চসিকের উন্নয়ন প্রকল্প পরিচালককে মারধর, ১০ ঠিকাদারের ১২ প্রতিষ্ঠান কালো তালিকায়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের আড়াই হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালককে মারধরের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ১০ ঠিকাদারের ১২টি প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রতিষ্ঠানগুলোকে তালিকাভুক্ত করে সিটি করপোরেশন।
কালো তালিকাভুক্ত করা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো হলো মুহাম্মদ সাহাব উদ্দিনের মেসার্স মাহমুদা বিল্ডার্স ও মেসার্স এস জে ট্রেডার্স, সঞ্জয় ভৌমিকের মেসার্স বাংলাদেশ ট্রেডার্স, মোহাম্মদ ফেরদৌসের মেসার্স মাসুদ এন্টারপ্রাইজ, সুভাষ মজুমদারের মেসার্স জয় ট্রেডার্স, মো. হাবিব উল্লা খানের মেসার্স খান করপোরেশন, মো. নাজিম উদ্দিনের মেসার্স নাজিম অ্যান্ড ব্রাদার্স, মো. নাজমুল হোসেনের মেসার্স রাকিব এন্টারপ্রাইজ, মো. ইউসুফের মেসার্স ইফতেখার অ্যান্ড ব্রাদার্স, আশীষ কুমার দের মেসার্স জ্যোতি এন্টারপ্রাইজ ও মেসার্স দীপা এন্টারপ্রাইজ এবং আলমগীরের মেসার্স তানজিল এন্টারপ্রাইজ।
সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মুহম্মদ তৌহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে বলা হয়েছে, সিটি করপোরেশনের উন্নয়ন প্রকল্প পরিচালক মো. গোলাম ইয়াজদানীর ওপর হামলার ঘটনায় এসব ঠিকাদার জড়িত আছেন বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। হামলাকারীরা চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ঠিকাদারি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। সরকারি প্রতিষ্ঠানে সংঘটিত এ ধরনের ন্যক্কারজনক কর্মকাণ্ডের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে কালো তালিকাভুক্ত করা হলো।
কালো তালিকাভুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, কালো তালিকাভুক্তির আদেশের কপি সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট টেকনিক্যাল ইউনিটে (সিপিটিইউ) পাঠানো হবে। কালো তালিকাভুক্তি হওয়ার কারণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো এখন থেকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনসহ দেশের অন্য কোনো সংস্থায় উন্নয়নকাজ করতে পারবে না।
আড়াই হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ‘চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের আওতায় বিমানবন্দর সড়কসহ বিভিন্ন সড়ক উন্নয়ন ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্প গত বছরের ৪ জানুয়ারি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে প্রকল্প পরিচালক হিসেবে গত বছরের ১৪ আগস্ট স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী গোলাম ইয়াজদানীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ না পেয়ে গত ২৯ জানুয়ারি বিকেলে একদল ঠিকাদার প্রকল্প পরিচালকের কক্ষে ঢুকে তাঁকে মারধর করেন। এ সময় তাঁর টেবিলের কাচ ও নামফলক ভেঙে ফেলা হয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মুহাম্মদ সাহাব উদ্দিনসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।