ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮২৫ শিক্ষকের নামে বিবৃতি: বাংলাদেশের নির্বাচনে একটি আন্তর্জাতিক মহল ‘অযাচিত হস্তক্ষেপ’ করছে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
ফাইল ছবি

বাংলাদেশের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেন্দ্র করে ‘একটি আন্তর্জাতিক মহল’ অযাচিত হস্তক্ষেপ করছে বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮২৫ জন শিক্ষক।

এক বিবৃতিতে এই শিক্ষকেরা সহিংসতা সৃষ্টিকারী রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপের কথা বলে সময়ক্ষেপণ করার মাধ্যমে সাংবিধানিক শূন্যতা সৃষ্টির অপতৎপরতায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

আজ বুধবার সংবাদমাধ্যমে এই বিবৃতি পাঠানো হয়। এতে সই করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামী লীগপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন নীল দলের আহ্বায়ক ও ফার্মাসি অনুষদের ডিন সীতেশ চন্দ্র বাছার।

বিবৃতি দেওয়া শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি নিজামুল হক ভূঁইয়া ও সাধারণ সম্পাদক জিনাত হুদা, সিন্ডিকেট ও সিনেট সদস্য, ডিন, প্রাধ্যক্ষসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকেরা৷

বিবৃতিতে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন ও সরকারের প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানানো হয়। এতে বলা হয়, নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার প্রাক্কালে একটি দেশের রাষ্ট্রদূত সব ধরনের শিষ্টাচার লঙ্ঘন করে সেই দেশের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পক্ষ থেকে বাংলাদেশের তিনটি রাজনৈতিক দলকে নিঃশর্ত সংলাপে বসার আহ্বান জানিয়ে চিঠি বিতরণ করেছেন।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের প্রধান তিন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টিকে এ সপ্তাহে চিঠি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লু। ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার ডি হাস এ চিঠি দলগুলোকে পৌঁছে দেন। চিঠিতে শর্তহীন সংলাপের আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ইতিপূর্বে সরকারকে পদত্যাগের এক দফা শর্ত জুড়ে দিয়ে বিএনপি শর্তহীন সংলাপের দাবিকে নাকচ করেছে। রাষ্ট্রদূতের পাঠানো চিঠিতে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্তকারীদের ওপর ভিসা নীতি প্রয়োগের পুরোনো হুমকি দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নীতি মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষ শক্তিকে রসদ জুগিয়ে চলেছে।

বিএনপির সরকার পতনের এক দফার আন্দোলনে জনসমর্থন না পেলেও ওই দেশের রাষ্ট্রদূতের পক্ষপাতমূলক আচরণে উৎসাহিত হয়ে তারা আন্দোলনের নামে সহিংসতা চালিয়ে যাওয়ার প্রয়াস পাচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয় বিবৃতিতে।

৮২৫ শিক্ষকের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, হরতাল-অবরোধ কর্মসূচির নামে ‘ত্রাস’ চললেও মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের কথা বলা রাষ্ট্রটি এ বিষয়ে কোনো কথা বলেনি, নির্বাচনী প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্তকারীদের ওপর ভিসা নীতিও প্রয়োগ করেনি।

'অসত্য তথ্যের’ ওপর ভিত্তি করে গত ৩১ অক্টোবর দেওয়া জাতিসংঘ মানবাধিকার হাইকমিশনের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানানো হয় বিবৃতিতে। ওই বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি করা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, এ ধরনের পদক্ষেপ মানুষ হত্যা, ভাঙচুর ও সহিংসতার মাধ্যমে নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করতে যারা তৎপর; তাদের উৎসাহিত করবে।