দেশ যেন ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থায় আর না ফেরে, সে জন্যই গণভোট: আলী রীয়াজ
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (উপদেষ্টা পদমর্যাদা) অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, বাংলাদেশ যাতে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থায় আর ফিরে না যায়, সে জন্যই এবারের গণভোট। আজ বুধবার গণভোট নিয়ে দিকনির্দেশনা দিতে কৃষি বিভাগের ১৭ হাজার কর্মকর্তা ও মাঠকর্মীর জন্য আয়োজিত এক ভার্চ্যুয়াল সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, গণভোটের এই সুযোগ আগামী ৫ বছর বা ১০ বছরে আর আসবে না। ভবিষ্যতের বাংলাদেশ কীভাবে চলবে, তা ঠিক করে দেওয়ার এই সুযোগকে কাজে লাগাতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
গণভোট-সংক্রান্ত জনসচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রমের মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, ‘২০২৪ সালের গণ–অভ্যুত্থান ও গত ১৬ বছরের সংগ্রামে হাজারও মানুষ প্রাণ দিয়েছেন। তাঁরা প্রাণ দিয়ে এই দায়িত্ব দিয়ে গেছেন এমন ব্যবস্থা করার, যেন আগের সেই অবস্থায় ফিরে না যাই।’
কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টার এই বিশেষ সহকারী বলেন, ‘গণভোটকে আপনারা মানুষের কাছে সহজ ভাষায় উপস্থাপন করুন।’ মানুষের কাছে যেন বিষয়টি সহজবোধ্য হয়, সে জন্য গণভোটকে “হ্যাঁ”-“না” ভোট হিসেবে উপস্থাপনের পরামর্শ দেন তিনি। পাশাপাশি গণভোটের ফলে কী কী পরিবর্তন আসবে, তা সময় নিয়ে মানুষকে বুঝিয়ে বলার জন্য কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার। তিনি বলেন, ‘আমরা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ, সুন্দর ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ দেখতে চাই।’
গত ৫৪ বছরেও এই অতি সাধারণ আকাঙ্ক্ষা পূরণে খুব বেশি অগ্রগতি হয়নি উল্লেখ করে মনির হায়দার বলেন, ‘বিগত ১৬ বছরের শাসন ও জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আমরা সবাই উপলব্ধি করেছি যে এই শাসন ও সাংবিধানিক ব্যবস্থার একটি বড় ধরনের সংস্কার প্রয়োজন।’ এ সময় তিনি গণভোট বিষয়ে জনমত সৃষ্টির জন্য প্রস্তুতকৃত লিফলেটের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলো কর্মকর্তাদের সামনে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ান। তিনি বলেন, গণভোট বিষয়ে জনগণকে সচেতন করে তুলতে মন্ত্রণালয় ও দপ্তর-সংস্থাগুলো ব্যানার ও লিফলেট বিতরণ এবং প্রকল্প এলাকায় সচেতনতা সৃষ্টিতে সভা-সমাবেশ আয়োজনের পাশাপাশি কৃষি বিভাগের ২৪/৭ হটলাইন সার্ভিস গণভোট বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করবে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা এবং আওতাধীন সব দপ্তর-সংস্থার কর্মকর্তা ও মাঠকর্মীরা এ সভায় অংশ নেন।