আলোকচিত্রী নাইমুজ্জামানের তোলা এই আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ) ও বাংলাদেশে অস্ট্রেলিয়া হাইকমিশন। আজ শনিবার দুপুরে যৌথভাবে প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন ইউএনএফপিএ বাংলাদেশ প্রতিনিধি ক্রিস্টিন ব্লখাস ও অস্ট্রেলিয়ান ডেপুটি হাইকমিশনার নার্ডিয়া সিম্পসন।
জাদুঘরের সামনের প্রাঙ্গণে এবং প্রদর্শনকক্ষের দেয়ালজুড়ে মোট ৮৮টি আলোকচিত্র রয়েছে। প্রদর্শনী চলবে ১৬ নভেম্বর পর্যন্ত। খোলা থাকবে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সবার জন্য।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে ইউএনএফপিএ প্রতিনিধি ক্রিস্টিন ব্লখাস বলেন, ‘বিশ্বে জলবায়ুর সংকট তীব্র হয়ে উঠেছে। এতে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগর অঞ্চলের দেশগুলোতে পরিবেশগত ঝুঁকিও বহুগুণ বেড়েছে। বাংলাদেশ এই ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর অন্যতম। আমরা দেখেছি, প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় কিশোরী ও নারীরা অন্যদের তুলনায় বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। ধারেকাছে হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা থাকে না। শৌচাগারের ব্যবস্থা থাকে না। বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের সংকট থাকে। এমনকি তাঁদের যৌন নির্যাতন ও সহিংসতারও শিকার হতে দেখা যায়। ইউএনএফপিএ বিশ্বব্যাপী সরকারগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে দুর্যোগ ও দুর্যোগ-পরবর্তী পুনর্বাসন নিয়ে তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রাকৃতিক দুর্যোগে কিশোরী ও নারীদের অধিকার, নিরাপত্তা এবং যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষটিতে গুরুত্ব দেওয়ার জন্য এই প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে।’

অস্ট্রেলিয়া দূতাবাসের ডেপুটি হাইকমিশনার নার্ডিয়া সিম্পসন বলেন, এই প্রদর্শনী শুধু একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনই নয়, বরং এটি একটি আহ্বান। তিনি বলেন, এতে বাংলাদেশের বিভিন্ন দুর্যোগে বিপন্ন জনগোষ্ঠীর বেঁচে থাকার লড়াইয়ের মুহূর্তগুলো তুলে ধরা হয়েছে। ফলে এই ছবিগুলো থেকে দুর্যোগ মোকাবিলা এবং কিশোরী ও নারীদের অধিকার সুরক্ষায় করণীয় সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টি হবে। ইউএনএফপিএর সঙ্গে বাংলাদেশের জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় অস্ট্রেলিয়া হাইকমিশন কাজ করে যাচ্ছে।

জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী (রেসিডেন্ট কো-অর্ডিনেটর) গুইন লেরিস বলেন, দুর্যোগের সময় যেন ক্ষতিগ্রস্ত সবার, বিশেষ করে কিশোরী ও নারীদের অধিকার সুরক্ষিত থাকে, সেই লক্ষ্যে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা ও স্থানীয় বাস্তবায়নকারীরা কাজ করে যাচ্ছে।  

আলোকচিত্রী নাইমুজ্জামান তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, তিনি ২০০৫ সাল থেকে সারা দেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব, পরিবেশ বিপর্যয়, জনজীবনের বিপন্নতা এসব নিয়ে কাজ করছেন। এর মধ্যে ইউএনএফপিএর সঙ্গে কাজ করছেন ১২ বছর ধরে। প্রদর্শনীতে সিডর, আইলা, আম্ফানসহ বিভিন্ন উপকূলীয় ঘূর্ণিঝড়, সিলেটের হাওর এলাকার পাহাড়ি ঢল, উত্তর জনপদের কুড়িগ্রাম, রংপুর বগুড়া অঞ্চলের বন্যা, নদীর ভাঙনসহ বিভিন্ন সময়ের প্রাকৃতিক দুর্যোগকালে জনজীবনের বিপর্যয় তিনি তুলে ধরেছেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর ছিল পরিবেশবিশেষজ্ঞ আহসান উদ্দিন আহমেদের সঞ্চালনায় মুক্ত আলোচনা পর্ব। পুরো আয়োজনের সঞ্চালনা করেন রোকসানা আমিন।

বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির প্রভাবে দক্ষিণ এশিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে আফগানিস্তানের পরেই বাংলাদেশে নারী ও কিশোরীদের সংকট সবচেয়ে বেশি। প্রদর্শনীর ছবিগুলোতে সাতটি আলাদা ভাগে ভাগ করে এসব সংকট উপস্থাপন করা হয়েছে। এতে উঠে এসেছে প্রসবকালে যথাযথ সেবা না পাওয়া, প্রশিক্ষিত ধাত্রী না থাকা, চিকিৎসা ও ওষুধের অপ্রতুলতা, শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়া। উদ্বাস্তু হয়ে শহরাঞ্চলে এসে অনিশ্চিত জীবন। যৌন নির্যাতন, হয়রানির শিকার হওয়া। এসব বিপন্নতা কাটিয়ে উঠতে অব্যাহত প্রচেষ্টার দিকটিও এসেছে প্রদর্শনীতে।