বাংলাদেশে বসবাসকারী অবাঙালি দলিত ব্যক্তিদের সাধারণভাবে হরিজন বলা হয়। ব্রিটিশ আমলে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা (১৮৩৮-১৮৫০), চা-বাগানের কাজ (১৮৫৩-৫৪), জঙ্গল কাটা, পয়োনিষ্কাশন প্রভৃতি কাজের জন্য ভারতের নানা অঞ্চল থেকে দরিদ্র দলিত ব্যক্তিদের এ অঞ্চলে আনা হয়।

এতে প্রধান অতিথি ছিলেন কবি ও সাংবাদিক ওমর কায়সার। বিশেষ অতিথি ছিলেন বান্ডেল হরিজন সমাজ যুবকল্যাণ সংঘের সভাপতি জগন্নাথ দাশ, সাধারণ সম্পাদক সারমান দাস, বান্ডেল হরিজন সমাজ পঞ্চায়েত কমিটির সহকারী প্রধান বাদল সরদার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বন্ধুসভা চট্টগ্রাম কমিটির সভাপতি শিহাব জিশান। এ ছাড়া সঞ্চালনায় ছিলেন সাধারণ সম্পাদক শাওন রায়। জাদু পরিবেশন করেন ফয়সাল হাওলাদার, সংগীত পরিবেশন করেন স্বস্তিকা দাশ।

অনুষ্ঠানে ওমর কায়সার বলেন, ‘হরিজন সম্প্রদায়কে এখনো অনেকে অচ্ছুত মনে করেন। কিন্তু তাঁরা-আমরা মিলেই এ বাংলাদেশ। এ নগরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে তাঁরা কাজ করে যাচ্ছেন। বন্ধুসভার পক্ষ থেকে তাঁদের সম্মান দেওয়া হলো, এটি নিঃসন্দেহে আনন্দের।’

ওমর কায়সার শিশুদের উদ্দেশে বলেন, ‘তোমরা এই চারদেয়ালের মাঝে বন্দী থাকবে না। তোমরা পড়াশোনা করবে। বড় হবে। গান শিখবে। ছবি আঁকার মাধ্যমে হারিয়ে যাবে কল্পনার জগতে।’

বান্ডেল হরিজন সমাজ যুবকল্যাণ সংঘের সভাপতি জগন্নাথ দাশ প্রথম আলো বন্ধুসভাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘আমাদের কাছে অনেকেই আসতে চান না​। কিন্তু প্রথম আলো আমাদের কাছে এসেছে। ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছে। শিশুদের ছবি আঁকার উপকরণ উপহার দিয়েছে। তাঁদের এই উদ্যোগে আমরা আনন্দিত।’

হরিজন সম্প্রদায়ের সদস্য কামিনী দাস নামের এক নারী বলেন, ‘করোনাকালেও আমরা ঘরে বসে ছিলাম না। নগর পরিচ্ছন্নতার কাজ করেছি। প্রথম আলো আমাদের কাছে এসেছে। এ কারণে আমরা সম্মানিত বোধ করছি।’