয়, সেটা জানার পর ট্রায়াল রানের সময় এক মাস পেছানো হয়।

আগস্টের মধ্যেও পরীক্ষামূলক চারটি ট্রায়াল রান করার মতো প্রস্তুতি বাংলাদেশ সরকারের নেই বলে জানিয়েছেন নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা। নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহার করে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে পণ্য সরবরাহ করতে দুই দেশের মধ্যে ২০১৮ সালের অক্টোবরে চুক্তি হয়েছিল। বাংলাদেশের নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও ভারতের নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় এ চুক্তিতে সই করে। পরিবহনসংক্রান্ত চুক্তিটির নাম ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন দ্য ইউজ অব চট্টগ্রাম অ্যান্ড মোংলা পোর্ট ফর মুভমেন্ট অব গুডস ফ্রম ইন্ডিয়া (এসিএমপি)’। দুই দেশই বিশ্বাস করে, এ চুক্তির মাধ্যমে উভয় দেশ অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে। দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়বে।

কিন্তু করোনা মহামারিসহ নানা জটিলতায় গত চার বছরে এ চুক্তির উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। এখন ভারত সরকার চাইছে, আগস্টে ট্রায়াল রান শেষ করতে। যদি কোনো ত্রুটি ধরা পড়ে তা এ বছরের মধ্যে শেষ করতে হবে। এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে বন্দর ব্যবহার শুরু হবে।

এর আগে প্রথমবারের মতো ট্রায়াল রান করা হয়েছিল ২০২০ সালের জুলাইয়ে। তখন কলকাতা বন্দর থেকে পণ্যবাহী ছোট জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়। সেখান থেকে স্থলপথে পণ্য আগরতলা নেওয়া হয়েছিল। জাহাজে পণ্য ছিল ডাল ও রড।

নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, চারটি ট্রায়াল রান কোন কোন রুটে হবে তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে একাধিক রুট নিয়ে আলোচনা চলছে। এর মধ্যে একটি হলো ভারতের কলকাতা বন্দর বা শ্যামা প্রসাদ মুখার্জি বন্দর থেকে পণ্যবাহী জাহাজ যাত্রা শুরু করবে। সেটি বাংলাদেশের মোংলা বন্দরে আসবে। সেখান থেকে সড়ক পথে সিলেটের তামাবিল স্থলবন্দর পার হয়ে ডাউকি হয়ে মেঘালয় রাজ্যে যাবে। আরেকটি রুট হতে পারে চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ ভিড়ে সেখান থেকে স্থলপথে ফেনীর বিলোনিয়া অথবা খাগড়াছড়ির রামগড় স্থলবন্দর ব্যবহার করে পণ্য ভারতে পৌঁছাবে।

জানা গেছে, দুটি সমুদ্র বন্দর ব্যবহার করতে দিতে পুরোপুরি প্রস্তুত নয় সরকারের বেশ কয়েকটি দপ্তর। এনবিআরের কাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি। ভারতীয় পণ্য যাতায়াতে সড়ক পথ ও স্থলবন্দর পুরোপুরি তৈরি হয়নি। এসব বিষয় নিয়ে মঙ্গলবারের সভায় আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় বলছে, মোংলা ও চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহারে দুই দেশের সম্ভাবনা ভালো। এই সম্ভাবনা কাজে লাগাতেই নদীকেন্দ্রিক বাণিজ্য বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরের সক্ষমতা আরও বাড়াতে হবে। কারণ, ভারত যখন দুটি বন্দর ব্যবহার শুরু করবে, তখন চাপ বাড়বে। তাই আগেই সক্ষমতা বাড়াতে হবে।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন